মৌলভীবাজারের কমলগঞ্জে করোনা সংকটে কর্মহীন অসহায়দের মধ্যে সরকারের খাদ্য সহায়তা কর্মসূচির ত্রাণ বিতরণের তালিকা প্রণয়ন ও বরাদ্দকৃত খাদ্যসামগ্রী বিতরণে অনিয়মের অভিযোগ পাওয়া গেছে।
শমশেরনগর ইউনিয়নের চেয়ারম্যান জুয়েল আহমেদের বিরুদ্ধে এ অভিযোগ উঠেছে।
এ বিষয়ে গত ১৪ এপ্রিল শমশেরনগর ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যানের বিরুদ্ধে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা বরাবরে লিখিত অভিযোগ করেন একই ইউনিয়নের ৪, ৫ ও ৬ নং ওয়ার্ডের (সংরক্ষিত) মহিলা সদস্য শারমীন বেগম চৌধুরী ও ৭, ৮ ও ৯ নং ওয়ার্ডের সংরক্ষিত মহিলা সদস্য নমিতা সিং।
লিখিত অভিযোগ সূত্রে জানা যায়, শমশেরনগর ইউনিয়নের চেয়ারম্যান জুয়েল আহমেদ প্রধানমন্ত্রীর ত্রাণ তহবিল থেকে প্রদত্ত ত্রাণসামগ্রীর জন্য তার প্রভাব প্রতিপত্তি খাটিয়ে ইচ্ছামাফিক তালিকা প্রণয়ন করেছেন।
তিনি কর্মসূচিতে বাস্তবায়ন নির্দেশিকা ২০১২-২০১৩ উপেক্ষা করে নিজের মতো করে তালিকা প্রণয়ন করেন।
তাছাড়া ত্রাণের ব্যাপারে চেয়ারম্যান জুয়েল আহমদকে অভিযোগকারী দুই মহিলা সদস্য শারমীন বেগম চৌধুরী ও নমিতা সিং জিজ্ঞাসাবাদ করলে উনি সরকারি কোনো অনুদান আসেনি ও তাদের মতামতের কোনো প্রয়োজন নেই বলে জবাব দেন।
অথচ ২০১২-২০১৩ নির্দেশিকা অনুযায়ী সংরক্ষিত মহিলা সদস্যরাই খাদ্য ও দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা কমিটির সভাপতি হিসেবে থাকার কথা।
তারা আরও অভিযোগ করেন, বিভিন্ন সময়ে সরকার কর্তৃক ইউনিয়ন পরিষদে অনুদান, ত্রাণসামগ্রী আসলেও তাদেরকে কোনকিছু না জানিয়ে চেয়ারম্যান জুয়েল আহমেদ উনার নিজের ইচ্ছা মতন তালিকা করে বণ্টন করেন। তাই সংরক্ষিত মহিলা সদস্য দুইজন জনসাধারণের তোপের মুখে পড়ে অসহায় বোধ করছেন বলে লিখিত অভিযোগে জানান।
উল্লেখ্য, ইতিপূর্বে ১১টি প্রকল্পে দুর্ণীতি করার দায়ে ৪৫ লক্ষ টাকার অনিয়মের উপর ২০১৬ সালে সাবেক চেয়ারম্যান আব্দুল গফুর অভিযোগ করেছিলেন। সে অভিযোগ তদন্তকালে চেয়ারম্যান জুয়েল আহমদ বাধ্য হয়ে তপশিলে ব্যাংকের মাধ্যমে ১১ লাখ টাকা সরকারি কোষাগারে ফেরত দিয়েছিলেন। সে মামলায় দুদক জুয়েল আহমদকে অব্যাহতি দিয়ে প্রতিবেদন জমা করলে অভিযোগকারী আব্দুল গফুর আবার উচ্চ আদালতে রিট আবেদন করলে গত মার্চ মাসে উচ্চ আদালতে শুনানি শেষে আদালত জেলা জজ আদালতে অভিযুক্ত চেয়ারম্যান জুয়েল আহমদের উপর মামলার নির্দেশনা দিয়েছেন।
শমশেরনগর ইউপি চেয়ারম্যান জুয়েল আহমেদ বলেন, ইউএনও বরাবরে কি বিষয়ে লিখিত অভিযোগ দেওয়া হয়েছে তা সঠিক জানা নেই। তবে ত্রাণসামগ্রীর জন্য ইচ্ছা মাফিক আমি কোনো তালিকা তৈরি করিনি। ইউপি সদস্যদের মাধ্যমে এই তালিকা তৈরি করা হয়েছে। সংরক্ষিত মহিলা সদস্য দুইজনকে অনেকবার যোগাযোগ করা হয়েছে কিন্তু তারা কোন তালিকা দেয়নি।
এ বিষয়ে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা আশেকুল হক দেশ রূপান্তরকে বলেন, শমসেরনগর ইউপি চেয়ারম্যানের অভিযোগসহ আরও কয়েকটি অভিযোগ আমার কাছে জমা আছে। সবগুলো অভিযোগ খতিয়ে দেখবো। প্রয়োজনে জেলা পর্যায়ে অভিযোগগুলো পাঠানো হবে।