নোভেল করোনাভাইরানেসর আণবিক রহস্য এবং বিভিন্ন দেশে বা ভৌগলিক অবস্থানে এর পার্থক্য অনেকটাই উন্মোচিত করতে পেরেছেন বলে ভারতের কলকাতা বিশ্ববিদ্যালয়ের চারজন গবেষক দাবি করেছেন। প্রি-প্রিন্ট অবস্থায় গবেষণা পত্রটি প্রকাশিত হয়েছে জীববিদ্যা বিষয়ক গবেষণার বিশিষ্ট সংগ্রহশালা ‘বায়ো আর্কাইভ’এ।
এর প্রধান গবেষক হলেন শুভম ব্যানার্জি।
তিনি জানান, ‘আমরা দেখেছি যে করোনা ভাইয়ারাসের চার থেকে পাঁচটি স্ট্রেন রয়েছে। চিন বলেছিল দুটি। কিন্তু তখন তাদের দেশেই শুধু ঘোরাফেরা করছিল ভাইরাস। সেই অনুযায়ী সঠিক। কিন্তু বিশ্বে ছড়িয়ে পড়ারর পর বিষয়টি নিয়ে আমরা গবেষণা শুরু করি। খুঁজে পাই চার পাঁচ ধরনের স্ট্রেন। এবার আমারা গবেষণা করতে গিয়ে দেখেছি যে বিভিন্ন দেশে এর বিভিন্ন চরিত্র। সেগুলোকে ভাগ করে দেখা যাচ্ছে, ইতালি, স্পেন, আমেরিকায় এর মৃত্যু হার সবচেয়ে বেশি, ১৪ শতাংশ। চীন, জাপান এসব দেশে এর শক্তি কম, ৬-৮ শতাংশ। এবার ভারত, অস্ট্রেলিয়া, ইসরায়েল, নেপাল, ভিয়েতনামে এর মারণ ক্ষমতা সব থেকে কম, ২-২.৫ শতাংশ।’
গবেষণায় জানা যায়, ‘মৃত্যুর হার নির্ভর করছে মূলত তিনটি বিষয়ের উপর। ১) মিউটেশনের সংখ্যা ২) রেয়ারিটি অফ দ্য অ্যালেয়িক ভেরিয়েশন ৩) ফাংশনাল কনসিকোয়েন্স অফ দ্য মিউটেশন অ্যাট প্রোটিন লেভেল’। এরপরে তারা এই তিন ধরণের কভিড-৯ এর মিউটেশন নিয়ে গবেষণা করেন। সেই গবেষণায় তারা দেখতে পেয়েছেন, চীনে বা তার আশেপাশে যে মিউটেশন ছিল ভাইরাসের তা C TO T। ইতালি, স্পেন, আমেরিকায় এর মিউটেশন A TO T, G TO A, T TO A। ভারত অস্ট্রেলিয়া, ইসরায়েল, নেপাল, ভিয়েতনামের মতো দেশে যেখানে মারণ ক্ষমতা কম, সেখানে এই ভাইরাসের মূলত দুটি মিউটেশন রয়েছে, ১) ডিলিটেশন মিউটেশন ২) নন-সিনোনিমস মিউটেশন।
শুভম ব্যানার্জি আরো জানান , ‘এর থেকেই স্পষ্ট তিন ধরণের মৃত্যু হার বিশিষ্ট দেশে তিন ধরণের ভ্যাক্সিন হবে। যেটা ইতালিতে কাজ করবে সেটা চীনে কাজ করবে না। আবার যেটা চীনে কাজ করবে সেটা ভারতে কাজ করবে না। কিন্তু ভারতে যেটা কাজ করবে সেটা অস্ট্রেলিয়া , ভিয়েতনামে কাজ করবে। ইতালির ভ্যাক্সিন কাজ করবে আমেরিকায়’।
তিনি জানাচ্ছেন , ‘বিশ্বজুড়ে এ নিয়ে কাজ হচ্ছে কিন্তু এই প্রাথমিক বিষয়টা এখনও কেউ বলেনি। আমাদের গবেষণা সেই পথ দেখিয়েছে। আমরা এখন এর প্রোটিন স্ট্রাকচার নিয়ে কাজ করছি। এর পরে ধাপে ধাপে এগিয়ে যাব। তবে যেহেতু আমরা প্রথম ধাপ দেখিয়ে দিয়েছি। তা প্রকাশিত হয়েছে ‘বায়ো আর্কাইভ’এ। সেখানে ১৪২টি দেশের বিজ্ঞানিরা রয়েছেন। আমাদের কাজ এক বিজ্ঞানী ডোনাল্ড ট্রাম্পের টুইটারে সরাসরি ট্যাগ করে দিয়েছে। এবার আমাদের মনে হয় এটা দেখে নেওয়ার পর আমাদের থেকে আরও দ্রুত কাজ করবে উন্নত দেশের বিজ্ঞানীরা। আশা করছি এই গবেষণা দ্রুত ভ্যাক্সিন তৈরি করতে সাহায্য করবে’।
তাদের এই গবেষণা পত্রের নাম, ‘Decoding the lethal effect of SARS-CoV-2 (novel coronavirus) strains from global perspective: molecular pathogenesis and evolutionary divergence’।
শুভম ব্যানার্জির সঙ্গে কাজ করেছেন পৃথা ভট্টাচার্য, শিরিঞ্জনা ধর, সন্দীপ ভট্টাচার্য।
সূত্র: কলকাতা টুয়েন্টিফোর ইনটু সেভেন।