‘সাভারে আসার ভিসা তোমারে কে দিছে’: সাংবাদিককে হুমকি চেয়ারম্যানের

ত্রাণ নিয়ে সাভার উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার (ইউএনও) অনিয়মের সংবাদ প্রকাশ করায় মতিউর রহমান ভান্ডারী নামে দৈনিক যুগান্তরের সাভার প্রতিনিধিকে হুমকি দিয়েছেন উপজেলা পরিষদের চেয়ারম্যান মঞ্জুরুল আলম রাজীব।

যুগান্তরের সাভার প্রতিনিধিকে মোবাইল ফোনে দেওয়া অডিও রেকর্ড এ প্রতিবেদকের কাছে রয়েছে।

অডিও থেকে জানা যায়, স্বেচ্ছাসেবক লীগ নেতা সায়েম মোল্লা তার ব্যক্তিগত মোবাইল থেকে ওই সাংবাদিককে ফোন দেন। পরে তিনি নিজের পরিচয় দিয়ে উপজেলা চেয়ারম্যান তার সঙ্গে কথা বলবে বলে ফোনটি হস্তান্তর করেন।

এ সময় অপর পাশ থেকে মঞ্জুরুল আলম রাজীব পরিচয় দিয়ে উপজেলা চেয়ারম্যান বলেন, আমার ইউএনও চেয়ারম্যানদের কাছ থেকে টাকা নিয়েছে কীসের ভিত্তিতে তুমি লিখেছ?

তিনি আরো বলেন, আমিও পত্রিকা চালিয়েছি কিছু কাল, কবে আসছো সাভারে, ভিসা কার কাছ থেকে নিয়েছো তুমি? এত খুচাইয়ো না, উপজেলা পরিষদে কিন্তু মঞ্জুরুল আলম রাজীব বসে থাকে, বেশি বাড়াবাড়ি কইরো না।

তিনি বলেন, হ্যাঁ আমরা তো একটা ফান্ড ক্রিয়েট করছি।

এ সময় তিনি ওই সাংবাদিককে শাসিয়ে বলেন, ‘তুমি কত বড় সাংবাদিক হয়ে গেছ যে সাভারের নির্বাহী অফিসারকে প্রশ্ন করো, এটা কুড়িগ্রামের ইউএনও পাও নাই। তোমার পেছনে আজকে থেকে মনে করবা আবার অন্য ধরনের কিছু সাংবাদিক ঘুরবে যাও। তোমার সম্পাদককে বইলো তুমি’।

দৈনিক যুগান্তরের সাভার প্রতিনিধি বলেন, উপজেলা চেয়ারম্যান তার ফোনে ফোন দিয়ে তাকে শাসিয়েছেন। এখন তিনি ও তার পরিবারের সদস্যরা নিরাপত্তাহীনতায় ভুগছেন। যে কোনো সময় ওই চেয়ারম্যানের লোকজন তার বড় ধরনের ক্ষতি করতে পারে বলেও তিনি আশঙ্কা করছেন।

এ ঘটনায় সাভার মডেল থানায় একটি সাধারণ ডায়েরি দায়েরের প্রস্তুতি নিচ্ছে বলেও জানান ওই সাংবাদিক।

এ ব্যাপারে উপজেলা চেয়ারম্যান মঞ্জুরুল আলম রাজীবের সঙ্গে যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তাকে পাওয়া যায়নি।

অভিযুক্ত ইউএনও পারভেজুর রহমানকে শনিবার রাতে এ বিষয়ে ফোন করা হলেও তার সঙ্গে কথা বলা সম্ভব হয়নি।

সাংবাদিককে চেয়ারম্যানের হুমকি দেওয়া বিষয়ে সাভার মডেল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) এ এফ এম সায়েদ জানান, বিষয়টি তিনি শুনেছেন। এ বিষয়ে লিখিত অভিযোগ পেলে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।

সাভারের বিভিন্ন ইউপি চেয়ারম্যানদের কাছ থেকে করোনা ফান্ডের কথা বলে ৫০ হাজার থেকে এক লাখ পর্যন্ত টাকা আদায় করেন উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা। চেয়ারম্যানদের অভিযোগ তারা জানেন না এসব টাকা কোথায় খরচ করা হয়েছে।

তবে অভিযোগ বিষয়ে ইউএনও তখন তিনি বলেন, আমার বিরুদ্ধে আনা অভিযোগ সম্পূর্ণ মিথ্যা। ত্রাণ বিতরণ করা হচ্ছে এবং হবে। ত্রাণ নিয়ে কোনো লুকোচুরি করা হচ্ছে না।

এ বিষয়ে সংবাদ প্রকাশের পর ওই প্রতিবেদককে হুমকি দেন উপজেলা পরিষদের চেয়ারম্যান মঞ্জুরুল আলম রাজীব।