নভেল করোনাভাইরাসে বিপর্যস্ত ইতালি ও স্পেনে আক্রান্ত-মৃত্যুর হার কমেছে। এই চিত্র দেখা গেছে ফ্রান্সেও। দেশগুলোর স্বাস্থ্য কর্মকর্তারা সংক্রমণ ও মৃতের সংখ্যা আগের চেয়ে কমে আসাকে লকডাউনের সাফল্য হিসেবে দেখছেন।
গতকাল সোমবার পর্যন্ত প্রকাশিত তথ্য বলছে, স্পেনে মৃতের সংখ্যা পৌঁছেছে ১৩ হাজার ৫৫ জনে। আর আক্রান্তের সংখ্যা ১ লাখ ৩৫ জন ছাড়িয়েছে, যা ইউরোপে একক দেশ হিসেবে সর্বোচ্চ। এর মধ্যে গতকাল মারা গেছে ৪১৪ জন। আর আক্রান্ত হয়েছে ৩ হাজার ৩৮৬ জন। দেশটিতে চলতি মাসের প্রথম দিন আক্রান্তের সংখ্যা ৮ হাজারের বেশি হলেও এর পর থেকে ধারাবাহিকভাবে কমেছে। মৃত্যুর সংখ্যা ২ এপ্রিল এক দিনে সর্বোচ্চ ৯০০ ছাড়ালেও গতকাল তা ৫০০ জনের নিচে নেমেছে। শুধু তাই নয়, মার্কিন সংবাদমাধ্যম সিএনএন বলছে, দেশটিতে গত ২০ মার্চের পর আক্রান্তের হার বৃদ্ধি এটাই সর্বনিম্ন। সেই সঙ্গে দেশটিতে ৪০ হাজারের বেশি রোগীর সুস্থ হওয়ার খবরও মিলেছে। স্পেনের জরুরি স্বাস্থ্য কমিটির উপ-প্রধান মারিয়া হোসে সিয়েরা বলেছেন, মহামারীর আক্রান্তের সংখ্যা প্রায় সব এলাকাতেই মন্থর হচ্ছে। তবে আমাদের এখনো অনেক পথ পাড়ি দিতে হবে। তিনি বলেন, ভাইরাসটি প্রতিরোধে নেওয়া পদক্ষেপ ও আক্রান্ত-মৃত্যুর হার বিশ্লেষণ করে আমাদের এটাই মনে হচ্ছে যে, এটা লকডাউনের সুফল।
একই কথা বলেছেন ইতালির জনস্বাস্থ্য বিভাগের প্রধান সিলভিও ব্রুসাফেরো। তিনি বিবিসিকে বলেন, লকডাউনের যে সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছিল তাই এতে সহায়তা করেছে। তিনি বিশেষ গুরুত্ব দিয়ে বলেছেন, করোনাভাইরাসজনিত রোগ কভিড-১৯-এর লাগাম এখনো আমরা টানতে পারিনি। তবে লকডাউনের ঘটনাটি বিশেষ গুরুত্ববহ আমাদের লড়াইয়ে। দেশটিতে গত রবিবার ৫২৫ জন কভিড-১৯ রোগীর মৃত্যু ঘটেছে। এক দিনে মৃত্যুর এই সংখ্যা দেশটিতে গত দুই সপ্তাহে সর্বনি¤œ। মৃতের সংখ্যায় শীর্ষে থাকা ইউরোপের দেশটিতে মোট ১৫ হাজার ৮৮৭ জনের মৃত্যু ঘটেছে। আক্রান্তের সংখ্যা বেড়ে দাঁড়িয়েছে ১ লাখ ২৮ হাজার ৯০০ জনে। গত ২৭ মার্চ দেশটিতে এক দিনে সর্বোচ্চ ৯১৯ জনের মৃত্যু হলেও এরপর আর এত মৃত্যু দেখেনি দেশটি। আক্রান্তের সংখ্যাও গত ২১ মার্চ দেশটিতে সর্বোচ্চ ৬ হাজারের বেশি হলেও এর পর থেকে রোগীর সংখ্যা এত বেশি হয়নি আর সেখানে। তবে স্পেনের তুলনায় এই দেশে আরোগ্য লাভের হার তুলনামূলকভাবে কম। রবিবার পর্যন্ত দেশটিতে সুস্থ হয়ে বাড়ি ফিরতে পেরেছে ২১ হাজার আক্রান্ত ব্যক্তি।
ইউরোপের আরেক দেশ ফ্রান্সেও মাঝে দুই দিন চরম আতঙ্ক ছড়িয়ে দম ধরেছে করোনা। গত ২ এপ্রিল দেশটিতে এক দিনে সর্বোচ্চ ১ হাজার ৩৫৫ জনের মৃত্যু হলেও এর পর থেকে কমছে ধারাবাহিকভাবে। গত রবিবার সেই সংখ্যা নেমেছে ৫১৮ জনে। এ ছাড়া গত ৩ এপ্রিল এক দিনে সর্বোচ্চ ২৭ হাজার আক্রান্ত হলেও বরিবার সেই সংখ্যা নেমেছে মাত্র ২ হাজারে। বিবিসি বলছে, ফ্রান্সের এই হার কমার পেছনেও আছে লকডাউন। এখন পর্যন্ত পৃথিবীর যেসব দেশে লকডাউন হয়েছে সবচেয়ে বেশি কড়াকড়ি হয়েছে ফ্রান্সে।
এদিকে ভাইরাসটির উৎসস্থল চীনও শুরুতে করোনাভাইরাস সংক্রমণকে গুরুত্বের সঙ্গে নেয়নি। তবে অবস্থার গুরুত্ব বুঝতে পেরে জানুয়ারির শেষ দিকে পুরো হুবেই প্রদেশ লকডাউন করে দেয়। যার ফলে ভাইরাস ছড়িয়ে পড়া দ্রুত কমতে শুরু করে।