করোনায় ব্যক্তি থেকে ব্যক্তি আক্রান্ত ‘একজনের কম’

বঞ্চনার শেষ নেই করোনাভাইরাসে আক্রান্ত রোগীর। পাছে আক্রান্ত হয়ে যান ভেবে কভিড-১৯ রোগীর সংস্পর্শে আসতে চান না নিকটাত্মীয়রা। অথচ জার্মানিতে এক গবেষণায় দেখা গেছে আক্রান্ত ব্যক্তি থেকে অন্যদের মধ্যে করোনায় ছাড়ানোর হার ‘খুবই কম’।

জার্মানির রোগ নিয়ন্ত্রণ সংস্থা রবার্ট কোচ ইনস্টিটিউট কর্তৃক বৃহস্পতিবার প্রকাশিত প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, আক্রান্ত ব্যক্তি থেকে অন্য ব্যক্তি করোনাভাইরাসে আক্রান্তের সংখ্যা একজনেরও কম, ০.৭।

‘পারসন-টু-পারসন’ আক্রান্তের এই হারে জার্মানির লকডাউন শিথিলে দেশটির রাজনীতিবিদদের নেওয়া পদক্ষেপকে যুক্তিযুক্তই মনে হচ্ছে।

পরিস্থিতি বিবেচনায় বুধবার লকডাউন শিথিলের ঘোষণা দেন দেশটির চ্যান্সেলর অ্যাঙ্গেলা মের্কেল। আগামী সোমবার থেকে ৮০০ মিটার আকারের দোকানগুলোকে প্রয়োজনীয় স্বাস্থ্য নিরাপত্তা নিশ্চিত করে খোলার অনুমতি দেওয়া হয়েছে। আর ৪ মে থেকে খোলা শুরু হবে স্কুলগুলো। যদিও জনসমাগমের ওপর বিধিনিষেধ এখনো বহাল রাখা হয়েছে।

মের্কেল জানিয়েছিলেন, পারসন-টু-পারসন আক্রান্তের সংখ্যা একজনের মধ্যে থাকলে লকডাউন শিথিলের এটাই সঠিক সময়।

সেই সঙ্গে চ্যান্সেলর বলেছিলেন “যদি একজন আক্রান্ত ব্যক্তি থেকে অন্যদের আক্রান্ত হওয়ার সংখ্যা ১.১ হয়, সে ক্ষেত্রে আমাদের স্বাস্থ্য ব্যবস্থা ও ইনটেনসিভ কেয়ার বেড অনুযায়ী অক্টোবর পর্যন্ত পরিস্থিতি সামাল দিতে পারব আমরা। যদি সংখ্যা ১.২ হয়... আমাদের স্বাস্থ্যব্যবস্থা অনুযায়ী জুলাই পর্যন্ত সামাল দিতে পারব।”

পারসন-টু-পারসনে আক্রান্তের হার জার্মান সরকার প্রধানের অনুমানের চেয়েও কম এসেছে রবার্ট কোচ ইনস্টিটিউটের প্রতিবেদনে। দেশটি ধাপে ধাপে লকডাউন উঠিয়ে নেওয়ার যে সিদ্ধান্ত নিয়েছে এই গবেষণার ফল অনুযায়ী সেটাকে যথার্থই বলতে হবে।

ইউরোপের দেশগুলোতে করোনা নিয়ন্ত্রণে বেশ সফল জার্মানি। ইতালি, স্পেন, ইংল্যান্ড, ফ্রান্সের তুলনায় দেশটিতে মৃতের সংখ্যা অনেক কম। ইউরোপের সবচেয়ে বৃহত্তম অর্থনীতির দেশটিতে আক্রান্তের সংখ্যা ১ লাখ ৩৭ হাজার ছাড়ালেও মৃতের সংখ্যা মাত্র ৪ হাজার।