করোনা ভাইরাস কি উহানের ল্যাব থেকেই ছড়িয়ে পড়েছে? গোটা বিশ্বে এখন এটাই সব থেকে বড় প্রশ্ন। এরই মধ্যে সামনে এলো আরও এক চাঞ্চল্যকর তথ্য। ফ্রান্সের নোবেলজয়ী বিজ্ঞানী লুক মন্টানিয়ের এই প্রসঙ্গে চাঞ্চল্যকর তথ্য সামনে এনেছেন। তার দাবি, উহানের একটি ল্যাব থেকেই ছড়িয়ে পড়েছে করোনা ভাইরাস।
এই প্রসঙ্গে ফ্রান্সের একটি সংবাদমাধ্যমকে সাক্ষাৎকার দিয়েছেন। তাতে তিনি জানিয়েছেন, চিনের উহান থেকেই গোটা বিশ্বে ছড়িয়ে পড়ে করোনা ভাইরাস। সেখানেরই একটি ল্যাবে চলতি শতকের গোড়ার দিক থেকেই করোনা ভাইরাস নিয়ে গবেষণা চলছে। ওখানে যারা কাজ করছেন, তারা এই ভাইরাসের বিষয়ে বিশেষজ্ঞ হয়ে উঠেছেন। করোনা ভাইরাসের কোষের মধ্যে এইচআইভি-র কিছু অংশের উপস্থিতি পাওয়া গিয়েছে। ম্যালেরিয়ার জীবাণু থাকতে পারে বলেও সন্দেহ করা হচ্ছে।
তার এই মন্তব্যে নতুন করে শুরু হয়েছে জোর বিতর্ক। তাহলে কি সত্যিই গোটা বিশ্বে করোনা মহামারি আকার নেওয়ার জন্যে দায়ী চীনই। যদিও এই বিজ্ঞানীর দাবি আবার অনেকেই মানেনি।
শুধু ফ্রান্সের এই নোবেল জয়ীই, চীনের উহান শহর থেকেই যে করোনা ভাইরাস ছড়িয়ে পড়েছে তা একপ্রকার নিশ্চিত অনেকেই। যদিও এখনো পর্যন্ত এই বিষয়ে কোনো প্রমাণ পাওয়া যায়নি। সম্প্রতি মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পও দাবি করেছেন, উহান ইনস্টিটিউট অফ ভায়রোলজির এক ইন্টার্ন দুর্ঘটনাবশত করোনা ভাইরাস ছড়িয়ে দিয়েছেন।
শুধু তাই নয়, সম্প্রতি অস্ট্রেলিয়ার একটি সংবাদমাধ্যমে দাবি করা হয়েছে যে, বাদুড়ের শরীরে করোনা ভাইরাস থাকে। কোনো জৈব অস্ত্রের বিষয় এখানে নেই। কিন্তু তা সত্ত্বেও উহানের ল্যাবে এই ভাইরাস নিয়ে গবেষণা করা হচ্ছিল। প্রাথমিকভাবে বাদুড়ের শরীর থেকে মানুষের মধ্যে ছড়িয়ে পড়ছিল করোনা ভাইরাস। উহানের ল্যাবে এটা নিয়েই গবেষণা চলছিল। সেই ল্যাবের এক কর্মীর শরীরেই ভুলবশত সংক্রমণ ছড়িয়ে পড়ে। তিনি উহানের কয়েকজন বাসিন্দাকে সংক্রামিত করেন। এরপর সর্বত্র ছড়িয়ে পড়ে এই ভাইরাস। প্রকাশিত খবরে এমনটাই দাবি করা হয়েছে।
যদিও চিনের বিরুদ্ধে এহেন একাধিক অভিযোগ উঠলেও এখনো পর্যন্ত স্পিকটি নট বেইজিং। করোনা ভাইরাসের উৎপত্তি কীভাবে গোটা বিশ্ব চিনের কাছে বারবার জানতে চাইলেও এই বিষয়ে কিছুই জানায়নি তারা। তবে গত কয়েক দিন শুধু বেইজিংয়ের তরফে জানানো হয়েছে যে, গত বছর ডিসেম্বর মাসে এই ভাইরাসের সংক্রমণ ঘটে উহানে। কিন্তু কীভাবে সেই বিষয়ে কিছুই জানানো হয়নি। ফলে যত দিন যাচ্ছে তত বিতর্ক বাড়ছেই।