করোনাভাইরাসের বিস্তার রোধে প্রথম ধাপে দেওয়া লকডাউন শেষ হওয়ার আগেই ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি বলেছেন, আগামী তিন-চার সপ্তাহ তাদের জন্য খুবই গুরুত্বপূর্ণ। এই সময়ের মধ্যেই ভারত করোনার বিস্তার রোধ করতে পারবে বলেও আশাবাদী তিনি। দেশটিতে ৩০ জানুয়ারি প্রথম করোনা রোগী শনাক্তের পর থেকে আক্রান্তের সংখ্যা বেড়েই চলছে। সংক্রমণ ঠেকাতে প্রধানমন্ত্রী সারা দেশে একযোগে তিন সপ্তাহের লকডাইন ঘোষণা করেন। আগামীকাল এই লকডাউন শেষ হওয়ার কথা। যদিও ভারতীয় মিডিয়াগুলো বলছে লকডাউনের মেয়াদ বাড়বে।
বিবিসির রিপোর্ট মতে, ভারতে এখন পর্যন্ত করোনা শনাক্তে করা পরীক্ষার সংখ্যা মাত্র ১ লাখ ৮০ হাজার। পরীক্ষার মধ্যে ৪ দশমিক ৩ শতাংশের শরীরে ভাইরাসটির উপস্থিতি পাওয়া গেছে। ইতিমধ্যে ভারতে করোনায় ২৭৩ জনের মৃত্যু হয়েছে। দেশটির প্রায় ৭০০টি জেলায় আক্রান্ত শনাক্ত ও বেশ কয়েকটি হটস্পট চিহ্নিত করা গেছে। ভারত কীভাবে এই বিপর্যয় মোকাবিলা করে তা পর্যবেক্ষণ করছেন বৈশ্বিক স্বাস্থ্য গবেষকরা। ভারত একদিকে ঘনবসতিপূর্ণ, অন্যদিকে এর দুর্বল স্বাস্থ্য ব্যবস্থার কারণে খুব সহজেই করোনার সংক্রমণ ছড়িয়ে পড়তে পারে। শীর্ষস্থানীয় এক ভাইরাসবিদ বলেন, ‘দেশটির বিপুলসংখ্যক জনসংখ্যা নিয়েই চিন্তার কারণ। ভাইরাসটি ভারতে এখনো প্রাথমিক পর্যায়ে রয়েছে। আগামী তিন থেকে চার সপ্তাহে পুরো চিত্রটি পরিষ্কার হবে।’ ব্রুকিং ইনস্টিটিউশনের অর্থনীতিবিদ শামিকা রবি বিশ্বাস করেন, ভারতের অবস্থা অতটা ভালো নয়। প্রতি সাত দিনে দেশটিতে আক্রান্তের সংখ্যা দ্বিগুণ হচ্ছে। এখনো আক্রান্তের সংখ্যা বৃদ্ধি ও মৃতের হার তুলনামূলক কম। জনসংখ্যার ঘনত্বকে দাবানলের সঙ্গে তুলনা করেন তিনি। করোনার পরীক্ষার ক্ষেত্রে যে প্রটোকল মানা হয় তা দীর্ঘ জটিলতার সৃষ্টি করছে বলেও তার মত।
ভারতে ইতিমধ্যে কী পরিমাণ মানুষ আক্রান্ত হয়েছেন, তার সঠিক কোনো তথ্য নেই। দুর্বল রিপোর্টিং ও তথ্য ঘাটতিকেই কারণ বলা হচ্ছে। ইন্দোর শহরের একটি হাসপাতালে এখনই অনেক মানুষ করোনার উপসর্গ নিয়ে ভর্তি হয়েছেন। কিন্তু তাদের কোনো পরীক্ষাও হয়নি। হাসপাতালটিতে করোনা রোগীর সংখ্যা ১৪০ জনের বেশি, যাদের এক-তৃতীয়াংশের অবস্থা আশঙ্কাজনক। ভেলোরের সিএমসি হাসপাতালের ভাইরাসবিদ টি জ্যাকব জনের মতে, ভারতের উচিত সর্বোচ্চ খারাপের জন্য প্রস্তুতি নিয়ে রাখা। বিবিসিকে তিনি আরও বলেন, ‘আমার মনে হয়, এই বিপুল জনসংখ্যার মধ্যে আগামী দুই মাসে কত মানুষ আক্রান্ত হবে, তার কোনো হিসেব আমাদের কাছে নেই। আমাদের ওপর চেপে বসার জন্য ভাইরাসটি অনেক দিন সময় পেয়েছে।’ দেশটির স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয় এখন পর্যন্ত বিশ্বাস করতে নারাজ, কমিউনিটি পর্যায়ে ভাইরাসটি ছড়াতে শুরু করেছে। কিন্তু দেশের বিভিন্ন প্রান্তের ডাক্তাররা প্রতিদিন করোনার উপসর্গ নিয়ে ভর্তি হওয়ার রোগী দেখতে পাচ্ছেন। সরকার কমিউনিটি ট্রান্সমিশনের প্রতি অধিক নজর দিচ্ছে। আর একে কৌশলগত ত্রুটি বললেন ড. জন। করোনা শনাক্তে ভারতের এই মুহূর্তে লাখ লাখ কিট দরকার। কিন্তু সেই তুলনায় কিট নেই। অবিলম্বে পরীক্ষা বাড়ানো না গেলে ইউরোপের পর ভারত পরবর্তী কেন্দ্রস্থল হবে, এমনটা আগে থেকেই বলছেন বিজ্ঞানীরা। কিন্তু বিজ্ঞানীদের এই কথায় আমল দিচ্ছেন না ক্ষমতাসীনরা।