করোনাভাইরাসের সংক্রমণের কারণে সাধারণ ছুটি ঘোষণা চলছে। রাজধানী ঢাকাসহ সারা দেশে গণপরিবহন বন্ধ। সড়কে মানুষের চলাচলে কড়াকড়ি। স্বল্প পরিসরে শুধু খোলা রয়েছে কাঁচাবাজর। পোশাক কারখানা, আদালত বন্ধ রয়েছে সবই। আর এতে বিপদে পড়েছেন খেটে-খাওয়া মানুষরা।
তাদেরই একজন মো. লিটন। কাজ করেন মুচির। নিজস্ব কোনো জায়গা নেই বসার। রাস্তায় ঘুরে ঘুরে জুতা সেলাই ও পালিশ করা তার কাজ। রাস্তায় মানুষের চলাচল না থাকায় তার রোজগার প্রায় বন্ধ হয়ে গেছে। এতে করে স্ত্রীকে নিয়ে তার সংসার চালানো কঠিন হয়ে পড়েছে।
শুক্রবার রাজধানীর টিকাটুলিতে দেশ রূপান্তরের এ প্রতিবেদকের সঙ্গে কথা হয় লিটনের। গোপীবাগের রেললাইনের পাশের এক বস্তিতে থাকেন তিনি।
দেশ রূপান্তরকে লিটন বলেন, সাধারণ ছুটি ঘোষণার পর রাজধানীর অধিকাংশ মানুষ নিজ নিজ গ্রামের বাড়ি চলে যান। যারা রাজধানীতে আছেন, তাদের রাস্তায় বের হওয়া নিষেধ। এ অবস্থায় ওই দিন থেকেই তার আয়-রোজগার কমে গেছে। পরিবার নিয়ে চলতে কষ্ট হচ্ছে। বাড়িওয়ালাকে বুঝিয়ে দুই মাস বাসা ভাড়া স্থগিত করেছেন। পরিবেশ পরিস্থিতি স্বাভাবিক হলে কিস্তিতে বাসা ভাড়া দেওয়ার অঙ্গীকার করেছেন। এখন বাড়ি ভাড়া না লাগলেও খাওয়া-দাওয়াই মুশকিল হয়ে পড়েছে। প্রতি মাসে তাকে তিন হাজার টাকা বাড়ি ভাড়া দিতে হয়।
তিনি বলেন, গত কয়েক দিন ধরে ৭০/৮০ টাকা আয় হচ্ছে তার। শুক্রবার সকাল ১০টায় বাসা থেকে বের হয়েছেন। বিকেল চারটা পর্যন্ত তার আয় হয়েছে মাত্র ৭০ টাকা। এ টাকা দিয়ে চাল কিনবেন, না ডাল কিনবেন তা বুঝতে পারছেন না। লিটন বলেন, কেউ আমাকে কোনো ত্রাণ দেয়নি। চাইলে বলে তুমি তো কাজ করো। কিন্তু কীভাবে বোঝাব যে রাস্তায় মানুষ না থাকলে কাজ করব কোথায়?
ছুটি ঘোষণার পর বাড়ি যাননি কেন জানতে চাইলে তিনি বলেন, তার গ্রামের বাড়ি ব্রাহ্মণবাড়িয়ায়। চেষ্টা করেছিলেন যাওয়ার। কিন্তু সে সময় দেড় শ টাকার গাড়ির টিকিটি দুই হাজার/তিন হাজার টাকা করে নিয়েছে। এত টাকা কোথায় পাব? তাই বাড়ি যাওয়া হয়নি। বাধ্য হয়ে ঢাকায় থেকে গেছি।