ক্রয় বিধিমালায় সংশোধন চায় সরকারি কাজের ঠিকাদাররা

করোনাভাইরাসের কারণে সৃষ্ট ক্ষতি মোকাবিলায় সরকারি কাজে অংশগ্রহণকারী ঠিকাদারদের সংগঠন বাংলাদেশ গভর্নমেন্ট টেন্ডারার্স ফোরাম (বিজিটিএফ) সরকারি ক্রয় বিধিমালা-২০০৮ (পিপিআর-২০০৮) এর সংশোধন দাবি করেছে।

শুক্রবার এক বিবৃতিতে বিজিটিএফ এ দাবি জানায়।

সংগঠনটি জানায়, করোনা ভাইরাসের কারণে অনেক ঠিকাদার অর্থ সংকটে ভুগছেন। কারণ তারা অডিটর জেনারেলের কার্যালয় থেকে অর্থ ছাড় পাচ্ছেন না। এ প্রেক্ষিতে বিজিটিএফ সম্পাদিত কাজের বিল অতি দ্রুত দেওয়া জন্য আহ্বান জানান তারা।

এ ছাড়া চলমান কাজ বন্ধ থাকার কারণে ঠিকাদারদের নির্মাণ ব্যয় বৃদ্ধি পাচ্ছে জানিয়ে তারা বলে, এসব ঠিকাদারদের মধ্যে অনেককে উচ্চহারে ব্যাংক সুদ গুনতে হচ্ছে।  ব্যাংক স্বল্প পরিসরে তাদের কার্যক্রম পরিচালনার কারণে অনেক ঠিকাদার দরপত্রে অংশ নিতে পারছেন না। ফলে নির্মাণ খাতে নিয়োজিত প্রায় ২০ লাখ শ্রমিক বেকার হয়ে পড়েছে এবং মজুরি না পেয়ে তারা দুর্বিষহ জীবন কাটাচ্ছে। ঠিকাদাররাও আর্থিক সংকটে বিভিন্ন সমস্যার মুখোমুখি হচ্ছে।

তারা জানায়, নির্মাণ ও ক্রয় কার্য বন্ধ থাকায় সরকার ঘোষিত ৭২ হাজার কোটি টাকার প্রণোদনা প্যাকেজ থেকে তারা কাঙ্ক্ষিত সুবিধা নিতে পারবে না।

বিজিটিএফ জানায় বৃহস্পতিবার সেন্ট্রাল প্রকিউরমেন্ট টেকনিক্যাল ইউনিট (সিপিটিইউ) এর সঙ্গে একটি ভার্চুয়াল সভায় তারা এসব সমস্যা সমাধানে দ্রুত ব্যবস্থা নিতে আহ্বান জানায়। সভায় সিপিটিইউ এর মহাপরিচালক মোহাম্মদ শোহেলের রহমান চৌধুরী প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন বলেও জানায় তারা।

এ ছাড়া সিপিটিইউ পরিচালক (প্রশিক্ষণ ও সমন্বয়) শীষ হায়দার চৌধুরী, ডিআইএমএপিপি এর প্রধান প্রকল্প ব্যবস্থাপনা পরামর্শক মোস্তা গাউসুল হক, সিপিটিইউ এর সিনিয়র কমিউনিকেশনস কনসালট্যান্ট মো. শফিউল আলম, বিজিটিএফ এর আহ্বায়ক ও এলজিইডির নির্বাহী প্রকৌশলী মো. আবদুস সাত্তার এবং বিজিটিএফ সদস্য সচিব ও মোজাহার এন্টারপ্রাইজের ব্যবস্থাপনা পরিচালক কাজী মোজাহারুল হক উক্ত সভায় বক্তব্য রাখেন। 

বাংলাদেশ সেন্টার ফর কমিউনিকেশন পোগ্রামস (বিসিসিপি) সভাটি আয়োজন করেন।

শোহেলের রহমান জানান, বিশ্বব্যাপী, কভিড ১৯-এর জন্য পিপিআর ২০০৮-এ প্রয়োজনীয় সংশোধন করার পদক্ষেপ গ্রহণ করছে এবং আমাদের সরকারও তা বিবেচনা করবে।

কোভিড-১৯ মহামারির জন্য দীর্ঘ সরকারি ছুটি অনুধাবন করে, প্রাথমিক পর্যায়ে সিপিটিইউ কিছু অগ্রিম পদক্ষেপ নিয়েছিল। এই পদক্ষেপগুলোর মধ্যে ই-জিপি হেল্প ডেস্ক টিমের সদস্যদের যেকোনো সমস্যা জরুরি ভিত্তিতে সমাধানের জন্য নির্দেশ দেওয়া হয়েছিল বলে তিনি উল্লেখ করেন। 

তিনি জানান, করোনাভাইরাসের কারণে অনেক ঠিকাদার অর্থ সংকটে ভুগছে। কারণ তারা অডিটর জেনারেলের কার্যালয় থেকে অর্থ ছাড় পাচ্ছে না।

বিল পরিশোধের জন্য তাদের দাবি বিবেচনা করা উচিত এবং বিষয়টি সমাধানের জন্য অর্থ বিভাগের সঙ্গে যোগাযোগ করা হবে বলে তিনি আশ্বাস দেন।

তিনি বলেন, কভিড -১৯ এর জন্য সাধারণ ছুটির কারণে সারা দেশে অনেক অবকাঠামো নির্মাণকাজ অসম্পূর্ণ রয়ে গেছে যা গুরুতর সমস্যা সৃষ্টি করেছে। আমরা এই পরিস্থিতি কাটিয়ে উঠতে সব ধরনের ব্যবস্থা গ্রহণ করব।

সিপিটিইউ এর মহাপরিচালক আরো জানান চলতি অর্থ বছর প্রায় শেষের দিকে, কিন্তু এখন পর্যন্ত বিভিন্ন প্রকল্পের বাজেট বরাদ্দ কাজে লাগানো যায়নি। এসব কিছু বিবেচনায় অনেকে ২০১৯-২০ অর্থবছরের কার্যক্রম ৩১ ডিসেম্বর, ২০২০ পর্যন্ত চালিয়ে যাওয়ার বিষয়ে পরামর্শ দিয়েছে।

কিন্তু এটি সরকারের উচ্চ পর্যায়ের সিদ্ধান্তের বিষয়, তবে আমি সংশ্লিষ্ট পর্যায়ে বিষয়টি অবহিত করার ব্যবস্থা গ্রহণ করব।

শোহেলের রহমান বলেন, সংশ্লিষ্ট পর্যায় থেকে যাতে আরও পরামর্শ আসে সে জন্য ই-জিপির কর্মপরিধি বাড়ানোর উদ্যোগ গ্রহণ করা হয়েছে। অনেকগুলি সমস্যার সমাধান করা দরকার এবং সমস্ত দায়িত্ব সিপিটিইউর হাতে। তবে সম্প্রতি, ক্রয়কারী সংস্থাগুলোকে কিছু ভুল সংশোধনের জন্য কর্তৃত্ব দেওয়া হয়েছে যা সিপিটিইউ এর ওপর বোঝা হ্রাস করবে।

অন্যান্যের মধ্যে উক্ত সভায় আরো বক্তব্য রাখেন, বিল্ডের প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা ফেরদৌস আরা বেগম এবং বেসিস এর সভাপতি সৈয়দ আলমাস কবির।