এ কেমন নির্মমতা!

শরীয়তপুরের জাজিরা উপজেলায় তাবিজ-কবচ ও কালো জাদু করে মানুষকে ক্ষতি করার অপবাদ দিয়ে একই পরিবারের তিনজনকে তিন বোতল মল (মনুষ্যবর্জ্য) খাওয়ানোর অভিযোগ উঠেছে এলাকার একটি দুষ্ট চক্রের বিরুদ্ধে।

এ ঘটনায় অসুস্থ হয়ে জাজিরা উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ভর্তি আছেন এক কলেজছাত্রী।

শনিবার ভোর সাড়ে ৫টার দিকে উপজেলার মূলনা ইউনিয়নের ২নং ওয়ার্ডের লাউখোলা চর বালিয়াকান্দি গ্রামে এ ঘটনা ঘ‌টে। রবিবার জা‌জিরা থানায় এ ঘটনায় এক‌টি মামলা হ‌য়ে‌ছে।

ভুক্ত‌ভো‌গী প‌রিবার ও স্থানীয়রা ঘটনার স‌ঙ্গে জ‌ড়িত‌দের আইনের আওতায় এনে দৃষ্টান্তমূলক শা‌স্তি দাবি ক‌রে‌ছেন।

জা‌জিরা থানা পু‌লিশ, ভুক্ত‌ভো‌গী প‌রিবারের অভি‌যোগ ও স্থানীয় সূত্র জানায়, জাজিরা উপ‌জেলা বালিয়াকান্দি গ্রামের ভ্যানচালক নুরুল হক আকন (৪২) তাবিজ-কবচ ও কালো জাদু করে মানুষকে ক্ষতি করছেন এমন অপবাদ দিয়ে বি‌কেনগর সরকারি কলেজের দ্বাদশ শ্রে‌ণির পড়ুয়া তার ১৯ বছ‌রের মে‌য়ে ও তার মা জমিলা বেগমকে (৫৫) শ‌নিবার ভোর সা‌ড়ে ৫টার দি‌কে ‌তিন বোতল মল খাওয়া‌য় একই গ্রা‌মের জলিল ডাক্তার শিকদার, আমজাদ কাজি, মিজানুর মাতবর, ইদ্রিস বেপারী, ইউনুস কাজী, সিরাজ কাজী ও আনোয়ার আকনসহ বেশ ক‌য়েকজ‌নের বিরু‌দ্ধে।

এ ঘটনার পর ওই ক‌লেজ ছাত্রী অসুস্থ হ‌য়ে পড়‌লে স্থানীয়রা তা‌কে জা‌জিরা উপ‌জেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ভ‌র্তি ক‌রে। একই হাসপাতা‌লে নুরুল হক আকন ও তার মা জমিলা বেগমও প্রাথ‌মিক চি‌কিৎসা নেয়।

ভ্যানচালক নুরুল হক আকন ব‌লেন, ‘আমা‌দের এলাকার জলিল ডাক্তার, আমজাদ, মিজানুর, ইদ্রিস, ইউনুস, সিরাজ ও আনোয়ারসহ বেশ ক‌য়েকজ‌ন লোক শ‌নিবার ভো‌রে আমা‌র বা‌ড়ি‌তে আসে। আ‌মা‌কেসহ প‌রিবা‌রের সকল‌কে ঘুম থে‌কে তো‌লে তারা।’

তিনি বলেন, ‘প‌রে উঠা‌নের মাঝখা‌নে নি‌য়ে জোরপূর্বক কোরবা‌নির পশুর মতো মা‌টি‌তে শুই‌য়ে আমার মা, মে‌য়ে ও আমা‌কে তিন বোতল মল খাওয়ায় তারা।’

নুরুল হক আকন বলেন, ‘প‌রে চিৎকার কর‌লে স্থানীয়রা অসুস্থ অবস্থায় আমার মে‌য়ে‌কে জা‌জিরা হাসপাতা‌লে ভ‌র্তি ক‌রে। আমরাও প্রাথ‌মিক চি‌কিৎসা নেই। আমি বিচার পাওয়ার জন্য র‌বিবার থানায় মামলা ক‌রে‌ছি । এখনো মামলার আসামিরা আটক হয়‌নি।’

মামলার আসামি‌দের আইনের আওতায় এনে দৃষ্টান্তমূলক শা‌স্তি দেওয়ার দাবি জানান তিনি।

নুরুল হক আকনের মে‌য়ে বলেন, ‘আমি জা‌জিরা বি‌কেনগর সরকারি কলেজের দ্বাদশ শ্রে‌ণিতে পড়ি। আমার জীব‌নে কোনো খারাপ রেকর্ড নেই। কলেজে ও এলাকায় আমি সবার সামনে মুখ দেখাব কীভাবে? ঘটনার পর আমার ম‌রে যে‌তে ইচ্ছে কর‌ছে। এ জঘন্য ঘটনায় জ‌ড়ি‌তদের বিচার চাই।’

আসামি জলিল ডাক্তার শিকদার ঘটনার সত্যতা স্বীকার ক‌রে ব‌লেন, এলাকার আনোয়ার আক‌নের শ্যালককে কা‌লো জাদু করে মেরে ফেলেছে নুরুল হক আক‌ন। তাই আনোয়ার আমাদেরকে এ কাজ করতে ব‌লে‌ছে।

জাদু করে কাউকে মেরে ফেলা যায় কি না- এমন প্রশ্নের জবাবে তি‌নি ব‌লেন, ‘হ্যাঁ, একা‌ধিক ফ‌কি‌রের স‌ঙ্গে কথা ব‌লে‌ছি। তারা ব‌লে‌ছে- নুরুল হক‌কে যদি মানুষের মল খাওয়ানো হয়, তাহলে সে আর কারও ক্ষতি করতে পারবে না। তাই তাকে মানুষের মল খাওয়ানো হয়েছে।’

মূলনা ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান নুরুল আমিন হাওলাদার বলেন, বিষয়টি আমি স্থানীয় ইউপি সদস্যর কাছে শুনেছি। ঘটনার আগে বা পরে কেউ এ বিষয় নিয়ে আমার কাছে আসেনি। তবে ঘটনাটি খুবই দুঃখজনক ও নিন্দনীয়। এর কঠিন বিচার হওয়া দরকার।

জাজিরা উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা ডা. মাহমুদুল হাসান বলেন, জাদু করে কাউকে মেরে ফেলা যায়, এমন ঘটনা আমার জানা নেই। ত‌বে মানু‌ষের মল খাওয়া‌নো হয়ে‌ছে এমন এক ক‌লেজছাত্রী অসুস্থ হ‌য়ে হাসপাতা‌লে ভ‌র্তি হ‌য়ে‌ছেন।

জাজিরা থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) মো. আজহারুল ইসলাম বলেন, মূলনা ইউনিয়‌নে একটি পরিবারকে মানুষের মল খাওয়ানো হয়েছে। একটি মেয়ে অসুস্থ হয়ে হাসপাতালে ভর্তি হ‌য়ে‌ছে।

তিনি বলেন, ঘটনার পর তাৎক্ষণিক এলাকায় পু‌লিশ পাঠিয়েছি। এ ঘটনায় নুরুল হক আক‌ন সাতজন‌কে আসামি ক‌রে থানায় এক‌টি মামলা ক‌রে‌ছেন। আসামি‌দের গ্রেপ্তা‌রের চেষ্টা চল‌ছে।