করোনাভাইরাস? সেটা আবার কী! ঠিক এমনটাই মনে হতে পারে তুর্কমিনিস্তানের জনগণের কর্মকাণ্ড দেখে। প্রাণঘাতী এই ভাইরাসে মোটেই গা নেই তাদের। করোনার কারণে বিশ্বজুড়ে থমথমে পরিস্থিতির মধ্যেই ব্যাপক জনসমাগম করে বিশ্ব স্বাস্থ্য দিবস পালন করেছে দেশটি!
৭ মার্চ মঙ্গলবার ছিল বিশ্ব স্বাস্থ্য দিবস। এই নিয়ে বিশ্বজুড়ে কোনো তেমন কোনো আয়োজনের খবর না পাওয়া গেলেও তুর্কমিনিস্তান ঘটা করেই দিনটি পালন করেছে বলে জানিয়েছে বার্তা সংস্থা এএফপি। দিবসটি উপলক্ষে হাজার হাজার মানুষের অংশ গ্রহণে ‘গণ ব্যায়াম চর্চা’র নানা ইভেন্ট আয়োজন করে তারা, যেখানে ছিল না সামাজিক দূরত্বের কোনো বালাই।
জনস হপকিন্স বিশ্ববিদ্যালয়ের তথ্যানুসারে, বিশ্বজুড়ে করোনাভাইরাসে আক্রান্তের সংখ্যা ১৪ লাখ ৩২ হাজার ছাড়িয়েছে। মৃতের সংখ্যা ছাড়িয়েছে ৮২ হাজার! এই ভাইরাসের প্রাদুর্ভাব ঠেকাতে সামাজিক দূরত্ব বজায় রেখে চলার আহ্বান জানিয়ে আসছে বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা- ডব্লিউএইচও। কিন্তু তাতে কর্ণপাত করছে না তুর্কমিনিস্তান।
এখন পর্যন্ত যে কয়টা দেশ বা অঞ্চল থেকে এখন পর্যন্ত কভিড-১৯ নিয়ে কোনো খবর আসেনি সেগুলোর মধ্যে উত্তর কোরিয়া ও তুর্কমিনিস্তান অন্যতম।
তুর্কমিনিস্তানের রাষ্ট্রীয় টেলিভিশনে সম্প্রচারে দেখা গেছে, বিশ্ব স্বাস্থ্য দিবস উপলক্ষে মঙ্গলবার ঠান্ডা ও স্যাঁতসেঁতে পরিবেশে রাজধানী আশখাবাতে সাইক্লিংয়ের একই রঙের ট্র্যাকস্যুট পরে গাদাগাদি করে দাঁড়িয়ে আছেন শত শত মানুষ।
অন্য একটি দৃশ্যে দেখা গেছে, মেডিকেল স্টাফসহ রাষ্ট্রীয় কর্মচারীরা সরকারি ভবনগুলোর ভেতরে ও বাইরে একসঙ্গে স্ট্রেচিং, ব্যায়াম করছেন।
তুর্কমিনিস্তানের রাষ্ট্রীয় সংবাদমাধ্যম জানিয়েছে, বিশ্ব স্বাস্থ্য দিবস উদ্যাপনে সাইক্লিং ইভেন্টে অংশগ্রহণ করেছেন ৭ হাজার নাগরিক। গুরবানগুলি বেরদিমুখামেদভকে ঘোড়ায় চড়তে দেখা গেছে। বেশ কয়েকজন সরকারি কর্মকর্তাকে নিয়ে বাইকিংয়েও দেখা গেছে তাকে।
উল্লেখ্য, মধ্য এশিয়ার গ্যাসসমৃদ্ধ তুর্কমিনিস্তানে সংবাদমাধ্যমের স্বাধীনতা নেই বললেই চলে। ফলে দেশটির স্বাস্থ্য সংক্রান্ত বা অর্থনৈতিক কোনো খবরই তেমন পাওয়া যায় না। তাই দেশটিতে করোনাভাইরাস পরিস্থিতি কেমন তা জানা যাচ্ছে না।
রাষ্ট্র নিয়ন্ত্রিত সংবাদমাধ্যমে পৃথক এক প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, রাজধানী আশখাবাতের কাছেই ছোঁয়াচে রোগে আক্রান্তদের চিকিৎসায় একটি হাসপাতাল নির্মাণ করছে কর্তৃপক্ষ। তবে সেটা কভিড-১৯ রোগীদের জন্য কি-না তা জানানো হয়নি।
করোনাভাইরাস নিয়ে তেমন আলোচনা করতেও দেখা যায়নি গুরবানগুলি বেরদিমুখামেদভকে। গত সপ্তায় প্রথম কেবল এ বিষয়ে কথা কথা বলতে যায় তাকে। মহামারি আকার ধারণ করা এই ভাইরাসের কারণে যে অর্থনৈতিক চাপ তৈরি হচ্ছে সে প্রসঙ্গে কথা বলতে গিয়ে প্রথম করোনাভাইরাসের নাম তার মুখে উচ্চারিত হয়।
সাবেক সোভিয়েত ইউনিয়নভুক্ত দেশগুলোর মধ্যে তুর্কমিনিস্তানের পাশাপাশি তাজিকিস্তানও এখন পর্যন্ত করোনায় আক্রান্তের কোনো খবর জানায়নি। এই ভাইরাস আতঙ্কের মধ্যেই চলতি সপ্তাহেই তাজিকিস্তানে শুরু হয়েছে ফুটবল লিগের নতুন মৌসুম।