কারখানার মালিকরা শ্রমিকদের ওপর শুধু লোকসানের ভাগ চাপিয়ে দেন- এমন অভিযোগ করেছেন অর্থনীতিবীদ অধ্যাপক আনু মুহম্মদ।
শুক্রবার রানা প্লাজা ধসের সাত বছর উপলক্ষে এক আলোচনা সভায় তিনি এ মন্তব্য করেন।
ফেইসবুকে ‘করোনা ঝুঁকি এবং শ্রমিকের অধিকার’ শীর্ষক ওই আলোচনায় বক্তারা বলেন, রানা প্লাজা যেমন শ্রমিকদের জীবনে বিরাট একটি ধাক্কা ছিল, তেমনি করোনাভাইরাসের প্রভাবও শ্রমিকদের জীবনে বড় ধাক্কা হয়ে আসছে। সরকারের উচিৎ দ্রত সোহেল রানার শাস্তি প্রদান এবং করোনাকালে দূরে না ঠেলে সরকার, মালিক ও বায়ারদের মিলে শ্রমিকদের দায়িত্ব নেয়া।
অধ্যাপক আনু মুহাম্মদ বলেন, মালিকরা কেবল ক্ষয়-ক্ষতির কথা বলে শ্রমিকদের অধিকার আড়াল করে যেতে চায়। শ্রমিকদের তারা তাদের লাভের ভাগ দেয় না বটে কিন্তু তাদের লোকসানের ভাগ চাপিয়ে দিতে চায়।
পোশাক খাতের ইতিহাসে মর্মান্তিক কালো অধ্যায়ের নাম রানা প্লাজা ধস। ২০১৩ সালের এ দিনে সাভারে নয় তলা রানা প্লাজা ভবন ধসে সহস্রাধিক শ্রমিক নিহত হন। আহত হন প্রায় তিন হাজার। এদের মধ্যে অনেকেই পঙ্গু হয়ে মানবেতর জীবনযাপন করছেন।
শুক্রবার এ দিনটি স্মরণে নিহতদের স্মরন করে ধ্বসে পড়া ভবনের সামনে নির্মিত অস্থায়ী বেদিতে ফুল দিয়ে শ্রদ্ধা জানান আহত শ্রমিক, নিহতের স্বজন, বিভিন্ন শ্রমিক সংগঠন, আইনশৃঙ্খলা বাহিনীসহ বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার লোকজন।
তবে এ বছর দেশে মহামমারি করোনাভাইরাসের কারণে রানা প্লাজা কোনো কর্মসূচি দেয়নি শ্রমিক সংগঠনগুলো। এ ছাড়া প্রশাসনের পক্ষ থেকে ঝুঁকি এড়াতে দিনব্যাপী পুরো এলাকা লকডাউন ঘোষণা করা হয়।
এর মধ্যেই সকালে ঢাকা জেলা পুলিশ, সাভার মডেল থানা, আশুলিয়া থানা ও শিল্প পুলিশের পক্ষ থেকে পৃথকভাবে শ্রদ্ধা নিবেদন করা হয়।
গার্মেন্টস শ্রমিক ট্রেড ইউনিয়ন কেন্দ্রের সাংগঠনিক সম্পাদক খায়রুল মামুন মিন্টু বলেন, ‘করোনাভাইরাসের প্রভাবে দেশ, জাতি ও শ্রমিকদের কল্যাণে রানা প্লাজার সব কর্মসূচি স্থগিত করা হয়েছে। করোনা রোধে সামাজিক দূরত্বের বিষয়টিকে গুরুত্ব দিয়ে এ সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়। আশা করি, সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম ফেইসবুকসহ অন্যান্য মাধ্যমে রানা প্লাজা ধসে নিহতদের শ্রদ্ধা জানাবে সবাই’।
এদিকে রানা প্লাজা ধসের ৭ বছরে পুর্তিতে গার্মেন্ট শ্রমিক সংহতির ডাকে রানা প্লাজার নিহতদের স্বজন, আহত শ্রমিকসহ বিভিন্ন এলাকার শ্রমিকরা যার যার অবস্থান থেকে ১ মিনিট নীরবতা পালন করেছে।
তাদের কারো হাতে ছিলো স্বজনের ছবি, কারো হাতে ‘আমরা তোমাদের ভুলবো না’, ‘দোষীদের ছাড়বো না’, ‘সংখ্যা নয় প্রাণ’ এমনি প্রতিবাদী বক্তব্য ও দাবি।
সেই নীরবতার ও প্রতিবাদের ছবি সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে পোস্ট দেওয়া হয়।
এতে অংশ নেন নিহত ফজলে রাব্বীর মা রাহেলা খাতুন, আহত শ্রমিক ইয়ানুর, আহত শ্রমিক রূপালী আক্তার, নিহত সনজিত দাসের মা-বাবা শুন্যবালা দাস এবং সত্যজিত দাস, নিহত সাহিদার বাবা হোসেন মিয়া, নিহত শাওনের বাবা আজিজ মিয়া, নিহত শান্তনার বোন সেলিনা আক্তার নিহত বেবী আক্তারের স্বামী ও কন্যাসহ অনেকে।
গার্মেন্ট শ্রমিক সংহতির নেতা তাসলিমা আখতার ফেইসবুকে বলেন, সাত বছর পার হলেও রানা প্লাজা ধসের পেছনে প্রকৃত দায়ীদের এখনো বিচার হয়নি। আহত শ্রমিকরা নানা শারীরিক জটিলতা নিয়ে করোনাভাইরাসের এ পরিস্থিতিতে আরো বেশি কষ্টের মধ্যে পড়েছেন। মালিকপক্ষ মুনাফা ছাড়া আর কিছুই বোঝে না। এ জন্যই করোনাভাইরাসের মতো কঠিন পরিস্থিতিতেও শ্রমিকদের কারখানায় টেনে এনে সংক্রমণের ঝুঁকি বৃদ্ধির আশঙ্কা তৈরি হয়েছে।