কিশোরগঞ্জে নামেমাত্র চলছে লকডাউন। প্রশাসনের দায়িত্বহীনতা আর মানুষের অবহেলায় দিন দিন বাড়ছে করোনা আক্রান্ত রোগীর সংখ্যা। এ থেকে রক্ষা পাচ্ছে না নার্স, পুলিশ, এসিল্যান্ড ও চিকিৎসকরাও। প্রতিদিনই বাড়ছে আক্রান্তের সংখ্যা। গত শনিবার বিকেল ৪টা পর্যন্ত জেলা সিভিল সার্জন সূত্র মতে, উপজেলা ভূমি কমিশনার ও চিকিৎসকসহ ৭৭ জন আক্রান্ত হয়েছেন। এ মধ্যে ১৯ জনই চিকিৎসক। মৃত্যুর পর পরীক্ষায় পজিটিভ এসেছে একজনের। এছাড়াও এ জেলায় করোনার উপসর্গ নিয়ে গত এক মাসে শিশু ও স্কুলছাত্রীসহ আরও ১৫ জন মারা গেছে বলে বিভিন্ন মাধ্যমে জানা যায়।
বিভিন্ন সূত্র জানায়, কিশোরগঞ্জ জেলা শহরে সন্ধ্যার পর মানুষের চলাচল কম থাকলেও প্রতিদিনই জেলার বিভিন্নœ হাটবাজারে লেগে থাকছে মানুষের জটলা। এলাকাবাসীর অভিযোগ, প্রশাসনের দায়িত্বে অবহেলার কারণে প্রতিদিন মধ্যরাতে ট্রাক, পিকআপ ভরে নারায়ণগঞ্জ, গাজীপুর ও ঢাকা থেকে হাজারো মানুষ আসছে কিশোরগঞ্জে। তারা গ্রাম থেকে শহরের বিভিন্ন হাটবাজারে ঘুরছে। কিন্তু তাদের প্রতি প্রশাসনের নেই কোনো তৎপরতা, নেই কোনো মাথাব্যথা। যার ফলে কিশোরগঞ্জে দিন দিন বাড়ছে আক্রান্তের সংখ্যা। ইতিমধ্যে জেলায় একজন সহকারী কমিশনার (ভূমি) ও ১৯ চিকিৎসকসহ ৭৭ জনের দেহে করোনাভাইরাস (কভিড-১৯) পজিটিভ ধরা পড়েছে। ফলে এ নিয়ে কিশোরগঞ্জ জেলায় মোট ৭৭ জনের করোনাভাইরাস শনাক্ত হয়েছে। মোট শনাক্ত হওয়া ৭৬ জনের মধ্যে একজন মারা যাওয়া ব্যক্তি রয়েছেন। তিনি করিমগঞ্জ উপজেলার জঙ্গলবাড়ি মুসলিমপাড়া গ্রামের সেলিম মিয়া। গত ৬ এপ্রিল মারা যাওয়া ওই ব্যক্তি ছিলেন জেলার প্রথম করোনা আক্রান্ত। মারা যাওয়া ওই ব্যক্তি গত ৯ এপ্রিল জেলায় প্রথম করোনা শনাক্ত হওয়ার পর জেলায় করোনার বিস্তার শুরু হয়। মাত্র ৯ দিনের ব্যবধানে শনিবার পর্যন্ত জেলায় করোনা আক্রান্তের সংখ্যা দাঁড়িয়েছে ৭৭ জনে।
গতকাল রবিবার বেলা ১১টার দিকে কিশোরগঞ্জের সিভিল সার্জন ডা. মো. মুজিবুর রহমান বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন। তিনি জানান, কিশোরগঞ্জ জেলা থেকে সর্বশেষ শুক্রবার (১৮ এপ্রিল) ৯৩ জনের নমুনা পরীক্ষার জন্য মহাখালীর ইনস্টিটিউট অব পাবলিক হেলথে (আইপিএইচ) পাঠানো হয়েছিল। তাদের মধ্যে ২৪ জনের কভিড-১৯ পজেটিভ এসেছে। তাদের মধ্যে ২০ জন পুরুষ ও চারজন মহিলা। বাকি ৬৯ জনের রিপোর্ট নেগেটিভ এসেছে। এদের মধ্যে সবাই জেলা সদরসহ বিভিন্ন উপজেলার লোকজন। এছাড়া শনিবার নতুন করে ১২৫ জনের নমুনা পরীক্ষার জন্য মহাখালীর ইনস্টিটিউট অব পাবলিক হেলথে (আইপিএইচ) পাঠানো হয়েছে। এ নিয়ে শনিবার পর্যন্ত এ জেলায় একজন ভূমি কমিশনার ও ১৯ চিকিৎসকসহ মোট ৭৭ জনের দেহে করোনাভাইরাস পজিটিভ ধরা পড়েছে। এ নিয়ে স্বাস্থ্য বিভাগের কর্মকর্তা ও কর্মচারীদের মধ্যে আতঙ্ক বিরাজ করছে।
কিশোরগঞ্জ জেলা প্রশাসক মো. সারওয়ার মুর্শেদ চৌধুরী জেলায় করোনায় আক্রান্তের সংখ্যা বাড়ছে বলে স্বীকার করে জানান, লকডাউন মানাতে প্রতিদিনই মাঠপর্যায়ে প্রশাসনের কর্মকর্তারা টহল দিচ্ছে এবং সাধারণ মানুষকে বোঝাচ্ছে। কিন্তু কিছুসংখ্যক মানুষ তা মানছে না। এখন থেকে আরও কঠোরভাবে নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।
কিশোরগঞ্জ জেলা পুলিশ সুপার মো. মাশরুকুর রহমান খালেদ বলেন, পুলিশের চোখ ফাঁকি দিয়ে রাতের আঁধারে এবং ভোরে বিভিন্ন এলাকা থেকে কিছু মানুষ কিশোরগঞ্জে ঢুকছে শুনছি। তার জন্য রাতে পুলিশি টহল বাড়ানো হয়েছে।