জাতীয় দলের সাবেক পেসার মোহাম্মদ শরীফ সব ধরনের ক্রিকেটকে বিদায়ের ঘোষণা দিয়েছেন। শনিবার সংবাদমাধ্যমকে ৩৪ বছর বয়সী ক্রিকেটার বলেন, ‘আমি সব ধরনের ক্রিকেটকে বিদায়ের সিদ্ধান্ত নিয়েছে। যদিও আমি বিশ্বাস করি আরো দুই বছর খেলে যেতে পারতাম।’
ডানহাতি পেসার শরীফ জাতীয় দলের হয়ে সবশেষ খেলেছেন ২০০৭ সালে। তবে ২০০০ সালে প্রথম শ্রেণির ক্রিকেটে অভিষেকের পর ২০ বছর ঘরোয়া ক্রিকেটে খেলে গেছেন বেশ দাপটের সঙ্গেই।
দারুণ সম্ভাবনা নিয়ে ক্যারিয়ার শুরু করা এই পেসার মাত্র ১৭ বছর বয়সেই জাতীয় দলে ডাক পান। ২০০১ সালের এপ্রিলে হারারেতে জিম্বাবুয়ের বিপক্ষে তার ওয়ানডে অভিষেক। একই সফরেই টেস্ট অভিষেক।
আন্তর্জাতিক ক্রিকেটে পথচলার শুরুটা তার খারাপ ছিল না। কিন্তু মাত্র এক বছরের মাথায় ইনজুরির কারণে জায়গা হারান। ফের সুযোগ পান ২০০৭ সালে। কিন্তু অপ্রত্যাশিতভাবে সে বছরই শেষ হয়ে যায় তার আন্তর্জাতিক ক্যারিয়ার।
এরপর ২০০৮ সালে বাংলাদেশের এক ঝাঁক ক্রিকেটারের সঙ্গে ভারতের নিষিদ্ধ ঘোষিত আইসিএলে পাড়ি দিয়েছিলেন শরীফ। যে কারণে ১০ বছরের জন্য নিষিদ্ধ হতে হয়। তবে এক বছর পরই ঘরোয়া লিগে খেলার ছাড়পত্র পেয়েছিলেন। পুরোপুরি নিষেধাজ্ঞাও ওঠে যায়। তবে ঘরোয়া ক্রিকেটে পারফর্ম করে গেলেও জাতীয় দলে আর সুযোগ মেলেনি তার।
এদিন বিদায়ের ঘোষণা দিয়ে শরীফ জানিয়েছেন, ‘আমি ভবিষ্যতে বিসিবির সঙ্গে কাজ করতে চাই। সেই সুযোগ পেলে আমি যে অভিজ্ঞতা অর্জন করেছি, সেগুলো কাজে লাগানোর চেষ্টা করব।’
শরীফ জানিয়েছেন তার হঠাৎ সিদ্ধান্তের ক্ষেত্রে কাঁধের ইনজুরি বড় ভূমিকা রেখেছে। বলেন, ‘সত্যি বলতে কাঁধের ইনজুরিই আমাকে এই ধরনের সিদ্ধান্ত নিতে বাধ্য করেছে। বিপ টেস্টে আমার ১১ স্কোর ছিল। এরপর আমি কাঁধের চোটে পড়লাম। এ অবস্থায় সবকিছু ফিফটি-ফিফটি অবস্থায় ছিল।’
শরীফ তাই করোনার কারণে স্থগিত হয়ে যাওয়া প্রিমিয়ার লিগে নিজেকে জড়ান নি। ফিফটি-ফিফটি অবস্থানে থেকে ক্যারিয়ারকে টানতে চাননি, ‘আমি চাইনি এভাবে কোনো ক্লাবের সাথে যুক্ত থাকতে। এভাবে যদি আমি কোনো ক্লাবের সঙ্গে যুক্ত হতাম তবে সেই ক্লাবের সঙ্গে প্রতারণা করা হতো। তারা অনেক প্রত্যাশা নিয়ে আমাকে নিত। কিন্তু আমি যদি শতভাগ দিতে না পারতাম তবে আমি তাদের কাছে হতাশার বিষয় হতাম।’
শরীফ তাই অন্যদের সুযোগের কথাটাও ভেবেছেন, ‘আমার জায়গায় বরং আরেকজন খেলোয়াড় খেলতে পারত। আমি তাই জায়গা ধরে রাখতে চাইনি। ফিফটি-ফিফটি সুযোগের চেয়ে না খেলাটাই বরং বেশি ভালো।’ গেল বছর প্রিমিয়ার লিগে ব্রাদার্স ইউনিয়নের হয়ে গাজী গ্রুপের বিপক্ষে ম্যাচটিই শরীফের শেষ স্বীকৃত ম্যাচ হয়ে থাকল।
১০ টেস্ট, ৯ ওয়ানডেতে শরীফের উইকেট যথাক্রমে ১৪ ও ১০। ১৩২ প্রথম শ্রেণির ম্যাচে উইকেট ৩৯৩টি। মাত্র ৭ উইকেট দূরে ছিলেন দেশের প্রথম পেসার হিসেবে ৪০০ উইকেটের মাইলফলক থেকে। বিদায় বেলায় শরীফ বললেন এই মাইফলক পূরণ করতে না পারাটা তার আক্ষেপ হয়ে থাকবে।
কিন্তু এরপরও থেমে যাচ্ছেন শরীফ, ‘খেলোয়াড় হিসেবে আমার জার্নিটা সত্যিই দারুণ ছিল। তবে এখনই এই সিদ্ধান্ত নেওয়াটা বেদনাদায়ক। অনেকেই বলছে যদি মাঠ থেকে বিদায় নিতে, সেটা সবচেয়ে ভালো হতো। যেহেতু তুমি জাতীয় দলেও খেলেছ। কিন্তু আমি মনে করি সব সফল খেলোয়াড় আসলে যথাযথ বিদায় পায় না।’
শরীফ যোগ করেন, ‘প্রত্যেকে হৃদয়ে কষ্ট নিয়েই বিদায়ের সিদ্ধান্ত জানায়। আমারও হতাশা আছে। যেমন আমি যদি আরো ৭ উইকেট নিতে পারতাম, তবে আমি দেশের প্রথম পেসার হিসেবে ৪০০ উইকেটের কীর্তি গড়তে পারতাম।’