যখন অঁরি এলেন বার্সায়

২০০৭-এ আর্সেনাল ছেড়ে থিয়েরি অঁরি যখন বার্সেলোনায় যোগ দেন, লিওনেল মেসির বয়স তখন ১৯। ২৯ বছরের অঁরি ততদিনে গানার্সদের হয়ে ইংলিশ ক্লাব ফুটবল জয় করেছেন। ১৯৯৮ বিশ্বকাপ জয়ীর তকমাটা তো আগেই ছিল। স্বাভাবিকভাবেই এই স্ট্রাইকার আর সব তরুণের মতো ওই সময়ের তরুণ মেসিরও স্বপ্নের  নায়ক। বার্সেলোনার সিনিয়র দলে মেসি সবে তার অভিযান শুরু করেছেন। ২০০৭ মৌসুমে হঠাৎ শুনলেন ওই স্বপ্নের নায়ক যোগ দিচ্ছেন তার ক্লাবে। মেসির আনন্দঘন উপলব্ধি আর কদিন বাদেই অঁরির সতীর্থ হতে যাচ্ছেন। তারপর একদিন চলে এলো সেই মাহেন্দ্রক্ষণ। বার্সেলোনায় এলেন অঁরি, এবার পরিচিত হওয়ার পালা। প্রম দিন যখন ন্যু ক্যাম্পের লকার রুমে মেসি অঁরির সামনে পড়লেন বিস্ময়, মুগ্ধতা, ভালোলাগা এবং লজ্জা এতই ছিল যে, অঁরির চোখে চোখ রেখে কথাই বলতে পারেননি আর্জেন্টিনা অধিনায়ক। এতদিন পর সাবেক ফরাসি স্ট্রাইকারের প্রশংসা করতে গিয়ে এই কথা জানান মেসি।

২০০৭-এ ১৬ মিলিয়ন পাউন্ডের চুক্তিতে বার্সেলোনায় যোগ দেন অঁরি। আর্সেনালের জার্সিতে ততদিনে ২২৮ ম্যাচে ১৭৫ গোল ফরাসি কিংবদন্তির ঝুলিতে। সেই অঁরিকে সামনে পাওয়ার দিনটির কথা স্মরণ করে ফরাসি দৈনিক লা ইকুইপকে মেসি জানিয়েছেন, ‘প্র ম দিন যখন সে লকার রুমে এলো আমি তার চোখে তাকাতে লজ্জা পাচ্ছিলাম। বলতে পারেন ওর মুখে তাকাতে সাহস হচ্ছিল না।’

২০০৮-এ বার্সার নিউক্লিয়াস হয়ে উঠেছেন মেসি। তার সামনে অঁরি ও স্যামুয়েল ইতো। ওই মৌসুমে ফাইনালে ম্যানচেস্টার ইউনাইটেডকে ২-০তে হারিয়ে শিরোপা জেতে বার্সা। ম্যাচ শেষে অঁরির সঙ্গে মেসির চ্যাম্পিয়ন্স ট্রফি হাতে দাঁড়ানোর ছবিটা এখনো উজ্জ্বল। অঁরির প্রতি মুগ্ধতার কথা জানিয়ে মেসি বলেন, ‘এত বড় একজন তারকা, আমি জানতাম সে ইংল্যান্ডে কী করেছে। ততদিনে সে আমার নায়ক হয়ে উঠেছে। আর এখন আমি তার সঙ্গে এক দলে। এই ভাবনাটাই আমার মাথায় খেলছিল। এটাই আমার ভালোলাগা অনেক বাড়িয়ে দেয়। আমি সত্যি অঁরিকে ভালোবাসি। সে যেভাবে গোলের ফিনিশিং করত, যেভাবে গোলের জন্য এগিয়ে যেত, ড্রিবলিং করে গোলের জায়গা বানাত এগুলো আমার অনেক ভালো লাগত। তাকে দেখে মনে হতো গোল করা তার জন্য অত্যন্ত সাধারণ বিষয়।