করোনাভাইরাসের সংক্রমণ ঠেকাতে বেশি বেশি টেস্ট করার জন্য বারবার আহ্বান জানাচ্ছে বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা। ভারত সরকার টেস্ট কিটের অভাব নেই বললেও এ নিয়ে আশঙ্কার কথা জানিয়েছেন বিশেশজ্ঞরা।
দেশটিতে করোনা আক্রান্তদের শনাক্ত করতে ল্যাবের সংখ্যা বাড়ানো হলেও নমুনা পরীক্ষার সংখ্যা মাত্র পনেরো থেকে বিশ শতাংশ বৃদ্ধি পেয়েছে। সরকারি এই পরিসংখ্যান নিয়ে চিন্তিত ভারতের বিশিষ্ট চিকিৎসক কুণাল সরকার।’
তার মতে, শুধু লকডাউন চালিয়ে এবং হটস্পট চিহ্নিত করে করোনা সংক্রমণ রোখা যাবে না। ফেসবুকে তিনি লিখেন, ‘নমুনা পরীক্ষা না করে শুধু লকডাউন চালিয়ে যাওয়া আসলে গুলি ছাড়া বন্দুকের মতো।’
ডা. কুণাল জানান, সরকারি হিসাবে ১২ এপ্রিল পর্যন্ত গোটা ভারতে এক লাখ ৮১ হাজার ২৬ জন সন্দেহভাজন করোনা আক্রান্তের নমুনা পরীক্ষা করা হয়েছে৷ মোট নমুনা পরীক্ষা হয়েছে ১ লাখ ৯৫ হাজারের কিছু বেশি।
এত উদ্বেগ প্রকাশ করে তিনি বলেন, ‘১৩৫ কোটির দেশে এখনও ২ লাখ মানুষের নমুনা পরীক্ষা করা গেল না? সারা দেশে প্রয়োজনের তুলনায় অনেক কম পরীক্ষা করা হচ্ছে। এভাবে চলতে থাকলে তো দেশে কী হারে সংক্রমণ ছড়াচ্ছে তা বোঝাই সম্ভব হবে না৷ এর কোনও একটা উপায় সরকারকে খুঁজে বের করতেই হবে।’
লকডাউন সফল করতে শুধু পুলিশকে ব্যবহার করে মানুষকে ঘরে আটকে রাখার চেষ্টা নিয়েও প্রশ্ন তুলেছেন কুণাল সরকার। তার মতে লকডাউনের সময় পুলিশের থেকেও বেশি করে মানুষের নমুনা পরীক্ষার জন্য প্যাথোলজিস্ট এবং স্বাস্থ্যকর্মীদের ব্যবহার করতে হবে। তা না হলে হটস্পট চিহ্নিত করে গোটা এলাকা ঘিরে রাখলেও কাজের কাজ হবে না বলে আশঙ্কা প্রকাশ করেছেন তিনি।
নমুনা পরীক্ষা করার উপরে জোর না দিলে একবার লকডাউন উঠে গেলে সংক্রমিত বহু মানুষ ভিড়ের মধ্যে মিশে যাবেন বলেও সতর্ক করেছেন ওই চিকিৎসক। যার জেরে ভারতেও যুক্তরাষ্ট্র, স্পেন, ইতালির মতো ছবি দেখতে হতে পারে।
তার আরও অভিযোগ, এমনিতেই ভারতে পরীক্ষা করার হার কম৷ তার উপরে চিকিৎসক এবং স্বাস্থ্যকর্মীদের সুরক্ষার দিকটিও উপেক্ষিত হচ্ছে। চিকিৎসকদের সুরক্ষার জন্য ভাল গুণমানের সরঞ্জামের অভাব রয়েছে অধিকাংশ হাসপাতালে। কোনও সন্দেহভাজন রোগীর করোনা পরীক্ষা করালে রিপোর্ট আসতে দুই থেকে আড়াই দিন লেগে যাচ্ছে বলেও তিনি জানান। সেই সময়ের মধ্যে সংশ্লিষ্ট রোগীর সংস্পর্শে এসে চিকিৎসক, স্বাস্থ্যকর্মী এবং হাসপাতালের অন্যান্য রোগীদের আক্রান্ত হওয়ার আশঙ্কা আরও বাড়ছে। এভাবে চলতে থাকলে দিন আগামীতে অনেক হাসপাতালই বন্ধ করে দিতে হবে।
তিনি বলেন, ‘যুক্তরাষ্ট্র, ইউরোপের তুলনায় আমাদের দেশের জনসংখ্যা তরুণ প্রজন্মের মানুষ অনেক বেশি। ফলে এ দেশে চল্লিশ বছরের আশেপাশে অনেক চিকিৎসকই আক্রান্ত হচ্ছেন৷ আর এই চিকিৎসকদের থেকেই সাধারণ মানুষের মধ্যেও রোগ ছড়িয়ে পড়ার আশঙ্কা বাড়বে।’