ফেনীতে করোনা ঝুঁকিতে্ও চলছে আবুল খায়ের ম্যাচ ফ্যাক্টরি!

করোনাভাইরাসের সংক্রমণ ঠেকাতে অঘোষিত লকডাউনে সরকারি-বেসরকারি সব প্রতিষ্ঠান ও কল-কারখানা বন্ধ থাকলেও চলছে ফেনীর আবুল খায়ের ম্যাচ ফ্যাক্টরি। প্রতিদিন শনাক্তের সংখ্যা বাড়ায় তীব্র ঝুঁকি নিয়ে কাজ করছেন সহস্রাধিক শ্রমিক। এ নিয়ে শ্রমিক ছাড়াও স্থানীয় বাসিন্দাদের মাঝে ক্ষোভ ও আতঙ্ক বিরাজ করছে।

সরেজমিন শহরের চাঁড়িপুরে বিসিক শিল্প নগরী এলাকা ঘুরে ও একাধিক ব্যক্তির সাথে কথা বলে জানা গেছে, আবুল খায়ের ম্যাচ ফ্যাক্টরিতে দিবারাত্রী দুটি শিফটে কাজ করছেন শ্রমিকরা।

প্রতিষ্ঠানটিতে ১ হাজারের বেশি শ্রমিক কর্মরত রয়েছেন। ইচ্ছা থাকা সত্ত্বেও ছুটি না পাওয়ায় তারা সরকারি নির্দেশনা অনুযায়ী কোয়ারেন্টাইন মানতে পারছেন না। চাকরি বাঁচানোর আশায় ঝুঁকি নিয়ে কাজ করতে বাধ্য হচ্ছেন শ্রমিকরা।

কারখানার গেইটে হাত ধুয়ে ঢোকার ব্যবস্থা করা হলেও দিয়াশলাই তৈরির কারখানাটিতে মানা হচ্ছে না সামাজিক দূরত্ব। এতে স্বাস্থ্য ঝুঁকি আরও বাড়ার আশঙ্কা রয়েছে।

বিসিক ক্ষুদ্র কুঠির শিল্প করপোরেশন সূত্র জানায়, এখানে ছোট-বড় ২৭টি কারখানা থাকলেও ওষুধ আর খাদ্যপণ্য উৎপাদন প্রতিষ্ঠান ছাড়া সবকটি বন্ধ রাখা হয়েছে।

বিসিক ক্ষুদ্র কুঠির শিল্প করপোরেশনের এজিএম অরবিন্দ দাস জানান, আবুল খায়ের প্রতিষ্ঠানটি বিসিকের আওতাভুক্ত নয়। বর্তমান সময়ে অপরিহার্য না হলে কারখানা চালু রাখা অন্যায়।

ফেনী চেম্বার অব কমার্স এন্ড ইন্ডাস্ট্রির সভাপতি আয়নুল কবির শামীম জানান, করোনা সংক্রমণ এড়াতে সামাজিক দূরত্ব বজায় রাখা অতীব জরুরি। সরকারের নির্দেশনা খাদ্যপণ্য, ্ওষুধ ও কীটনাশক দ্রব্য উৎপাদন প্রতিষ্ঠান ছাড়া অন্য কারখানা চালু রাখা অপরাধ।

বিষয়টি জেলা প্রশাসনসহ সংশ্লিষ্টদের সাথে আলোচনা করে ব্যবস্থা নেয়া হবে।

এ প্রসঙ্গে এফবিসিসিআইয়ের সিনিয়র সহ-সভাপতি মো. মুনতাকিম আশরাফ বলেন, করোনাভাইরাসের কারণে কোয়ারেন্টাইনে থাকার কথা বলা হচ্ছে। বর্তমান পরিস্থিতিতে ম্যাচ ফ্যাক্টরি চালু রাখার সুযোগ নেই। তাছাড়া এ রকম কারখানা চালু রাখলে আশপাশের লকডাউন হওয়া জেলাগুলোতে নেতিবাচক প্রভাব পড়বে। সেজন্য জেলা প্রশাসন প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করবে।
নাম প্রকাশ না করার শর্তে একাধিক ব্যক্তি জানান, করোনা সংক্রমণের ঝুঁকির কথা জেনেও কর্তৃপক্ষ কারখানা বন্ধ করছে না। ফলে শ্রমিকদের পাশাপাশি স্থানীয় বানিন্দারাও করোনা ঝুঁকিতে রয়েছেন।

এ ব্যাপারে জানতে ফেনীস্থ আবুল খায়ের ম্যাচ ফ্যাক্টরির ব্যবস্থাপক আজাদ ভূইয়াকে ফোন করা হলে তিনি কথা বলতে রাজি হননি।

জানতে চাইলে ফেনী জেলা প্রশাসক মো. ওয়াহিদুজ্জামান বলেন, বর্তমান সময়ে কারখানার শ্রমিকরা বাইরে অবাধে চলাচল করতে পারবে না। কোয়ারেন্টাইন না মেনে কারখানা চালু রাখার সুযোগ নেই। বিষয়টি অবশ্যই ঝুঁকিপূর্ণ। এ ব্যাপারে খোঁজখবর নিয়ে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।