চট্টগ্রামে নির্দেশনা মানা হচ্ছে না

করোনা পরিস্থিতিতে সংকটাপন্ন রোগীদের ইনটেনসিভ কেয়ার ইউনিটের (আইসিইউ) সেবা দিতে বেসরকারি ১২টি হাসপাতালকে নির্দেশ দেয় চট্টগ্রামের স্বাস্থ্য বিভাগ। কিন্তু রোগীর স্বজনদের অভিযোগ, শ্বাসকষ্টের রোগী নিয়ে এসব প্রতিষ্ঠানে ছোটাছুটি করেও তারা সেবা পাননি। এমন প্রেক্ষাপটে এখন থেকে বেসরকারি হাসপাতালে রোগীর সঙ্গে সরকারি নথিপত্র রেফার করার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। নথি পেয়েও রোগীদের উপেক্ষা করা হলে তাদের বিরুদ্ধে আইনি ব্যবস্থা নেওয়া হবে বলে জানিয়েছেন জেলা সিভিল সার্জন ডা. সেখ ফজলে রাব্বি। সংশ্লিষ্টরা জানান, গত ৪ এপ্রিল স্বাস্থ্য বিভাগ বেসরকারি হাসপাতালগুলোকে আইসিইউ শয্যা প্রস্তুতের নির্দেশনা দিয়ে প্রজ্ঞাপন জারি করে।

চার ধাপে হাসপাতালগুলোর আইসিইউ শয্যা ব্যবহারের কথা বলা হয়। এগুলো হলো প্রথম ধাপে পাঁচলাইশের পার্ক ভিউ, জিইসির মেডিকেল সেন্টার, খুলশীর ইম্পেরিয়াল হাসপাতাল; দ্বিতীয় ধাপে কাতালগঞ্জের সার্জিস্কোপ হাসপাতাল ইউনিট-২, পাঁচলাইশের ডেল্টা হাসপাতাল, সিএসটিসি হাসপাতাল; তৃতীয় ধাপে ওআর নিজাম রোডের সিএসসিআর হাসপাতাল, মেহেদিবাগের ন্যাশনাল হাসপাতাল, ওআর নিজাম রোডের এশিয়ান হাসপাতাল এবং চতুর্থ ধাপে ব্যবহার করা হবে ওআর নিজাম রোডের রয়েল হাসপাতাল, মেট্রোপলিটন হাসপাতাল ও মেহেদিবাগের ম্যাক্স হাসপাতাল। কিন্তু এরই মধ্যে ন্যাশনাল হাসপাতালের আইসিইউ থেকে করোনা সন্দেহে সীতাকুণ্ডের এক রোগীকে বের করে দেওয়ার পর তার মৃত্যু হয়।

পরে তার কভিড-১৯ নেগেটিভ আসে। গত ১২ এপ্রিল রাতে পটিয়ার ছয় বছর বয়সী এক প্রতিবন্ধী ও গত ১৩ এপ্রিল পাহাড়তলীর এক নারী শ্বাসকষ্টে মারা যান। এদের মধ্যে ওই নারীর স্বজনদের অভিযোগ, তারা রোগীকে বেসরকারি হাসপাতালে নিলে আইসিইউ দূরে থাক, ভর্তিই করেনি। ওই নারীর ছেলে সাইফুল ইসলাম বলেন, ‘জেনারেল হাসপাতালে গেলে চিকিৎসকরা পার্কভিউ হাসপাতালে নিতে পরামর্শ দেন। কিন্তু মায়ের শ্বাসকষ্ট দেখে তারা ভর্তি নেয়নি। অনেক অনুরোধ করেও কাজ হয়নি। পরে আবার জেনারেল হাসপাতালে আনলে মায়ের মৃত্যু হয়। পার্কভিউ আইসিইউ সুবিধা দিলে হয়তো আমার মা বেঁচে যেতেন।’ এ বিষয়ে হাসপাতালটির ব্যবস্থাপনা পরিচালক এটিএম রেজাউল করিমের মুঠোফোনে একাধিকবার কল ও ক্ষুদেবার্তা দিয়েও কোনো সাড়া পাওয়া যায়নি।

কভিড-১৯বিষয়ক স্বাচিপের চট্টগ্রাম বিভাগীয় কমিটির সমন্বয়ক ডা. আ ন ম মিনহাজুর রহমান বলেন, ‘চট্টগ্রামের বেসরকারি হাসপাতালগুলো আইসিইউ সুবিধা দিচ্ছে না বলে অভিযোগ পেয়েছি। স্বাস্থ্য বিভাগ ব্যবস্থা না নেওয়ায় তারা এমন ধৃষ্টতা দেখাচ্ছে।’ তবে নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক একটি বেসরকারি হাসপাতালের ব্যবস্থাপনা পরিচালক দেশ রূপান্তরকে বলেন, ‘নির্দেশনা মেনে আইসিইউ শয্যা ছেড়ে দিলে আমাদের ব্যবসা গুটিয়ে চলে যেতে হবে। সরকারি কর্মকর্তাদের সঙ্গে আমরা বৈঠক করেছি। তাদের চাপিয়ে দেওয়া অনেক সিদ্ধান্তে দ্বিমত জানিয়েছি আমরা।’ এ বিষয়ে ন্যাশনাল হাসপাতালের পরিচালক ডা. আবু নাসের দেশ রূপান্তরকে বলেন, ‘চট্টগ্রামে বেসরকারি হাসপাতালগুলোতে সবমিলে ৩২টি আইসিইউ শয্যা রয়েছে। করোনা আক্রান্ত মুমূর্ষু রোগীকে সেবা দিতে আমরা প্রস্তুতি নিয়েছি। কিছুদিন আগে দুজন আমাদের এখানে চিকিৎসা নেন, পরে তাদের কভিড-১৯ পজিটিভ আসে। এরপর চিকিৎসক, নার্সসহ ১৮ জনকে কোয়ারেন্টাইনে পাঠাতে হয়।

করোনা রোগী ভর্তি করালে বাকিদের সংক্রমণের ঝুঁকি উড়িয়ে দেওয়া যায় না। এরপরও আমরা সাধ্যমতো চিকিৎসা দিচ্ছি।’ এ বিষয়ে জেলা সিভিল সার্জন ডা. সেখ ফজলে রাব্বি দেশ রূপান্তরকে বলেন, ‘জেনারেল হাসপাতালের আইসিইউ প্রস্তুত না হওয়া পর্যন্ত অন্তর্বর্তীকালীন সেবা দিতে ১২টি হাসপাতালকে নির্দেশনা দেওয়া হয়। বিভিন্ন অভিযোগ এসেছে। এখন থেকে রোগীর সঙ্গে রেফারেন্স নথি দেওয়া হবে। এরপরও কেউ সেবা না দিলে তার বিরুদ্ধে আইনি ব্যবস্থা নেওয়া হবে।’ তিনি আরও বলেন, ‘জেনারেল হাসপাতালে ১০ শয্যার আইসিইউ ইউনিটের কাজ প্রায় শেষ। আগামী সোমবারের মধ্যে এগুলো চালু হতে পারে। তখন কিছুটা হলেও সমস্যার সমাধান হবে।’