খেতে বেরিয়েছিলাম, পুলিশ মেরে বাড়ি পাঠিয়ে দিল...

করোনাভাইরাসের সংক্রমণ রোধ করতে ভারতজুড়ে চলছে লকডাউন। বিশেষজ্ঞরা বলছেন, এ পরিস্থিতিতে ভাইরাসের হাত থেকে বাঁচলেও, দেশটিতে খিদেয় মারা যেতে পারেন অনেকে।

এ পরিস্থিতিতে সবচেয়ে বিপদে পড়েছেন দিল্লি এবং পার্শ্ববর্তী এলাকায় দেশটির বিভিন্ন স্থান থেকে এসে আটকে পড়া লক্ষ লক্ষ ভাসমান শ্রমিকরা।

দিল্লি সরকার রেশনকার্ড থাকা মানুষকেই রেশন দিচ্ছে। কিন্তু সমস্যা হলো এই ভাসমান শ্রমিক-মজুরদের কাছে দিল্লির রেশনকার্ড নেই। সরকার এমন শ্রমিকদের জন্য ওয়েবসাইটে গিয়ে নাম নথিভুক্তের ব্যবস্থা করেছে। কিন্তু সেই ওয়েব পেজও গত দিন দিন ধরে কাজ করছে না।

মেহেক এবং তার স্বামী গোপাল উত্তরাখণ্ডের নৈনিতালের একটি গ্রামের বাসিন্দা। পুরোনো দিল্লির টাউন হল অঞ্চলে একটি বাড়িতে মজুরের কাজ করেন মেহেক, এখন তা বন্ধ। লকডাউনের সময়েই মেহকের (২২) কোলে এসেছে এক কন্যা শিশু। কিন্তু তাদের কাছে এখন হাসপাতালে যাওয়ার পয়সাও নেই।  

মেহেক জানান, দুই দিনে মাত্র একবার খেতে পান। শুধু এক মুঠো ভাত খেয়েছি... দুধও নামছে না....বাচ্চাকে কী খাওয়াব! বাচ্চার দিকে তাকিয়ে চোখের পানি বাঁধ মানে না বাবা গোপালের।

এই ঘটনা কেবল মেহকের একার নয়। বিহারের নওয়াদার বাসিন্দা চাঁদ রানি। হরিয়ানাতে স্বামী মদনের সঙ্গেই ঠিকা মজুরের কাজ করেন তিনি। পায়ে হেঁটে কোনোরকমে দিল্লি অবধি আসতে পেরেছেন, তারপর থেকে এখানেই।

তিনি বলেন, ঘরে খুব সামান্যই চাল রয়েছে, আর অভুক্ত পেটে রয়েছে চার ছোট ছোট সন্তান। উনুন ধরেনি কারণ রান্নার জন্য কোনও আনাজপাতিই নেই। আছে কিছু মুড়ি। যেদিন কিছুই জোটে না বাচ্চাদের সঙ্গে নিজেও জল মুড়ি খেয়েই দিন কাটিয়ে দেন।

পুরোনো দিল্লি রেল স্টেশনে নিজের ঝুপড়ির বাইরে দাঁড়িয়েছিলেন বিহারের সিওয়ান জেলার শংকর কুমার। শংকর বলেন, টাকা শেষ, রেশনও শেষ হয়ে গেছে...এই ঝুপড়ির ভেতরেই রেশনের খালি কৌটো পড়ে আছে.....কাল পাশের স্কুলে দিল্লির সরকার খাওয়ানোর ব্যবস্থা করেছিল। খেতে বেরিয়েছিলাম, পুলিশ মেরে বাড়ি পাঠিয়ে দিল।

সূত্র: এনডিটিভি অনলাইন।