নভেল করোনাভাইরাসের ধাক্কায় ঝুঁকির মুখে পুরো পৃথিবীর অর্থনৈতিক ব্যবস্থা। মহামারি সংক্রমণ রোধে লকডাউনের জেরে ইতিমধ্যে অধিকাংশ দেশে উৎপাদনের চাকা বন্ধ হয়ে গেছে। এই পরিস্থিতিতে কোটি কোটি মানুষ চাকরি হারাবে বলে আশঙ্কা করেছে বিশ্বব্যাংকসহ অর্থনীতিবিদরা।
আপনিও যদি চাকরিজীবী হন, এই অর্থনৈতিক ধাক্কা পড়তে পারে আপনার কোম্পানিতেও। ফলে আগামী কয়েক মাস পর চাকরি হারানোর আশঙ্কা আছে সবার জন্যই। এমন পরিস্থিতি কী করবেন, এমন পরামর্শ দিয়ে একটি প্রতিবেদন প্রকাশ করেছে টাইমস অব ইন্ডিয়া।
* পরিস্থিতির দিকে খেয়াল রাখতে হবে। হুট করে চাকরি চলে গেলে মানসিকভাবে ধাক্কা সামলানো কঠিন হয়ে পড়বে। ফলে পূর্ব প্রস্তুতি নিয়ে ভাবুন।
* স্বামী-স্ত্রী দুইজনেই চাকরিজীবী হলে, পরস্পরের প্রতি আস্থাশীল হোন। দুইজনে মিলে পরিকল্পনা করুন কঠিন সময় কীভাবে সামাল দিবেন।
* সংসারের বাড়তি খরচ কমিয়ে ফেলুন। খাওয়াদাওয়া, অন্যান্য কেনাকাটা, সন্তানদের পেছনে খরচ সীমিত করুন।
* বেশি সংকটে পড়লে বাড়িভাড়া কমিয়ে ফেলুন, আপদকালীন সময়ে কষ্ট করে থাকতে পারেন ছোট কোনো বাসা ভাড়া নিয়ে।
* অনেক চাকরিজীবীর সঞ্চয় থাকে। জরুরি সময়ে এই সঞ্চয়ই আপনাকে বড় ধরনের সহযোগিতা করবে। সেটিকে আরও বাড়ান। যাতে নতুন চাকরি খুঁজে নিতে কিছুদিন সময় আপনি পান।
* কোম্পানির করে দেওয়া স্বাস্থ্যবিমার বাইরেও নিজের ব্যক্তিগত স্বাস্থ্যবিমা অবশ্যই রাখুন। করপোরেট ইনস্যুরেন্সের সুবিধা চাকরি গেলেই আর থাকবে না। চাকরিহীন অবস্থায় আপনি বা আপনার পরিবারের কেউ অসুস্থ হলে চিকিত্সার খরচ বের করা মুশকিল হবে।
* আপনার সিভি এবং অন্যান্য গুরুত্বপূর্ণ কাগজপত্র প্রস্তুত করে রাখুন। হার্ড ও সফট কপি দুটোই প্রস্তুত রাখুন। এ ছাড়া কোথায় এবং কার কাছে চাকরির জন্য আবেদন করতে পারেন, সেই সব তলিকাও আপডেট করে রাখুন।
* আপনার নিয়োগ ও অফিসের অন্যান্য কাগজপত্রও সব আপডেট রাখুন। কাউকে নিয়োগ করার আগে যে কোনো কোম্পানি আগের চাকরির কাগজপত্র দেখতে চাইতে পারে। সব যেন আপনার কাছে প্রস্তুত থাকে।
* কোনো কোম্পানি অদূর ভবিষ্যতে নিয়োগ করবে কিনা, সেই বিষয়ে খোঁজ খবর রাখুন। প্রয়োজনে অন্যত্র যেতে হলে দ্বিধা করবেন না। এখন কঠিন সময়। দরকারে বাড়ি ছেড়ে অন্য শহরে যেতে হতেই পারে।
* চাকরি গেলে কোম্পানি থেকে আপনার প্রাপ্য টাকাপয়সা সব বুঝে নেবেন। অনেক কোম্পানিই এই সময় সব টাকা নাও মেটাতে চাইতে পারে।
* বাড়িতে যে সময়টা ফাঁকা বসে আছেন, সময় নষ্ট না করে কোনো অনলাইনে কোর্স করে নিন। যাতে চাকরির বাজারে আপনার কদর একটু বাড়ে।
* কারিগরী কোনো প্রশিক্ষণ থাকলে সেটিকে কাজে লাগাতে পারেন। চাকরি পেতে দেরি হলেও সেই দক্ষতা কাজে লাগিয়ে যাতে কিছু আয়ের পথ বের করা যায়।