বেলকুচিতে ক্ষুধার জ্বালায় কিশোরীর আত্মহত্যা

সিরাজগঞ্জের বেলকুচিতে ক্ষুধার জ্বালায় এক কিশোরী আত্মহত্যা করেছে বলে অভিযোগ পাওয়া গেছে।

বেলকুচি পৌর এলাকার কামারপাড়া ওয়াপদা বাঁধে আশ্রিত সহায় সম্বলহীন রিকশাচালক আলম শেখের কিশোরী মেয়ে আফরোজা খাতুন (১০) শুক্রবার বিকেলে গলায় ফাঁস নিয়ে আত্মহত্যা করছে। এই মর্মান্তিক ঘটনায় এলাকায় শোকের ছায়া নেমে এসেছে।

এ বিষয়ে কিশোরীর বাবা আলম শেখ দেশ রূপান্তরকে বলেন, করোনাভাইরাসের সংক্রমণ রোধে প্রশাসনের ব্যাপক কড়াকড়ির কারণে গত ১০দিন ধরে রিকশা নিয়ে বাইরে বের হতে পারিনি। ঘরেই শুয়ে-বসে দিন কাটাচ্ছি। রিকশা চালাতে পাড়লে খাবার জোটে, না পারলে জোটে না। হাতে নগদ টাকা নাই। চালডাল কিনতে পারি নাই। তাই ঘরে কোন খাবারও নেই। এ অবস্থায় শুক্রবার বিকেলে সে আমার কাছে খাবার চেয়ে কান্নাকাটি করতে থাকে। আমি তাকে ধমক দিয়ে তাড়িয়ে দিই। এতে সে অভিমান করে ও ক্ষুধার জ্বালা সইতে না পেরে সবার অগোচরে ওড়না পেঁচিয়ে গলায় ফাঁস নিয়ে আত্মহত্যা করেছে।

তিনি আরও বলেন, এ বিষয়ে কারও বিরুদ্ধে আমার কোন অভিযোগ নাই।

বেলকুচি থানার ওসি নূর-এ-আলম এ ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করে বলেন, নিহতর পরিবারের কোন অভিযোগ না থাকায় লাশ তাদের কাছে হস্তান্তর করা হয়েছে।

এ বিষয়ে বেলকুচি উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা সিফাত-ই-জাহান বলেন, প্রথম দফায় এ পরিবারটিকে খাদ্য সহায়তা দেওয়া হয়েছিল। এরপরেও এ ধরনের ঘটনা কেনো ঘটল তা খতিয়ে দেখা হচ্ছে। শনিবার আবারও খাদ্য সহায়তা হিসাবে এ পরিবারটিকে ১০ কেজি চাল, ডাল, তেল, পেঁয়াজ, লবণ ও আলু দেওয়া হয়েছে।