কুষ্টিয়ায় ক্ষুধার্তের বিক্ষোভ

কুষ্টিয়ায় লকডাউনে কর্মহীন মানুষকে খাদ্য সহায়তার দাবিতে বিক্ষোভ ও কুষ্টিয়া-ঝিনাইদহ মহাসড়ক অবরোধ করেছে বিভিনড়ব শ্রমজীবী মানুষ। গতকাল শুক্রবার দুপুর ১২টার দিকে সদর উপজেলার ৪নং বটতৈল ইউনিয়ন এলাকায় ঘণ্টাব্যাপী বিক্ষোভ করে তারা। খবর পেয়ে তাৎক্ষণিক বটতৈল ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান এমএ মোমিন মণ্ডল ঘটনাস্থলে গিয়ে বিক্ষুব্ধদের শান্ত করার চেষ্টা করেন। নতুন তালিকা করে খাদ্য সহায়তা বাড়ি বাড়ি পৌঁছে দেওয়া হবে ইউপি চেয়ারম্যানের আশ্বাসে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আসে।

বিক্ষোভে অংশ নেওয়া অটোরিকশাচালক সলিম মিয়া বলেন, ‘করোনাভাইরাস থেকে নিজের ও পরিবারের মানুষগুলোকে রক্ষা করতে কাজকর্ম ছেড়ে দিয়ে বাড়িতে থাকছি। কিস্তির টাকা শোধ দেওয়ার পর আমাদের হাতে কোনো সঞ্চয় থাকে না। আর এখন তো সবই বন্ধ। বৃদ্ধ মা, স্ত্রী, সন্তান নিয়ে খাব কী?’

শিশিরপাড়া এলাকার নির্মাণ সহকারী শ্রমিক আছিয়া খাতুন বলেন, ‘আমার ঘরে চাইল, আটা কিছুই নেই। শুনতিচি নিতারা, পুশাসনের লোক বাড়ি বাড়ি চাইল দিয়ে আসতেচে। কই আমারে তো কোনো খোঁজ লেচ্ছেনা কেউ। প্যাটে খিদি চোকি লজ্জা করি আর কতকন থাকপো? সরকারের রিলিপ দেচ্ছে দেকি দেকি, তালি আমরা গরিব মানুষ কোনে যায়ে দাঁড়াবো? তাই বাধ্য হয়ে আইজ রাস্তায় আইচি।’

খাদ্য সহায়তার দাবিতে কর্মহীনরা বিক্ষোভ করেছ এমন সত্যতা স্বীকার করে ইউপি চেয়ারম্যান এমএ মোমিন ম-ল বলেন, ত্রাণ বিতরণে কোনো স্বজনপ্রীতি হয়নি। ইউনিয়নের ৯টি ওয়ার্ডে ৪শ’ পরিবারের মধ্যে খাদ্যসহায়তা দেওয়া হয়েছে। বিক্ষোভকারীরা স্থানীয় মেম্বরদের ওপর ক্ষোভ থাকায় তারা বিক্ষোভ করেছে। চাহিদার তুলনায় বরাদ্দ কম থাকায় সবাইকে ত্রাণ দেওয়া সম্ভব হচ্ছে না। তবে আগামীতে পর্যায়ক্রমে সবাইকে খাদ্য সহায়তা দেওয়া হবে।

সদর উপজেলা নির্বাহী অফিসার জুবায়ের হোসেন চৌধুরী বলেন, বিক্ষোভের খবর আমি শুনেছি। ওই ইউনিয়নের চেয়ারম্যানকে বলেছি, বাদ পড়াদের সংযোজন করে নতুন তালিকা করতে। যারা বঞ্চিত হয়েছেন তাদের সবাইকে খাদ্য সহায়তার আওতায় আনা হবে।