ঈশ্বরদী শহরের শতবর্ষী ‘ফকিরের বটতলা’র বটগাছটি এক আওয়ামী লীগ নেতার কেটে ফেলার চেষ্টা প্রশাসন বন্ধ করেছে। তবে গাছটির বেশ কয়েকটি বড় মোটা ডাল কেটে ফেলা হয়েছে। এতে গাছটির সৌন্দর্য নষ্ট হয়েছে।
বাংলা নববর্ষের দিন গত মঙ্গলবার ঈশ্বরদী পৌর আওয়ামী লীগের সহসভাপতি আতাউর রহমান বাবু ফকির উপস্থিত থেকে চার-পাঁচজন শ্রমিক লাগিয়ে বটগাছটি কাটার কাজ শুরু করেন। খবর পেয়ে ঈশ্বরদী উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা শিহাব রায়হান ঘটনাস্থলে গিয়ে গাছ কাটা বন্ধ করার নির্দেশ দেন। কিন্তুু ততক্ষণে বিশাল এই গাছের বেশ কয়েকটি মোটা ডাল কাটা হয়ে যায়। গাছটি রেলের জমিতে হওয়ায় পাকশী বিভাগীয় রেল কর্তৃপক্ষ কাটা ডাল জব্দ করেছে। তবে এ ঘটনায় রেল কর্তৃপক্ষ কোনো মামলা বা থানায় অভিযোগ করেনি।
সংস্কৃতিকর্মী ও সাংবাদিক মাহবুবুল হক দুদু বলেন, এ বটগাছটি কেটে ফেললে শহরের ঐতিহ্য ও সৌন্দর্য দুটোই নষ্ট হবে। এ গাছের ছায়া থেকে বঞ্চিত হবে শত শত মানুষ। ঈশ্বরদী নাগরিক কমিটির আহ্বায়ক অ্যাডভোকেট মুস্তাফিজুর রহমান খান কামাল বলেন, রেল বা সরকারি কোনো গাছ কেউ ব্যক্তিস্বার্থে কেটে ফেলতে পারে না।
জানতে চাইলে আওয়ামী লীগ নেতা আতাউর রহমান বাবু ফকির বলেন, ‘আমার বাড়ির সামনের দিকে মার্কেট করার প্রয়োজনে এবং বটগাছের এই ডাল আমার বাড়ির দিকে ঝুঁকে পড়ার কারণে গাছটি কেটে ফেলতে লোক লাগিয়েছিলাম।’
পাকশী বিভাগীয় রেলওয়ে ম্যানেজার (ডিআরএম) আসাদুল হক বলেন, খবর পেয়ে লোক পাঠিয়ে গাছের কেটে ফেলা কয়েকটি ডাল উদ্ধার করা হয়েছে। বিষয়টি রেলের সংশ্লিষ্ট বিভাগকে তদন্ত করার জন্য বলা হয়েছে। ঈশ্বরদী উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা শিহাব রায়হান বলেন, গাছটি কেটে ফেললে শহরের সৌন্দর্য নষ্ট হবে। সে কারণে গাছ কাটা বন্ধ রাখতে নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।