কিশোরগঞ্জের নিকলীর মদলিশপুর গ্রামের একজন অসহায় দরিদ্র কৃষক রাসেল মিয়া। তার এক একর (তিন কানি) জমির পাকা ধান পড়ে আছে বড় হাওরে। করোনা পরিস্থিতিতে শ্রমিক ও অর্থ সংকটে সেই পাকা ধান ঘরে তোলা নিয়ে চরম দুশ্চিন্তায় ভুগছিলেন তিনি। অবশেষে দরিদ্র এই কৃষকের দুশ্চিন্তা দূর করলেন উপজেলার চেয়ারম্যান ও তার রাজনৈতিক সহকর্মীরা।
সোমবার ভোর থেকে বিকেল পর্যন্ত উপজেলা চেয়ারম্যান মোহাম্মদ রুহুল কুদ্দুস ভূঁইয়ার (জনি) নেতৃত্বে উপজেলা ছাত্রলীগ, যুবলীগ ও আওয়ামী লীগের ২৫জন নেতা-কর্মী রাসেল মিয়ার ৭০ শতাংশ (দুই কানি) পরিমাণ জমির ধান কেটে ঘরে তুলে দিয়েছেন।
কৃষক রাসেল মিয়া জানান, তিনি এবার তিন কানি (এক একর) জমিতে বোরো ধানের চাষ করেছিলেন। ফলনও এবার ভালো হয়েছে। খেতের ফসলে পাক ধরেছে কিন্তু ধান কাটার মজুরের অভাব। এ অবস্থায় প্রতিবেশী উপজেলার চেয়ারম্যান মোহাম্মদ রুহুল কুদ্দুস ভূঁইয়াকে (জনি) বলেছিলেন কষ্টের কথা। তখন তিনি বলেন, আমরা আছি চিন্তা করবেন না। বিষয়টি দেখছি। কিন্তু সোমবার সকালে অবাক হয়ে দেখি কাঁচি হাতে একদল লোক তার খেতের পাকা ধান কাটছেন। কাছে গিয়ে দেখতে পাই উপজেলার চেয়ারম্যানসহ তার সহকর্মীরা ধান কাটছেন।
উপজেলার চেয়ারম্যান মোহাম্মদ রুহুল কুদ্দুস ভূঁইয়া (জনি) বলেন, প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা ও স্থানীয় সাংসদ আলহাজ্ব মো. আফজাল হোসেনের নির্দেশেই আমরা দলীয় লোকজন নিয়ে আজ থেকে কাঁচি হাতে করে কৃষকদের পাশে দাঁড়ালাম। দরিদ্র কৃষকের যেকোনো সংকটে আমরা কাজ করে যাব। এ প্রতিশ্রুতি নিয়েই এলাকার একজন দরিদ্র কৃষক যখন আমার কাছে এসে অসহায় হয়ে বলেন, শ্রমিক সংকটের কারণে তার পাকা ধান কাটতে পারছেন না। বৈশাখী মাস, তাই যে কোনো সময়ে ঝড়-বৃষ্টি হলে ফসল ক্ষতিগ্রস্ত হওয়ার আশঙ্কা থাকে। তাই আমি আমার সহকর্মী নেতা–কর্মীরা কাঁচি-মাথাল (ধান-কাটার সরঞ্জাম) নিয়ে হাজির হই। সারা দিনে তার ২কানি জমির ধান কেটে দিয়েছি। বাকি এক কানি ধান আগামকাল কেটে দেব।
তিনি আরও বলেন, প্রথমে ওই কৃষক বিশ্বাসই করতে পারছিলেন না, আমরা বিনা পারিশ্রমিকে তার ধান কেটে ঘরে তুলে দেব। পরে যখন তার জমির ধান কেটে বাড়িতে এনে দিলাম তার মুখের হাসি আমাদের অন্যরকম আনন্দ দিয়েছে। এর চেয়ে বড় পাওয়া আর কিছুই নেই। এই দুঃসময়ে প্রত্যেকের উচিত কৃষকদের পাশে দাঁড়ানো।
কৃষক রাসেল মিয়া বলেন, একজন শ্রমিকের মজুরি ৫/৬’শ টাকা। তার ওপর দুই বেলা ভাত দিতে হয়। আমাদের উপজেলার চেয়ারম্যান তার লোকজন নিয়ে আমার বড় উপকার করে দিয়ে গেছে। তাদের জন্য কিছুই করতে পারলাম না, তবে তাদের জন্য দোয়া করছি।