করোনাভাইরাস সংক্রমণের প্রেক্ষাপটে সরকারের ত্রাণকাজে অনিয়ম-দুর্নীতিতে জড়িতদের মোবাইল কোর্টের (ভ্রাম্যমাণ আদালত) মাধ্যমে শাস্তি নিশ্চিত করতে আইন ও স্বরাষ্ট্র সচিবকে আইনি নোটিস পাঠানো হয়েছে। একই সঙ্গে বিশেষ পরিস্থিতি বিবেচনায় অধ্যাদেশ জারির মাধ্যমে মোবাইল কোর্ট আইনের ৬ ও ৮ ধারা সংশোধনের আর্জি জানানো হয়েছে। গতকাল সোমবার সুপ্রিম কোর্টের আইনজীবী মনিরুজ্জামান লিংকন নোটিসটি পাঠান।
নোটিসে বলা হয়েছে, ‘করোনাভাইরাসজনিত দুর্যোগকালীন এই সময়ে সংক্রমণ রোধে সামাজিক দূরত্ব বজায় রাখার নির্দেশ পালন করতে হচ্ছে। ফলে মানুষ কর্মহীন হয়ে পড়েছে এবং শ্রমজীবী সাধারণ মানুষ সরকারের বিভিন্ন সাহায্য-সহযোগিতার ওপর নির্ভরশীল হয়ে পড়েছে। সরকার সাধারণ মানুষের এই দুর্দশা লাঘবের জন্য তাদেরকে খাদ্য সহায়তা, নগদ অর্থসহ সার্বিক সহযোগিতা প্রদান করে যাচ্ছে। কিন্তু ত্রাণ বিতরণে নানা অনিয়ম হচ্ছে। এমনকি গরিব-দুঃখীদের বরাদ্দকৃত চাল কতিপয় ব্যক্তি কর্র্তৃক চুরি করার মতো ন্যক্কারজনক ঘটনা ঘটেছে। তাই মোবাইল কোর্ট পরিচালনার মাধ্যমে এসব দুষ্কৃতকারীর দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির ব্যবস্থা করা আবশ্যক হয়ে দাঁড়িয়েছে।’
ব্যারিস্টার লিংকন দেশ রূপান্তরকে বলেন, ‘ত্রাণ চুরির বিচার প্রচলিত আইনে করতে গেলে দীর্ঘসূত্রতায় পড়বে। ফলে অপরাধীরা পার পেয়ে যাবে। এজন্য তাৎক্ষণিক বিচার প্রয়োজন।’ তিনি আরও বলেন, ‘মোবাইল কোর্ট আইনের ৬ ধারা অনুযায়ী তফসিলভুক্ত অপরাধ ছাড়া শাস্তি দেওয়া যায় না। এর ফলে দেখা যাবে মোবাইল কোর্ট ত্রাণ আত্মসাৎকারীর বিচার করতে গেলে কিছু সীমাবদ্ধতা থাকবে। ৮ ধারা অনুযায়ী সর্বোচ্চ দুই বছরের সাজার বিধান রয়েছে, যেটি এ ধরনের জঘন্য অপরাধের ক্ষেত্রে লঘু হয়ে যায়। এ কারণে বিশেষ পরিস্থিতি বিবেচনায় অধ্যাদেশ জারির মাধ্যমে আইনের সংশোধন চেয়েছি।’