করোনা আইসোলেশনে ভর্তি নারীর মৃত্যু, পরিবারের অভিযোগ চিকিৎসা হয়নি

কুষ্টিয়া জেনারেল হাসপাতালে করোনাভাইরাসের উপসর্গ নিয়ে আইসোলেশন ওয়ার্ডে ভর্তি ময়না খাতুন (৪৩) নামে এক নারীর মৃত্যু হয়েছে। তবে ওই নারী করোনা আক্রান্ত নয় দাবি করে তিনি বিনা চিকিৎসায় মারা গেছেন বলে অভিযোগ করেছে তার পরিবার।

রবিবার দুপুর সাড়ে ১২টার দিকে আইসোলেশন ওয়ার্ডে তিনি মৃত্যু বরণ করেন। এঘটনায় ওই নারীর পরিবারসহ আশপাশের কয়েকটি বাড়িকে লকডাউন করতে বলা হয়েছে। কুষ্টিয়া জেনারেল হাসপাতালের আবাসিক মেডিকেল অফিসার ডা. তাপস কুমার সরকার এ তথ্য নিশ্চিত করেছেন।

ডা. তাপস কুমার সরকার জানান, গত শুক্রবার মিরপুর উপজেলার খয়েরপুর গ্রামের ওই রোগী ঠান্ডা-জ্বর নিয়ে জরুরি বিভাগে আসলে কর্তব্যরত চিকিৎসক করোনা ভাইরাস আক্রান্তের সন্দেহে তাকে হাসপাতালে ভর্তি করেন। শনিবার তার নমুনা সংগ্রহ করে আইইডিসিআরের ল্যাবে প্রেরণ করা হয়েছে। তবে ভাইরাস পরীক্ষার ফলাফল এখনো আমরা জানতে পারিনি।

ময়না খাতুনের স্বামী আব্দুর রহিম জানান, ১০ মাস আগে তার ইউটেরাসের টিউমার অপারেশন করার পর থেকেই সে আরও বেশি অসুস্থ হয়ে পড়ে। সে অ্যাজমাসহ মূত্রনালির সংক্রমণে ভুগছিলেন। প্রায়ই ডাক্তারের কাছে আসতে হতো, ওষুধ চলছিল।

তিনি অভিযোগ করেন, ময়না বৃহস্পতিবার রাত থেকে বেশি অসুস্থ হয়ে পড়ায় শুক্রবার সকালে মিরপুর উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিয়ে যাওয়া হয়। তারা সেখানে ভর্তি বা চিকিৎসা না দিয়ে তাকে কুষ্টিয়া জেনারেল হাসপাতালে নেয়ার কথা বলেন। কুষ্টিয়া জেনারেল হাসপাতালের জরুরি বিভাগে নিয়ে আসলে ডাক্তার তাকে করোনা ওয়ার্ডে ভর্তি করেন। কিন্তু ওই ওয়ার্ডে রেখে তাকে কোন চিকিৎসা দেয়া হয়নি।

জেলা সিভিল সার্জন ডা. এইচ এম আনোয়ারুল ইসলাম বলেন, যেহেতু করোনা সন্দেহে আইসোলেশন ওয়ার্ডে ভর্তি হওয়া ওই রোগীর নমুনা পরীক্ষার ফলাফল এখনো আমরা জানতে পারিনি, সে কারণে স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ের নির্দেশিত পদ্ধতি অনুসরণ করে মরদেহ দাফন করা হবে। সেই সঙ্গে রিপোর্ট না পাওয়া পর্যন্ত ওই পরিবারসহ আশপাশের কয়েকটি বাড়িকে লকডাউন করার পরামর্শ দেয়া হয়েছে প্রশাসনকে।

তিনি আরও বলেন, বিনা চিকিৎসায় রোগীর মৃত্যু হয়েছে বলে স্বজনদের করা অভিযোগ সঠিক নয়। এ মুহূর্তে ঠান্ডা-জ্বর, সর্দি, শ্বাসকষ্ট নিয়ে যে কোন রোগী আসলেই আমাদের কাছে প্রধান সন্দেহের তালিকায় করোনা আক্রান্তের বিষয়টিই বিবেচনা করা হচ্ছে।