নভেল করোনাভাইরাসের সংক্রমণ সেইসঙ্গে সেটিকে ঠেকাতে লকডাউন, এতে স্থবির হয়ে পড়েছে অনেক দেশ। বন্ধ হয়ে গেছে উটপাদনের চাকা, বিপর্যস্ত অর্থনীতি। এতে খাদ্য সংকটে ভুগছে কোটি কোটি মানুষ।
এমন পরিস্থিতিতে কীভাবে বেঁচে থাকবে চিড়িয়াখানার পশুরা, সেই সংকট দেখা দিয়েছে জার্মানিতে।
ছুটির দিনগুলোতে দেশটির চিড়িয়াখানাগুলোতে দর্শনার্থীদের উপচে পড়া ভিড় থাকে, লকডাউনের কারণে সেগুলো এখন জনশূন্য।
আয় ও অনুদান বন্ধ হয়ে যায় আর্থিক সংকটে পড়েছে চিড়িয়াখানাগুলো। টান পড়েছে পশুদের খাবারে।
স্থানীয় সংবাদমাধ্যমকে নয়েমিন্সটার চিড়িয়াখানার ডিরেক্টর ভেরেনা কাস্পারি জানান, এক পশুকে মেরে আরেক পশুকে খাওয়ানো হবে।
তিনি বলেন, ‘আমরা তালিকা করেছি প্রথমে কোন পশুগুলো মারতে হবে।’
কাস্পারি জানান, এক পশুকে বাঁচানোর জন্য আরেক পশুকে মারার বিষয়টি ‘অপ্রীতিকর’। যদিও এর মাধ্যমে আদতে সংকট সমাধান হবে না।
উদাহরণস্বরূপ কাস্পারি জানান, সিল এবং পেঙ্গুইনের জন্য প্রতিদিন অনেক মাছ লাগে। এখন তাদের বাঁচানোর জন্য অন্যদের আমাকে মারতে হবে নয়তো ক্ষুধায় মরে যেতে হবে তাদের।
তিনি বলেন, ‘এটি খুব বিভৎস, এক প্রাণী খাওয়ানো হবে আরেক প্রাণীকে।’
চিড়িয়াখানা সংশ্লিষ্ট একটি সংগঠনের সদস্য কাস্পারি। তিনি জানান, শুধু এই বসন্তেই দেশটির চিড়িয়াখানাগুলো এক লাখ ৫২ হাজার ৪০০ পাউন্ড আয় হারাবে।
লকডাউন পরিস্থিতিতে চিড়িয়াখানাগুলো সরকারি কোনো সহায়তা পায়নি, কারণ জরুরি সেবার আওতাভুক্ত নয় এই ব্যবসা।
এদিকে জার্মানিতে করোনাভাইরাসে আক্রান্ত হয়েছেন এক লাখ ৩২ হাজারের বেশি মানুষ। এর মধ্যে মারা গেছেন প্রায় সাড়ে ৩ হাজার।