চিকিৎসকদের জন্য বিনা মূল্যে ফেসশিল্ড তৈরি করে দিল শিক্ষার্থীরা

মোংলার কয়েকজন বিশ্ববিদ্যালয় পড়ুয়া শিক্ষার্থী চলমান করোনা মহামারি মোকাবিলারত চিকিৎসকদের জন্য তৈরি করলেন চিকিৎসা সুরক্ষা সরঞ্জাম ফেসশিল্ড।

মঙ্গলবার ফেসশিল্ডগুলো সাবেক ভাইস চেয়ারম্যান নুর আলমের সহায়তায় বিভিন্ন হাসপাতালের চিকিৎসকদের হাতে তুলে দেয়া হয়েছে। করোনাভাইরাসে আক্রান্তদের চিকিৎসা দিতে গিয়ে সুরক্ষা সরঞ্জামের সংকটে পড়া চিকিৎসকরা ফেসশিল্ডগুলো পেয়ে তাদের ধন্যবাদও জানিয়েছেন।

জানা যায়, প্রথমে খুলনা প্রকৌশল ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের যন্ত্রকৌশল বিভাগের ছাত্র সুমিত চন্দ বাসায় বসে চিকিৎসকদের জন্য নিজের উদ্ভাবনী শক্তি কাজে লাগিয়ে এই ফেসশিল্ড তৈরি করেন। তার তৈরি করা ফেসশিল্ডগুলো খুলনা মেডিকেল কলেজের করোনা ইউনিটের চিকিৎসকদের দেয়া হলে, তারা ইতিবাচক সাড়া দেন।  

চিকিৎসকদের কাছ থেকে ইতিবাচক সাড়া পাওয়ায় পরবর্তীতে এই উদ্যোগের সঙ্গে সম্পৃক্ত হন বরিশাল শেরে বাংলা মেডিকেল কলেজছাত্র অর্ণব খান এবং গোপালগঞ্জ শেখ সায়েরা খাতুন মেডিকেলের ছাত্র শুভ রায়। পরে তাদের সঙ্গে আরও কয়েকজন শিক্ষার্থী এই কাজে যোগ দেন।

এদিকে খুমেক করোনা ইউনিটে ফেসশিল্ড দেয়ার খবর পেয়ে আশেপাশের প্রায় সব হাসপাতাল থেকে তাদের সাথে যোগাযোগ করতে থাকে। খুলনা প্রকৌশল ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয় (কুয়েট) অ্যালামনাই এবং মোংলার কয়েকজন বিত্তবানের আর্থিক সহযোগিতায় শিক্ষার্থীদের দলটি চিকিৎসকদের জন্য ফেসশিল্ড তৈরির কাজে নেমে পড়ে।

অনেক কষ্ট করে এই লকডাউনের মধ্যেই খুলনা যাওয়া আসা করে কাঁচামাল জোগাড় করেন সুমিত। শুরু হয় দিনরাত ফেসশিল্ড তৈরির কাজ।

অবশেষে মঙ্গলবার সুমিত, অর্ণব এবং সাবেক ভাইস চেয়ারম্যান নুর আলম খুলনায় গিয়ে একে একে খুমেক হাসপাতাল, শহীদ শেখ আবু নাসের হাসপাতাল, আদ দীন আকিজ মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল, খুলনা সদর হাসপাতাল, ফুলতলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স, রামপাল স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স, বটিয়াঘাটা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স এবং চালনা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে পৌঁছে দেন প্রায় ৫০০ ফেসশিল্ড।

শহীদ শেখ আবু নাসের বিশেষায়িত হাসপাতালের পরিচালক ডা. বিধান চন্দ্র গোস্বামী বলেন, আমার দেখা ফেসশিল্ডগুলোর মধ্যে এটি অনেক ভালো হয়েছে।

খুলনা সদর হাসপাতালের আরএমও বলেন, স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয় থেকে পিপিই পেলেও তার সঙ্গে ফেসশিল্ড আসেনি। বাজারেও পাওয়া যাচ্ছে না। শেষমেশ আমরা নিজেরাই বানানোর পরিকল্পনা করছিলাম। ছাত্ররা এভাবে এগিয়ে এসে আমাদের অনেক উপকার করেছে। করোনা সুরক্ষায় পিপিই এর সঙ্গে ফেসশিল্ড অত্যন্ত কার্যকরী একটা উপকরণ।

সুমিত বলেন, প্রথমে যখন ১০০ পিস তৈরি করেছিলাম তখনো ভাবিনি এতটা কাজে আসতে পারব ডাক্তারদের। প্রাথমিক ভাবে চিন্তা ছিল ডাক্তারদের নিজেদের বানিয়ে নিতে গেলে যে সময়টা খরচ হতো সেটা বাঁচানোর চেষ্টা করছি। এই দুঃসময়ের নায়ক ডাক্তারদের নিরাপত্তার জন্য কাজ করতে পারাটা অবশ্যই গর্বের।

কুয়েটের সিনিয়ররা এবং মোংলার বিত্তবানেরা আমাদের পাশে দাঁড়ানোর ফলে বিনা মূল্যেই এগুলো দিতে পারছি উল্লেখ করে সুমিত আরও জানান, দেশের বিভিন্ন প্রান্ত থেকে ফোন পাচ্ছি আমরা। সে জন্য ছাত্রদের সঙ্গে যোগাযোগ করে বিভিন্ন রিসোর্স দিয়ে তাদের গাইড করছি যাতে তারা স্থানীয়ভাবে বানিয়ে চাহিদা পূরণ করতে পারে।