যমুনায় অসময়ের ভাঙন

শাহজাদপুরে মানচিত্র থেকে হারিয়ে যাচ্ছে ১০ গ্রাম

চৈত্রের এই প্রখর খরতাপের মধ্যেও সিরাজগঞ্জের শাহজাদপুর উপজেলার যমুনা নদীতে ব্যাপক ভাঙন শুরু হয়েছে। এতে উপজেলার কৈজুরি, খুকনী ও জালালপুর এই তিনটি ইউনিয়নের ১০ গ্রাম ভাঙনের কবলে পড়ে মশ মানচিত্র থেকে হারিয়ে যাওয়ার উপক্রম হয়ে পড়েছে। ফলে এসব গ্রামের প্রায় ১৫ হাজার মানুষ করোনা ভাইরাসের আতঙ্কের চেয়ে বাড়িঘর সহায়-সম্বল হারানোর আতঙ্কেই বেশি দিশেহারা হয়ে পড়েছে।

খোঁজ নিয়ে জানা যায়, গত বছরের ভাঙনে এসব গ্রামের কমপক্ষে ৪ শতাধিক বাড়িঘর, দুটি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান, একটি চিকিৎসা কেন্দ্র, দুটি মসজিদ, দুটি ঈদগাহ মাঠ, ৫০টি তাঁত কারখানা, ৪০০ বিঘা আবাদি জমি, তিন কিলোমিটার কাঁচা সড়ক, একটি মাদ্রাসা, একটি কবরস্থান, একটি শ্মশান ঘাট, একটি মন্দির ও দুই শতাধিক গাছপালা নদীগর্ভে বিলীন হয়ে গেছে। এ ছাড়া গত এক সপ্তাহে এ ১০ গ্রামের অন্তত ২০টি বাড়িঘর, ২০০ বিঘা ফসলি জমি ও শতাধিক গাছপালা নদীগর্ভে বিলীন হয়ে গেছে। এই ভাঙনকবলিত গ্রামগুলোর মধ্যে রয়েছে, ব্রহ্মণগ্রাম, আরকান্দি, পাকুরতলা, পুঁটিপাড়া, বাঐখোলা, ঘাটাবাড়ি, ভেকা, জালালপুর, চিলাপাড়া ও হাট পাচিল।

এ বিষয়ে ক্ষতিগ্রস্ত নূরু মির্জা, আমিরুল ইসলাম, আব্দুল হালিম, আব্দুল হামিদ আলী, এমদাদ আলী, ইউসুফ আলী, এমদাদুল হক মিলন, রাসেল সরকার, শাকিল আহমেদ, সাব্বির হোসেন, সিয়াম হোসেন, আলমগীর হোসেন, সাহেরা খাতুন, মোমেনা খাতুন, শাহাদ আলী, জসিম উদ্দিন, আলিমুদ্দিন, সিরাজুল ইসলাম, পরমেশবর সরকার জানান, গত বছরের বন্যায় এ এলাকার চার শতাধিক বাড়িঘর যমুনা নদীর ভাঙনে বিলীন হয়েছে। এতে চার শতাধিক মানুষ গৃহহীন হয়েছে। এ বছর সবেমাত্র নদীতে জোয়ার শুরু হয়েছে। বর্ষা মৌসুম শুরুর এখনো তিন মাস দেরি আছে। অথচ এরই মধ্যে নদীতে ভাঙন শুরু হয়েছে।

এ বিষয়ে সিরাজগঞ্জ পানি উনড়বয়ন বোর্ডের নির্বাহী প্রকৌশলী শফিকুল ইসলাম বলেন, এখানকার ভাঙন রোধে প্রায় সাড়ে ৭০০ কোটি টাকা ব্যয়ে একটি প্রকল্প হাতে নেওয়া হয়েছে।