করোনা মহামারির সুযোগে ‘সরকার’‌ হয়ে উঠার চেষ্টা করছে মাফিয়ারা

এতকাল গরিবের মাথায় বন্দুকের নল ঠেকিয়েছে। এখন মুখে খাবার তুলে দিচ্ছে। হঠাৎ করেই সক্রিয় হয়ে উঠেছে ইতালির মাফিয়া গোষ্ঠীগুলি। মৃত্যু মিছিল। অর্থনৈতিক সংকট। করোনার জেরে বিধ্বস্ত গোটা ইতালি। বেসামাল সরকার।এই সুযোগ। সরকারকে একঘরে করে দেওয়ার ছক কষেছে ইতালির ফ্যামিগ্লাই–র মতো মাফিয়া চক্রগুলো। বাড়ি বাড়ি গিয়ে ময়দা–দুধ পৌঁছে দিচ্ছে। বিনা সুদে মানুষকে ঋণ দিচ্ছে। অর্থনৈতিক সংকটের জেরে বেসামাল ইতালির বহু ছোট–মাঝারি সংস্থা। তাদেরও নাকি আর্থিক সাহায্য দেবে এরা!‌ সম্প্রতি কিছু ভিডিও ভাইরাল হয়েছে। তাতে দেখা গেছে, ক্যাম্পানিয়া, ক্যালাব্রিয়া ও সিসিলির মতো শহরের বিভিন্ন অঞ্চলে খাবার দিচ্ছে মাফিয়ারা। এ ছাড়া গত এক মাস ধরে একটি টাকাও উপার্জন করতে পারেনি, এমন পরিবারকে নগদ অর্থ সাহায্যও দিচ্ছে তারা। ইতালির সরকারও পড়েছে মহা–ফাপরে। করোনা পরিস্থিতি সামাল দেবে নাকি মাফিয়াদের আটকাবে! সরকারের ব্যর্থতার সুযোগ নিয়ে এলাকা দখল করতে চাইছে এরা। মাফিয়া বিরোধী লেখক এবং সাংবাদিক রবার্তো স্যাভিয়ানোর দাবি, ‘‌এর পিছনে অন্য কৌশল রয়েছে মাফিয়া গোষ্ঠীগুলির৷ বিপদের সময়ে গরিব মানুষের পাশে থেকে গোটা ইতালিতে নিজেদের আধিপত্য আরও বাড়িয়ে নিতে চাইছে তারা৷ এমনকি, মাফিয়া গোষ্ঠীগুলির নির্দেশে দক্ষিণ ইতালির রাজধানী নেপলসে সুদের কারবারিরা বিনা সুদে মানুষকে ঋণ দিচ্ছে।’‌ ‌ড্রাগ এবং অন্যান্য বেআইনি কারবারের টাকা কীভাবে বৈধ ব্যবসাতে খাটায় ইতালির মাফিয়া গোষ্ঠীগুলি, সে বিষয়ে যথেষ্ট অবগত এবং অভিজ্ঞ স্যাভিয়ানো৷ ইতালির মাফিয়া সাম্রাজ্য এবং তাদের কর্মকাণ্ড নিয়ে ‘‌গোমোরা’‌  নামে একটি বইও লিখেছিলেন তিনি৷ পরে তার গল্প নিয়ে একটি সিনেমা এবং টিভি সিরিজও তৈরি হয়েছে৷ ইতালির মাফিয়াবিরোধী বাহিনীর আধিকারিক নিকোলা গ্রেটারি বলেন, ‘‌‌এক মাসের বেশি সময় ধরে ইতালিতে দোকানপাট, ক্যাফে, রেস্তোরাঁ এবং পাব বন্ধ। লক্ষাধিক মানুষ এই সব পাব–রেস্তোরাঁয় কাজ করেন। এগুলো বন্ধ থাকা মানে, এই মানুষগুলোর রুটিরুজিও বন্ধ আছে। আবারও কবে তারা কাজে ফিরতে পারবেন, তার নিশ্চয়তা নেই। সরকার নামকা ওয়াস্তে এদের জন্য ‘শপিং ভাউচার’ ইস্যু করেছে। যদি শিগগিরই সরকার এই পরিবারগুলোর পাশে না দাঁড়ায়, তাহলে মাফিয়ারা গরিব মানুষের পাশে দাঁড়িয়ে তাদের মন জয় করে নেবে। একের পর এক এলাকা দখল করে নেবে। মেক্সিকোর মাদক সম্রাট এল চাপোর বেলায় কী ঘটেছিল ভাবুন। তিনি টনকে টন কোকেন পাচার করেছেন। শ’‌য়ে শ’‌য়ে মানুষকে খুন করেছেন। কিন্তু নিজের এলাকায় তিনি ভগবান। গরিবের ঘরে খাবার–ওষুধ পৌঁছে দিয়েছেন। রাস্তাঘাট তৈরি করেছেন। এখানকার চিত্রও এমন।‌’‌ 

খেতে না পেয়ে রাস্তায় নামছে ইতালির সাধারণ মানুষ। বিক্ষোভ দেখাচ্ছে। ছোট ব্যবসায়ী সংগঠনের অভিযোগ, ছোট ছোট দোকান মালিকদের বিনা পয়সায় খাবার দেওয়ার জন্য চাপ দেওয়া হচ্ছে। একটি ভিডিও ভাইরাল হয়েছে যেখানে মাত্র ৪৪ ডলার ঋণ চেয়ে ব্যাংকের কলাপসিবল গেটের দরজায় ঘুষি মারছেন এক ব্যক্তি। এই সময়ে আগুনে ঘি ঢালার কাজ করছে ইতালির মাফিয়ারা।