করোনাভাইরাসের প্রাদুর্ভাবে চারদিকে কর্মহীন মানুষের সংখ্যা দিনদিন বাড়ছে। খাদ্য সংকটে পড়েছে অনেক নিম্ন আয়ের মানুষেরা। খুচরা খাবারের দোকানসহ হোটেলগুলোও বন্ধ। অন্যদিকে সংক্রমণ ঠেকাতে সাধারণ মানুষও দরকার ছাড়া ঘর থেকে বের হচ্ছেন না। এ পরিস্থিতিতে চরম খাদ্য সংকটে পড়েছে রাস্তার কুকুরগুলো।
এই সংকট মুহূর্তে দিনাজপুর শহরের অনাহারী কুকুরগুলোকে কখনো ভাত, কখনো খিচুড়ি আবার কখনো-বা বিস্কুট খাওয়াচ্ছেন আফসানা ইমু (৩৬)। নিজের স্কুটি নিয়ে শহরের এক প্রান্ত থেকে আরেক প্রান্ত ছুটে ছুটে কুকুরকে খাবার দেন তিনি। নিয়মিত খাবার পেয়ে কুকুর গুলোও ইমুকে আপন করে নিয়েছে।
সোমবার আফসানা ইমুর সঙ্গে শহরের বেশ কয়েকটি জায়গা ঘুরে চোখে পড়ে এমনই চিত্র। শহরের কালিতলা পোস্ট অফিস এলাকায় তার বাড়ি। নিজেরও কয়েকটি পোষা কুকুর আছে বাড়িতে। কুকুরের প্রতি ছোট বেলা থেকেই অন্যরকম ভালোবাসা ছিল ইমুর।
আফসানা ইমু বলেন, আমি একদিন পরপর শহরের কুকুর গুলোকে ভাত অথবা খিচুড়ি দিই। যদি ভাত কিংবা খিচুড়ি রান্না করতে না পারি তাহলে বিস্কুট জাতীয় খাবার দিই। শহরের বাইরে হাজী দানেশ বিশ্ববিদ্যালয়ের সামনে ৩০টা কুকুর আছে। আমি সেই ৩০টা কুকুরকে নিয়মিত খাবার দিই। একদিন পরপর সকালে বাড়ি থেকে নিজের স্কুটি নিয়ে বের হয়ে যেখানে যেখানে কুকুর থাকে আমি সেই সেই জায়গাগুলোতে যাই। আমি গেলেই কুকুর গুলো দৌড়ে আমার কাছে আসে। নিরীহ এই প্রাণী গুলো এখন অনেক কষ্টে আছে।
তিনি আরও বলেন, করোনাভাইরাসের কারণে আমরাও অনেক কষ্টে আছি। বিশেষ করে নিম্ন আয়ের মানুষেরা ঠিকমতো খেতে পারছে না। মানুষ হয়তো কোথাও ত্রাণ বা খাদ্য সামগ্রী পাচ্ছেন কিন্তু কুকুরগুলোর তো কেউ নেই। তারা কি খাবে এই পরিস্থিতি তাদের নেই। তারা বলতেও পারে না। তাই আমরা এই উদ্যোগ। আমি নিয়মিত কুকুর গুলোকে খাবার দিই। এতে অবশ্য অনেকেই সমালোচনা করে কিন্তু আমি সেগুলো গায়ে মাখি না। আমি আমার মতো করে কাজ করে যাই।