লকডাউন: পরিবার চালাতে ডিম বিক্রি করছে কলেজের ‘ফার্স্ট বয়’

করোনাভাইরাসের (কভিড-১৯) প্রাদুর্ভাবের কারণে বদলে গেছে বিশ্ব। ধনী থেকে দরিদ্র সবার জীবনে পড়েছে প্রভাব। তবে লকডাউন পরিস্থিতির কারণে বিপাকে পড়েছে মধ্যবিত্ত থেকে শুরু করে দরিদ্র মানুষগুলো।

জীবন বদলে যাওয়া এমনই একজন অয়ন সেন। মালবাজার আদর্শ বিদ্যাভবনের ‘ফার্স্ট বয়’ এখন পরিবার চালাতে বিক্রি করছেন ডিম। উচ্চ মাধ্যমিকের সব পরীক্ষা এখনো শেষ হয়নি তার।

আনন্দবাজার জানায়, মুখে মাস্ক থাকায় পরিচিত মানুষকেও চিনতে একটু সময় লাগছে। তবুও এর মধ্যে মালবাজারের ঘড়িমোড়ের আপৎকালীন আনাজ বাজারে ডিম বেচতে বসা অয়নকে অনেকেই চিনে ফেলছিলেন।

করোনার জেরে উচ্চ মাধ্যমিকের বাকি পরীক্ষা জুনে হবে বলে শিক্ষা দপ্তর জানিয়েছে। বিজ্ঞান বিভাগের পদার্থবিদ্যা, রসায়নের মতো পরীক্ষা এখনো বাকি। কিন্তু তত দিন তো সংসারটা টানতে হবে। তাই বাবা দীনেশ সেন আনাজ নিয়ে বাজারে বসছেন। তার থেকে একটু দূরে ডিম বেচতে বসছে অয়ন সেন।

অভাবের সঙ্গে অয়নের লড়াই নতুন নয়। সেই যুদ্ধ করতে করতেই দুই বছর আগে মাধ্যমিকে ৭০০ নম্বরের মধ্যে ৬১৩ পেয়ে পাস করেন তিনি। প্রথম হয়েছিলেন স্কুলে। এই অভাবী মেধাবী ছাত্রটিকে সাহায্য করতে এগিয়ে আসেন মালবাজারের অনেকে।

অয়নের বাবা দীনেশ দর্জির কাজ করে সংসার চালান। কিন্তু লকডাউনের জেরে এক সপ্তাহের মধ্যেই বন্ধ তার সেলাই মেশিন। সংসার সামলাতে তাই তিনি আনাজ নিয়ে বসতে শুরু করেছেন মালবাজারের আপৎকালীন বাজারগুলোতে।

নতুন করে আনাজের দোকান বাড়তে থাকায় স্থায়ী ব্যবসায়ীরা একটু মনঃক্ষুণ্ন হচ্ছিলেন বলে জানান দীনেশ। তার কথায়, এ নিয়ে চাপ বাড়ছিল। বাড়িতেও সেই কথা আলোচনা করেছেন তিনি। এর পরেই অয়ন মালবাজারে বস্তা পেতে ডিম নিয়ে বসতে শুরু করেন।

ত্রাণ পেয়েছেন কিনা জানতে চাইলে দীনেশ বলেন, ‘পেয়েছি। তা দিয়ে দু-এক দিন যায়।’

এ সময় আক্ষেপের সুরে তিনি বলেন, ‘ছেলে রাস্তায় বসে ডিম বেচবে, এটা কোনো দিনই চাইনি।’

অয়ন ক্রেতাদের মুখের দিকে তাকাতে ইতস্তত বোধ করে, পাছে যদি কেউ ওকে চিনে ফেলে।

‘বাড়িতে বসে পড়াশোনা করলে ভালো ফল করতে পারতাম’ এর বেশি আর কিছুই বলতে পারেননি অয়ন।

আদর্শ বিদ্যাভবনের প্রধান শিক্ষক উৎপল পাল বলেন, ‘অয়নের মতো ছাত্রকে অভাবের তাড়নায় দোকান দিতে হচ্ছে, এটা শোনাও দুর্ভাগ্যের। আমরা ব্যবস্থা  নিচ্ছি।’