এই বছরের জুলাই-আগস্টে ৩ টেস্টের সিরিজ খেলতে শ্রীলঙ্কায় যাওয়ার কথা বাংলাদেশ দলের। করোনাভাইরাসের কারণে এখন অবশ্য অনিশ্চিত সব। কিন্তু শেষ পর্যন্ত যদি সবকিছু ঠিক হয়ে যায় এবং বাংলাদেশ দল নির্ধারিত সময়ে শ্রীলঙ্কা সফরে যায় তাহলে মুমিনুল হকের দলকে আগেরবারের চেয়ে কঠিন চ্যালেঞ্জের মুখে পড়তে হতে পারে। কারণ, কভিড-১৯ এর কারণে লকডাউনের এই সময়টাকে আরও বিশদভাবে ব্যবহার করছেন লঙ্কানদের দক্ষিণ আফ্রিকান কোচ মিকি আর্থার।
মাত্র মাস তিনেক আগে প্রধান কোচের দায়িত্ব নিয়েছেন। এই সময়ে ভালোভাবে সবকিছু বিশ্লেষণ করে দেখছেন আর্থার। দলকে নিয়ে নতুন করে সাজাচ্ছেন তার পরিকল্পনা। আর্থারের কথায়, করোনাভাইরাসের কারণে বাধ্যতামূলক এই ঘরে বসা সময়টাকে কোচিং স্টাফদের ব্যক্তিগত লক্ষ্য পুনর্মূল্যায়ন, প্রতিপক্ষ বিশ্লেষণ ও সমসাময়িক কোচিং ট্রেন্ডের চেয়ে নিজেদের এগিয়ে নেওয়ার সুযোগ এনে দিয়েছে।
‘আমাদের দায়িত্বের প্রথম তিন মাসকে খতিয়ে দেখার সময় দিয়েছে (করোনার) এই সময়। সামনের গুরুত্বপূর্ণ সিরিজগুলোর জন্য প্রত্যেকের নিজস্ব পরিকল্পনা এবং দলগত পরিকল্পনা বিশ্লেষণেরও সুযোগ এটা।’ মিকি আর্থার বলেছেন, ‘খেলোয়াড়দের মানিয়ে নেওয়া, কাজের স্পৃহা, প্রস্তুতির পর্যায় ও সব সংস্করণের জন্য নির্ধারিত লক্ষ্য বিষয়ে আমাদের সদিচ্ছা ও উন্নতি দেখে আমরা খুশি।’
শ্রীলঙ্কা ক্রিকেট বোর্ডের মিডিয়ার সঙ্গে মিকি আর্থার যা বলছিলেন তা খেয়ালে রাখতে পারে বাংলাদেশ দল। শেষবার টাইগাররা শ্রীলঙ্কা সফরে গিয়েছিল ২০১৭ সালে। সেবার স্বাগতিকদের বিপক্ষে ইতিহাসে নিজেদের প্রথম জয় তুলে নিয়েছিল বাংলাদেশ। ২ ম্যাচের সিরিজ অপ্রত্যাশিতভাবে ১-১ এ ড্র করে ফিরেছিল।
পথ হারানো শ্রীলঙ্কা দল বাংলাদেশের সাবেক কোচ চন্ডিকা হাথুরুসিংহেকে দায়িত্ব দিয়েছিল সব গুছিয়ে নিতে। বোঝাপড়াটা টেকেনি। বিশ্বকাপ ব্যর্থতার দায় চাপিয়ে হাথুরুকে বাদ দেয় তারা। পাকিস্তানে দায়িত্ব পালনকারী দক্ষিণ আফ্রিকার সাবেক কোচ আর্থারকে আনে তারা। সেই আর্থার তার এই সময়ের পরিকল্পনা নিয়ে জানালেন, ‘এই আইসোলেশন সময় কোচিং স্টাফ হিসেবে আমাদের খেলোয়াড় পরিকল্পনা, ভূমিকা ও গ্রুপ হিসেবে নিজেদের জন্য নির্ধারিত লক্ষ্যের দিকে মন দেওয়ার সুযোগ করে দিয়েছে। দুনিয়াজুড়ে যে (কোচিং) ট্রেন্ড সেদিকেও মন দিচ্ছি। আগামী বছর নাগাদ যাদের সঙ্গে খেলতে হবে সেইসব প্রতিপক্ষকে বিশ্লেষণের সময়ও মিলেছে। গ্রুপ হিসেবে আমরা বৈশ্বিক কোচিং ট্রেন্ডের অনুসারী হতে চাই না, আমরা সবার থেকে এগিয়ে গিয়ে লিডারদের মধ্যে থাকতে চাই।’
ফিটনেস মহাগুরুত্বপূর্ণ ব্যাপার। খেলোয়াড়দের সেটার ছক কষে দেওয়া হয়েছে। প্রত্যেক খেলোয়াড়ের ঘরে যেমন সুবিধা আছে সেই অনুযায়ী ফিটনেসের কাজ বেঁধে দেওয়া হয়েছে। ক্রিকেটে ফেরার মানসিক প্রস্তুতি রাখতে যতটা ফিটনেস দরকার তার ওপর গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে।
‘আমাদের ট্রেনার দিশান ফনসেকা ও পল খোউরি প্রত্যেকের ফিটনেসের ওয়ার্ক আউটের ব্যাপারে খুব প্রো-অ্যাকটিভ। প্রত্যেক খেলোয়াড়ের কাছে অনুশীলনী পাঠাচ্ছি আমি।’ আর্থার ফিটনেসের প্রসঙ্গে গিয়ে বলছিলেন, ‘খেলোয়াড়ের কাছ থেকে জেনে নিয়ে সেগুলো নিয়ে কাজ হচ্ছে। এছাড়া প্রত্যেকে তাদের খেলার শক্তি ও দুর্বলতার বিষয়গুলো আমার সঙ্গে শেয়ার করছে। এসবই আসলে মানসিক, শারীরিক ও টেকনিক্যাল কাজ। তাতে করে প্রত্যেক খেলোয়াড়ের জন্য তৈরি পরিকল্পনায় বাড়তি কিছু যোগ করার সুযোগ কোচ হিসেবে আমরা পেয়ে যাচ্ছি।’