মুন্সিগঞ্জের শ্রীনগর উপজেলার আড়িয়ল বিলে কৃষকের জমির পাকা ধান কাটতে ছাত্রলীগের কেন্দ্রীয় কমিটির সভাপতি ও সাধারণ সম্পাদক আসার কথা ছিল সকাল ১১টায়। এ খবরে স্থানীয় ছাত্রলীগ নেতাকর্মীসহ কৃষকরাও ছিলেন অপেক্ষায়। তবে দুই নেতা তাদের দেখা দিলেন বিকেল ৪টায়। এরপর শুরু হয় ধান কাটা।
বৃহস্পতিবার বিকেলে বৃষ্টি উপেক্ষা করেই উপজেলার গাদিঘাট গ্রামে বাংলাদেশ ছাত্রলীগ কেন্দ্রীয় কমিটির নেতাকর্মীরা জমিতে ধান কাটেন।
বিকেল ৪টার দিকে বাংলাদেশ ছাত্রলীগের সভাপতি আল নাহিয়ান খান জয় ও সাধারণ সম্পাদক লেখক ভট্টাচার্য্যের নেতৃত্বে বিলের শহীদুল তালুকদারের জমিতে ধান কাটতে নামেন অর্ধশত নেতাকর্মী। তারা বিকেল ৫টা পর্যন্ত আড়িয়ল বিলের অন্তত ৩০ শতাংশ জমির ধান কেটে কৃষকের বাড়িতে তুলে দেন।
এ সময় অন্যদের মধ্যে উপস্থিত ছিলেন ছাত্রলীগের সহ-সভাপতি আশাদুজ্জামান সোহেল, আইনবিষয়ক সম্পাদক আপন দাস, জেলা ছাত্রলীগের সভাপতি ফয়সাল বিপ্লব, সাধারণ সম্পাদক ফয়েজ আহমেদ পাভেল প্রমুখ।
এর আগে বেলা ১১টার দিকে বাংলাদেশ ছাত্রলীগের সভাপতি ও সাধারণ সম্পাদক আড়িয়ল বিলে কৃষকের ধান কাটতে আসবেন- এমন খবরে সকাল থেকেই জেলা ও উপজেলা থেকে ছাত্রলীগ নেতাকর্মীরা বিলের গাদিঘাট এলাকায় জড়ো হন। পাশাপাশি আড়িয়ল বিলের কৃষকরাও কেন্দ্রীয় ছাত্রলীগ নেতৃবৃন্দের অপেক্ষায় ঘণ্টার পর ঘণ্টা ধরে অপেক্ষা করতে থাকেন। অবশেষে বিকেল ৪টার দিকে ছাত্রলীগের কেন্দ্রীয় নেতৃবৃন্দের বিলে আগমন ঘটে।
এরপরই শুরু হয় বিলের জমিতে কৃষকের ধান কাটা উৎসব। এরই মধ্যে বৃষ্টি হানা দিলেও ভিজেই ছাত্রলীগ নেতাকর্মীরা জমির ধান কাটেন। পরে সেই ধান কৃষকের বাড়িতে তুলে দেওয়া হয়।
বাংলাদেশ ছাত্রলীগ কেন্দ্রীয় কমিটির আইনবিষয়ক সম্পাদক আপন দাস বলেন, প্রধানমন্ত্রীর নির্দেশে বাংলাদেশ ছাত্রলীগের নেতাকর্মীরা দেশের বিভিন্ন অঞ্চলে কৃষকের ধান কেটে বাড়ি বাড়ি তুলে দিয়েছে। এ জন্য ছাত্রলীগের ব্যাপক প্রশংসা করেছেন প্রধানমন্ত্রী। করোনা পরিস্থিতিতে আড়িয়ল বিলে শ্রমিক সংকট থাকায় বাংলাদেশ ছাত্রলীগের সভাপতি ও সাধারণ সম্পাদকের নেতৃত্বে অন্তত ৩০ শতাংশ জমির ধান কেটে কৃষকের বাড়ি তুলে দেওয়া হয়েছে। বিলের বাকি ধান জেলা ও উপজেলা ছাত্রলীগের নেতাকর্মীদের পর্যায়ক্রমে কেটে দেওয়ার জন্য নির্দেশ দিয়েছে কেন্দ্রীয় ছাত্রলীগ।
প্রায় ২৬ হাজার একর আয়তনের আড়িয়ল বিলে প্রায় ২৪ হাজার একর জমিতে ধান চাষ হয়। প্রতি বছর এ বিলে উৎপাদিত হয়ে থাকে প্রায় ৪০ হাজার টন ধান। আড়িয়ল বিলের শ্যামসিদ্ধি, গাদিঘাট, মত্তগ্রাম, মুন্সীর হাটি, ষোলঘর, সমসাবাদ, কেয়টখালী, মাইজপাড়া, হাঁসাড়া লস্করপুর, পুটিমারা, আলমপুর, শ্রীধরপুর, বাড়ৈখালী, মদনখালী, কালাইমারা, মরিচ পট্টি-প্রভৃতি এলাকার বিস্তীর্ণ জমিতে ধান চাষ হয়ে থাকে।
জানতে চাইলে এ বিষয়ে আল নাহিয়ান জয় এ প্রতিবেদককে বলেন, আমরা কৌশল অবলম্বন করেছি এ বিষয়ে। আমরা জানতে পেরেছি আমাদের আসা উপলক্ষে অনেকেই জমায়েত করেছেন। যেহেতু করোনাভাইরাসের কারণে সামাজিক দূরত্ব বজায় রাখার জরুরি, তাই কৌশলে আমরা দেরি করে এসেছি। যেন জমায়েতের লোকজন সরে যায়। এরপর বিকেলে আমরা ধান কাটতে এসেছি।
উপস্থিত মুন্সিগঞ্জ প্রেসক্লাবের সদস্য সাংবাদিক শাহ আলম নিতুল বলেন, ছাত্রলীগ সভাপতি ও সাধারণ সম্পাদকের আসার খবরে আমরা সকাল থেকে অপেক্ষায় ছিলাম। তাদের বেলা ১১টায় আসার কথা। কিন্তু এসেছেন ৪টায়। আমরা দীর্ঘ সময় অপেক্ষা করেছি। দেরির কারণ জানতে স্থানীয় নেতাদের বারবার জিজ্ঞেস করেছি, আমাদের প্রতিবারেই বলেছেন অপেক্ষা করতে। বলেছেন, নেতারা পথে আছেন, আসছেন।