ফরিদপুরে করোনাভাইরাসজনিত রোগ পরীক্ষায় স্বাস্থ্য বিভাগসহ বিভিন্ন মহল প্রস্তুতি গ্রহণ করেছে। তারপরও কাজের গতিতে মন্থর ভাব পরিলক্ষিত হচ্ছে।
ফরিদপুর শহরের প্রাণকেন্দ্রে অবস্থিত ১১৫ শয্যার জেনারেল হাসপাতালটি করোনা রোগী চিকিৎসার উপযোগী করে প্রস্তুত করা হচ্ছে। এদিকে ফরিদপুর মেডিকেল কলেজে করোনা পরীক্ষার জন্য গত রবিবার পিসিআর মেশিন স্থাপন করা হলেও এ মেশিনের সংশ্লিষ্ট অটো ক্লিব মেশিন না আসায় বুধবার পর্যন্ত পরীক্ষাগারে পরীক্ষা কার্যক্রম শুরু করা যায়নি।
ফরিদপুরের সিভিল সার্জন মো. ছিদ্দীকুর রহমান জানান, সোমবার ফরিদপুর জেনারেল হাসপাতালকে করোনা রোগীদের চিকিৎসার জন্য প্রস্তুত করার কাজ শুরু হয়েছে। মঙ্গলবার থেকে এ হাসপাতালে অন্যান্য রোগী ভর্তি করা বন্ধ করে দেওয়া হয়েছে। আপাতত ৫০ জন রোগীর চিকিৎসার সক্ষমতার জন্য হাসপাতালটি প্রস্তুত করা হচ্ছে। প্রয়োজন হলে শয্যা সংখ্যা বাড়িয়ে একশ করা হবে।
তিনি বলেন, রোগীদের চিকিৎসার জন্য জ্যেষ্ঠ চিকিৎসক, চিকিৎসক, নার্স, সুপারভাইজার স্যাকমো, ওয়ার্ড বয়, আয়া ও সুইপার নিয়ে ৬১ সদস্য বিশিষ্ট একটি টিম গঠন করা হয়েছে। এ জাতীয় জনবল সমৃদ্ধ মোট তিনটি দল গঠন করা হবে। প্রতিদল সাত দিন করে চিকিৎসাসেবা প্রদান করবে এবং পরে ১৪দিন ওই টিমের সদস্যদের অফিশিয়াল কোয়াররেন্টাইনে রাখা হবে।
সিভিল সার্জন বলেন, টিমের সদস্যদের আবাসন, পোশাক, যাতায়ত, নিরাপত্তা ও খাবারের সরবরাহ নিশ্চিত করার জন্য জেলা প্রশাসকের নিকট চাহিদা দেওয়া হয়েছে।
সিভিল সার্জন বলেন, জেনারেল হাসপাতালে এ পর্যন্ত দুই হাজার ৪০০ পিপিই পাওয়া গেছে। কিন্তু সে পিপিইর কোনটিই সত্যিকারের সুরক্ষা দেওয়ার মত নয়। এছাড়া এক হাজার ৮০০ মাস্ক পাওয়া গেছে। যার মধ্যে এন-১৯ মানের কোন মাস্ক নেই। সেবাপ্রদানকারী চিকিৎসক ও কর্মীদের নিরাপত্তার জন্য কার্যকর পিপিই ও মাস্ক প্রয়োজন।
ফরিদপুর মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের পরিচালক মো. সাইফুর রহমান বলেন, এ হাসপাতালে ১৬ শয্যার একটি আইসি ইউনিট আছে। এ ইউনিটের ১৬টি ভেন্টিলেটর স্থাপনের পাঁচ বছরের মধ্যে চালু না করার নষ্ট হয়ে পড়ে ছিল। ঢাকা থেকে প্রকৌশল দল এনে ১৬টির মধ্যে ১০টি ভেন্টিলেটর কার্যক্ষম করা হয়েছে। বাকিগুলি চালু করার জন্য কাজ চলছে।
তিনি বলেন, ভেন্টিলেটর চালু হলেও আইসিউ ইউনিট এখনও পুরোপুরি চালু হয়নি। এটি কার্যক্ষম করতে আরও সময় লাগবে এবং কিছু যন্ত্রপাতি বিদেশ থেকে আমদানি করতে হবে। সমগ্র সিস্টেম চালু না করে আইসিউ ইউনিট কার্যকর করা সম্ভব না।
ফরিদপুরের জেলা প্রশাসক অতুল সরকার বলেন, জেনারেল হাসপাতালে যে আবাসিক কোয়ার্টার রয়েছে সেগুলি খালি করে ওই টিমের চিকিৎসকসহ দলের সকল সদস্যকে রাখার ব্যবস্থা করা হলে সবচেয়ে ভালো হয়। তবে পাশাপাশি একটি আবাসিক হোটেলও ওই টিমের সদস্যদের জন্য বরাদ্দ দেওয়া হয়েছে। যানবাহনের ব্যবস্থা করা হয়েছে, দলের সদস্যদের খাবারের ব্যবস্থা করতে হলে তাও করা হবে।
জেলা প্রশাসক আরও বলেন, ফরিদপুর জেনারেল হাসপাতলে কার্যকর পিপিই ও মাস্ক সরবরাহ করা হয় নি, এ তথ্য সঠিক নয়। ওই হাসপাতালে এ পর্যন্ত অন্তত পাঁচশ কার্যকর পিপিই ও এন-৯৫ মাস্ক সরবরাহ করা হয়েছে।
এদিকে ফরিদপুর মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের চারতলায় করোনা রোগীদের পরীক্ষার জন্য গত রবিবার পিসিআর মেশিন স্থাপন করা হলেও এ মেশিনের সংশ্লিষ্ট অটো ক্লিব মেশিন না আসায় বুধবার পর্যন্ত পরীক্ষারে পরীক্ষা কার্যক্রম শুরু করা যায়নি।
ফরিদপুর মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের অধ্যক্ষ এসএম খবিরুল ইসলাম বলেন, যে ঠিকাদার প্রতিষ্ঠান পিসিআর মেশিন সরবরাহ করেছে তারা মেশিনের সংশ্লিষ্ট অটো ক্লিব মেশিনটি সরবরাহ করেনি। ফলে পরীক্ষার কার্যক্রম শুরু করা যাচ্ছে না। ওই ঠিকাদার প্রতিষ্ঠানের সাথে এ ব্যাপারে বুধবারও যোগাযোগ করা হয়েছে। তারা জানিয়েছে ওই মেশিনটি বিদেশ থেকে আসা মাত্রই সরবরাহ করা হবে। আগামি ১৮ এপ্রিল ওই প্রতিষ্ঠান মেশিনটি সরবরাহ করতে পারবে বলে প্রতিশ্রুতি দিয়েছে। সেটি এলে আগামী ২২ বা ২৩ এপ্রিল থেকে এ ল্যাবে পরীক্ষার কার্যক্রম শুর করা যাবে।
তিনি বলেন, যারা এ পরীক্ষার কাজ করবেন বৃহস্পতিবার থেকে তাদের প্রশিক্ষণের কাজ শুর করা হবে।