খেলোয়াড়ি জীবনে ডিয়েগো মারাডোনাকে পেয়েছিলেন প্রতিপক্ষ হিসেবে। আর এখন লিওনেল মেসিকে দেখছেন প্রতিপক্ষ শিবিরের ডাগআউটে দাঁড়িয়ে। লেগানেসের কোচ হাভিয়ের আগিররে’র চোখে দুই আর্জেন্টাইনের দুজনই অসাধারণ ফুটবলার। পার্থক্য এক জায়গাতেই, আচরণে।
‘লিও খুবই শান্ত মানুষ। সাধারণ একজন, আপনি কেবল তাকে বলটা দেবেন কখনোই দেখবেন না কোচ, রেফারিকে লক্ষ্য করে মেসি চিৎকার করছে। এমনকি আপনি যদি তাকে লাথিও মারেন, তবুও না’, ম্যারাডোনার বিপক্ষে মেক্সিকোর হয়ে চার বার খেলার অভিজ্ঞতা থেকে কিংবদন্তির আচরণ সম্পর্কে আগিররে বলেন, ‘এদিক দিয়ে ও (ম্যারাডোনা) ছিল আলাদা। মাঠে রেফারি, সতীর্থদের সঙ্গে প্রচুর কথা বলত। মেসি তেমন নয়। তবে দুজনেই অসাধারণ। আপনি মাঠে তাদের দেখে আনন্দ পাবেন, এমনকি তারা যদি আপনার প্রতিপক্ষও হয়।’
ইএসপিএনকে দেওয়া সাক্ষাৎকারে দুই কিংবদন্তির কথা বলতে গিয়ে এসব বলেছেন আগিররে। সাবেক এই মিডফিল্ডার ১৯৮৩ থেকে ১৯৯২ পর্যন্ত খেলেছেন মেক্সিকোর হয়ে। পরে ২০০২ ও ২০১০ সালে কোচিং করিয়েছেন স্বদেশকে। ওসাসুনা, আতলেতিকো মাদ্রিদ, জারাগোজা, এসপানিওল হয়ে এখন লেগানেসের কোচ ৬১ বছর বয়সী আগিররে। ২০০২ সালের বিশ্বকাপের পরই যোগ দেন ওসাসুনায়। তখনই ছোট্ট মেসির খেলা প্রম নজরে আসে তার। ইএসপিএনকে দেওয়া সাক্ষাৎকারে আগিররে বলেছেন, ‘সেভিয়ার মাঠে আমাদের খেলা ছিল। ম্যাচের আগে আমি অনুশীলন করাচ্ছিলাম। আমার ম্যানেজার আমাকে ডাকলেন, পাশের মাঠে যুবদলের একটা ম্যাচ চলছিল, সেভিয়া বনাম বার্সেলোনা। আমাকে বললেন- বার্সেলোনার ওই ছোট্ট ছেলেটাকে দেখো, লম্বা চুলৃ৪ ফুট ১১ ইঞ্চি লম্বা। ১০ মিনিটের মধ্যে ছেলেটা গোল করল, কেউ তাকে আটকাতে পারল না, কোনো সুযোগই ছিল না। পরের বছর ওসাসুনা খেলল বার্সেলোনার বিপক্ষে এবং সে (মেসি) ছিল বিস্ময়কর, চমৎকার।’
এস্পানিওলে কোচের দায়িত্ব পালনের সময়কার উল্লেখ করে আগিররে বলেন, কখনোই মেসিকে আটকানোর সহজ কোনো উপায় পাননি, ‘আমি তাকে থামাতে সব ধরনের চেষ্টা করেছি। মার্কিংয়ে এক বনাম এক, দুই বনাম এক, ফাউল করেছি, কিন্তু সে অপ্রতিরোধ্য।’
রেকর্ড ছয়বারের বর্ষসেরা ফুটবলারকে নিয়ে কিছু বলতে গেলে স্বাভাবিকভাবেই যেন পাঁচবারের বর্ষসেরা ক্রিস্তিয়ানো রোনালদোর নাম চলে আসে। তবে সাবেক রিয়াল মাদ্রিদ সুপারস্টারের চেয়ে মেসি অনেক ‘আলাদা’ বলে মন্তব্য করেন আগিররে।
‘সে (মেসি) ক্রিস্তিয়ানোর চেয়ে অনেক আলাদা, তবে তাদের দুজনের বিপক্ষেই খেলা কঠিন। আপনাকে বুঝতে হবে, কেবল একটি উপায়ে তাকে (মেসি) থামানো সম্ভব। সেটি হলো-তার কাছে বল যেতে দেওয়া যাবে না। সংযোগটা কেটে দিতে হবে।’