গভীর রাতে মোবাইলে রিং বাজার শব্দে ঘুম ভেঙে যায়। রিসিভ করতেই অপরপ্রান্ত থেকে মসজিদ কমিটির সদস্য সৈয়দ আলী বলছেন, হুজুর তাড়াতাড়ি মসজিদে আসেন এলাকায় ডাকাত পড়েছে মাইকিং করে এলাকাবাসীকে সাবধান করতে হবে।
রাত ২টা বা আড়াইটা হবে, তখন মসজিদে গিয়ে মাইকিং করে এলাকাবাসীকে সাবধান করি।
বুধবার সকালে মোবাইল ফোনে যোগাযোগ করা হলে কথাগুলো বললেন উপজেলার মুশুরিয়াঘোনা জামে মসজিদের ঈমাম মো. আশরাফ আলী।
এদিকে, এই গুজবকে কেন্দ্র করে উত্তেজিত জনতা উপজেলার আজগানা ইউনিয়নের তেলিনা খাটিয়ার বাজারে একটি প্রাইভেটকার আটক করে।
জনতা প্রাইভেটকারটি ভাঙচুর করে এবং চালক ও তার সহকারীকে গণধোলাই দিয়ে পুলিশে সোপর্দ করে।
উপজেলা সদরের পুষ্টকামুরী চরপাড়া থেকেও উত্তেজিত জনতা একটি মাইক্রোবাসসহ দুইজনকে আটক করে পুলিশে দেয়।
এভাবেই মঙ্গলবার গভীর রাতে মির্জাপুর উপজেলার সর্বত্র ডাকাত আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়ে। প্রকৃতপক্ষে এর কোনো ভিত্তি খুঁজে পাওয়া যায়নি বলে জানিয়েছেন মির্জাপুর থানার অফিসার ইনচার্জ মো. সায়েদুর রহমান।
তবে গুজবের এই উৎপত্তি হয় পার্শ্ববর্তী গাজিপুরের কালিয়াকৈর উপজেলার দারিয়াপুর থেকে।
পুলিশ জানায়, মঙ্গলবার রাত সাড়ে এগারটার দিকে কালিয়াকৈর উপজেলার দারিয়াপুর মসজিদের মাইকে ঘোষণা আসে, এলাকায় ডাকাত পড়েছে, সবাই সাবধান থাকবেন। এরপর এ্কই উপজেলার সুত্রাপুর মসজিদ থেকে একই ঘোষণা। এই ঘোষণা শুনে মির্জাপুর উপজেলার আজগানা মসজিদ থেকে একই ঘোষণা আসে। এভাবে মির্জাপুর উপজেলার সর্বত্র মসজিদের মাইক থেকে এই ঘোষণায় আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়লে জনতা রাস্তায় নেমে আসে। বিভিন্ন রাস্তায় শতশত লোক অবস্থান নিতে থাকে।
ভাতগ্রাম ইউনিয়নের বুড়িহাটী জামে মসজিদের ঈমাম আবুল হাসান বলেন, রাত আনুমানিক দুইটার দিকে মসজিদ কমিটির সদস্য মাসুদ সাহেব আমাকে ফোন দিয়ে ডাকাতের কথা মাইকে বলতে বলেন। পরে তিনি মসজিদে গিয়ে মাইকে ডাকাত আসার কথা ঘোষণা দেন বলে জানান।
আজগানা ইউপি চেয়ারম্যান রফিকুল ইসলাম সিকদার বলেন, কালিয়াকৈর উপজেলার সুত্রাপুর মসজিদের মাইকে ডাকাত আসার কথা শুনে আজগানা মসজিদ থেকেও এই ঘোষণা হয়। খাটিয়ার বাজারে উত্তেজিত জনতার প্রাইভেটকার ভাঙচুর এবং চালক ও হেলপারকে গণধোলাই দেওয়ার কথা তিনি স্বীকার করেন।
ভাওড়া ইউপি চেয়ারম্যান আমজাদ হোসেন তার ইউনিয়নের কোথাও কোন ডাকাতির ঘটনা ঘটেনি বলে তিনি জানান।
একই কথা বলেন ফতেপুর ইউপি চেয়ারম্যান আব্দুর রউফ, তরফপুর ইউপি চেয়ারম্যান সাঈদ আনোয়ার। তারা বলেন, তাদের এলাকায় কোন ডাকাতির ঘটনা ঘটেনি। মসজিদের মাইকে ডাকাত আসার কথা তারা শুনেছেন বলে জানান।
মির্জাপুর থানার অফিসার ইনচার্জ মো. সায়েদুর রহমান বলেন, ডাকাত সন্দেহে উত্তেজিত জনতা যে চারজনকে আটক করে পুলিশে সোপর্দ করেছিলো খোঁজখবর নিয়ে তাদেরকে ছেড়ে দেয়া হয়েছে।
মির্জাপুর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মো. আবদুল মালেক বলেন, ডাকাত আসার কথাটি সম্পূর্ণ গুজব। পুলিশ ও র্যাব এ ব্যাপারে কাজ করছে। যারা গুজব ছড়িয়েছে তাদের চিহ্নিত করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেয়া ববে বলে তিনি জানান।