করোনা সহায়তায় নিলামে তারকাদের ব্যাট-জার্সি

১২ ফেব্রুয়ারি, ২০০৫। দেশের ফুটবল অঙ্গনে নেমে এসেছিল অমানিশার অন্ধকার। শোকে ভাসিয়ে সেদিন না ফেরার দেশে চলে গিয়েছিলেন বাংলাদেশ তথা দক্ষিণ এশিয়ার অন্যতম সেরা ডিফেন্ডার মোনেম মুন্না

দেখতে দেখতে কেটে গেছে ১৫টি বছর। তার স্মৃতি আঁকড়ে বেঁচে আছেন তার স্ত্রী সুরভী মোনেম মুন্না আর দুই সন্তান ইউশরা মোনেম দানিয়া ও আজমান সালিদ। সময় কিন্তু ভুলিয়ে দেয়নি কীর্তিমানকে। মানবতাবাদী এক মুন্নাকে আজও লালন করে আছেন তার ভক্তরা। বেঁচে থাকতে যেমন অসচ্ছল সতীর্থদের জন্য জান বাজি রাখতে দেখা গেছে তাকে, তেমনই কারও দুঃখ-দুর্দশায় কেঁদে উঠত মুন্নার মন। কতশত মানুষকে যে সহায়তা করেছেন তার হিসাব নেই। দেশে এখন ঘোর দুর্যোগ। করোনাভাইরাসের সংক্রমণে এক কঠিন সময় পাড়ি দিচ্ছেন দেশের দরিদ্র, নিম্নবিত্ত মানুষ। রাজধানীর বাইরে সবচেয়ে বেশি আক্রান্ত মুন্নারই জন্মস্থান নারায়ণগঞ্জ। তিনি বেঁচে থাকলে আজ নিশ্চয়ই ঘরে বসে থাকতে পারতেন না। সেটা মনে করেই আজ দুস্থদের সহায়তায় বড় এক আত্মত্যাগ করতে চান মুন্নার স্ত্রী সুরভী মোনেম মুন্না। সিদ্ধান্ত নিয়েছেন অসংখ্য ভক্তের ভালোবাসায় সিক্ত মুন্নার একটি স্মরণীয় জার্সি নিলামে তোলার।

মুন্নার নাম ইতিহাসের পাতায় উঠে গেছে সেই ১৯৯৫ সালে। সেবারই দেশ পেয়েছিল প্রথম আন্তর্জাতিক সাফল্যের দেখা। মিয়ানমারে চারজাতি আসরের শিরোপা বাংলাদেশের হয়ে হাতে নিয়েছিলেন অধিনায়ক মুন্না। সেই আসরটি দুর্দান্ত খেলেছিলেন ২ নম্বর জার্সি পরে। এতদিন সেই জার্সি সযত্নে রেখেছিলেন সুরভী। জাতির দুর্যোগে স্মরণীয় সেই জার্সিটি নিলামে তুলে বিক্রি করে যে অর্থ পাওয়া যাবে তা দিয়ে অসহায়ের পাশে দাঁড়াতে চান তিনি, ‘মুন্না বেঁচে থাকলে হয়তো অসহায় মানুষের জন্য অনেক কিছুই করত। সে তো নেই। তারপরও আমি সিদ্ধান্ত নিয়েছি তার সেই জার্সিটি নিলামে তোলার। এতে করে যদি কিছু মানুষের উপকারে আসা যায়।’

নিলামের এই চিন্তাটা সুরভীর মাথায় এসেছে বিশ্বসেরা অলরাউন্ডার সাকিব আল হাসানের গত বছর বিশ্বকাপে খেলা ব্যাট নিলামে তোলা দেখে। সাকিব সেটি বিক্রি করেছেন ২০ লাখ টাকায়, যা তিনি খরচ করবেন অসহায় মানুষের সাহায্যার্থে। ফলপ্রসূ একটি নিলাম আয়োজনে সুরভী সাহায্য চাইছেন ক্রীড়াঙ্গনের সবার কাছে, ‘নিলামে ওঠানোর প্রক্রিয়াটা আমার জানা নেই। কেউ যদি এগিয়ে এসে সহায়তা করে ভালো হয়। আমরা জার্সিটি ২৫ বছর ধরে সযত্নে রেখেছি। সেটা যদি কেউ কিনতে চায় একটা ভালো মূল্যে তবে বিপদগ্রস্ত মানুষদের কেউ কেউ উপকৃত হবে। এর বেশি তো আমাদের কিছু করার নেই।’

গুণটা তিনি পরিবারের মানুষের মাঝেও ছড়িয়ে দিয়ে গেছেন। তাই তো মৃত্যু তাকে গ্রাস করতে পারেনি। মুন্না চির অমর হয়েই থাকবেন বাংলাদেশের ফুটবল আকাশে।