নিরাপত্তা বেষ্টনী পার হয়ে করোনাভাইরাস বিশ্বের বিভিন্ন দেশের ক্ষমতাধর মানুষের ঘরেও হানা দিচ্ছে। এবার করোনায় আক্রান্ত হওয়ার ঝুঁকিতে বিচ্ছিন্ন হতে হলো গেলেন আফগানিস্তান ও নাইজেরিয়ার প্রেসিডেন্ট।
এর আগে ব্রিটিশ যুবরাজ ও প্রধানমন্ত্রী আগেই করোনায় আক্রান্ত হয়েছেন। আক্রান্ত হওয়ার শঙ্কা থেকে বিচ্ছিন্ন ছিলেন কানাডার প্রধানমন্ত্রীও।
আফগানিস্তানের প্রেসিডেন্ট ভবনের অন্তত ২০ কর্মকর্তা করোনাভাইরাসে আক্রান্ত হওয়ায় দেশটির প্রেসিডেন্ট আশরাফ ঘানিও সামাজিকভাবে বিচ্ছিন্ন অবস্থানে চলে যান। করোনা থেকে বাঁচতে ডিজিটাল প্রযুক্তির ব্যবহার করে রাষ্ট্র পরিচালনা করছেন তিনি। উল্লেখ্য, ৭০ বছর বয়সী প্রেসিডেন্ট আশরাফ ঘানি আগে থেকেই গ্যাস্ট্রিকজনিত জটিল রোগে ভুগছেন।
শনিবার আফগানিস্তানের সরকারি সূত্র গণমাধ্যমকে এ তথ্য নিশ্চিত করে। সূত্রমতে, একটি দপ্তর থেকে আসা সংক্রমিত নথি থেকেই ভবনের কর্মকর্তারা আক্রান্ত হয়েছেন।
যখন করোনাভাইরাসে আক্রান্ত হওয়ার বিষয়টি জানা গেছে, তখনো এসব কর্মী ভবনে কাজ করছিলেন। এরপর তাদের এবং পরিবারের সদস্যদের কোয়ারেন্টিনে রাখা হয়। প্রেসিডেন্ট ঘানির মুখপাত্র সাদিক সিদ্দিকী বলেন, সিভিল সার্ভিস কমিশন ইতিমধ্যে সরকারি কর্মকর্তাদের বাড়ি থেকে কাজ করার পরামর্শ দিয়েছে।
যুক্তরাষ্ট্রের জনস হপকিন্স বিশ্ববিদ্যালয়ের তথ্যমতে, আফগানিস্তানে এখন পর্যন্ত ৯৯৩ জন করোনাভাইরাসে আক্রান্ত হয়েছে এবং মারা গেছে ৩২ জন।
অন্যদিকে, নাইজেরিয়ার প্রেসিডেন্ট মোহাম্মদ বুহারির ক্ষমতাধর চিফ অব স্টাফ করোনাভাইরাসে আক্রান্ত হয়ে মারা গেছেন। শনিবার প্রেসিডেন্টের দপ্তর থেকে এ কথা জানানো হয়েছে।
জার্মানি সফর শেষে দেশে ফিরে মার্চের শেষ দিকে করোনায় আক্রান্ত হন প্রেসিডেন্টের সবচেয়ে ঘনিষ্ঠ সহচর আব্বা কারি। এরপরই তার সান্নিধ্যে আসা সরকারের সব শীর্ষ কর্মকর্তাকে কোয়ারেন্টিনে পাঠানো হয়।
তবে চিফ অব স্টাফ আক্রান্ত হওয়ার পর থেকেই বিচ্ছিন্ন হয়ে গেছেন দেশটির প্রেসিডেন্ট। চিফ অব স্টাফ ছিলেন, প্রেসিডেন্টের শেষ দ্বাররক্ষী, অন্যতম প্রধান উপদেষ্টা।
দেশটিতে এখন পর্যন্ত করোনা আক্রান্ত হয়েছে ৫৪২ জন এবং মারা গেছে ১৭ জন। গত ৩১ মার্চ দেশটিতে লকডাউন ঘোষণা করে সরকার।
সূত্র: গার্ডিয়ান।