চিতলমারীতে মসজিদের ইমামের করোনা শনাক্ত, চার বাড়ি লকডাউন

বাগেরহাটের চিতলমারীতে ভাঙা থেকে আসা মসজিদের এক ইমামের শরীরে করোনাভাইরাসের সংক্রমণ শনাক্ত হয়েছে। খুলনা মেডিকেল কলেজ (খুমেক) হাসপাতালের পিসিআর ল্যাবে নমুনা পরীক্ষায় তার শরীরে করোনা সংক্রমণ শনাক্ত হয়।

বুধবার দুপুরে খুমেক পিসিআর থেকে বাগেরহাটের স্বাস্থ্য বিভাগের কাছে এই তথ্য আসার পর শনাক্ত হওয়া ওই ব্যক্তির বাড়িসহ চারটি বাড়ি লকডাউন ঘোষণা করেছে প্রশাসন। এছাড়া, করোনা টেস্টের জন্য ওই ব্যক্তির বাড়ির সবার নমুনা সংগ্রহ করছে স্বাস্থ্য বিভাগ।

বাগেরহাটের সিভিল সার্জন ডা. কে এম হুমায়ুন কবির এই প্রতিবেদককে বলেন, করোনা আক্রান্ত ওই ব্যক্তি সম্প্রতি ফরিদপুর থেকে নিজের গ্রামের বাড়িতে ফিরেছেন। মঙ্গলবার পর্যন্ত বাগেরহাটের বিভিন্ন উপজেলা থেকে মোট ৫৪ জনের নমুনা সংগ্রহ করে খুলনা মেডিকেল কলেজের পিসিআর ল্যাবে পাঠানো হয়েছে।

তিনি জানান, জেলায় এই প্রথম কোন করোনা রোগী শনাক্ত হলো। খুমেক পিসিআর থেকে তথ্য আসার পর বুধবার বিকেলে জেলা প্রশাসক মো. মামুনুর রশীদ, পুলিশ সুপার পঙ্কজ চন্দ্র রায় এবং স্বাস্থ্য বিভাগের একটি মেডিকেল টিমকে সঙ্গে নিয়ে ওই রোগীর বাড়িতে যাই। সেখানে গিয়ে নতুন করে ওই রোগীর আবারও স্বাস্থ্য পরীক্ষা করে স্বাস্থ্য বিভাগ। আক্রান্তের শরীরে করোনা ভাইরাসের যেসব উপসর্গ থাকার কথা তা এখন নেই। তিনি এখনো আগের মতো সুস্থ স্বাভাবিক আছেন। তাকে বাড়িতে রেখেই চিকিৎসা দেয়া হবে। করোনা ভাইরাসের আক্রান্তের খবরে আতঙ্কিত না হয়ে জেলাবাসীকে ঘরে থাকার অনুরোধ জানান এই স্বাস্থ্য কর্মকর্তা।

চিতলমারী উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মো. মারুফুল আলম বলেন, করোনা আক্রান্ত ব্যক্তি ফরিদপুরের ভাঙার একটি মসজিদের ইমাম ছিলেন। তার বয়স ৩৫ বছর। জেলার বাইরে থেকে আসায় গত ১১ এপ্রিল স্বাস্থ্য বিভাগ তার বাড়িতে যায়। তার শরীরে করোনা ভাইরাস সংক্রমণের উপসর্গ না থাকলেও বাইরের জেলা থেকে আসায় তার শরীরের নমুনা সংগ্রহ করে পরীক্ষার জন্য পাঠানো হয়। রিপোর্টে তার শরীরে করোনা পজিটিভ শনাক্ত হওয়ায় আমরা ওই বাড়িসহ পাশের তিনটি বাড়ি লকডাউন করেছি। লকডাউন করা বাড়িগুলোতে থাকা সবাইকে ঘর থেকে বের না হতে বলা হয়েছে।