রাজধানীর অদূরে সাভারে ‘রানা প্লাজা’ ট্র্যাজেডির সাত বছর পূর্ণ হয়েছে গতকাল শুক্রবার। প্রতি বছর এই দিনে নিহতদের স্মরণে ধসে পড়া ভবনটির সামনে নির্মিত অস্থায়ী বেদিতে ফুল দিয়ে শ্রদ্ধা জানান নিহতদের স্বজন, আহত শ্রমিক, বিভিন্ন শ্রমিক সংগঠন, আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীসহ বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার মানুষ। তবে এ বছর দেশে করোনাভাইরাস সংক্রমণের প্রেক্ষাপটে সেখানে কোনো কর্মসূচি পালন করেনি শ্রমিক সংগঠনগুলো। প্রশাসনের পক্ষ থেকে ঝুঁকি এড়াতে দিনব্যাপী পুরো এলাকা ‘লকডাউন’ ঘোষণা করা হয়। এরই মধ্যে ‘রানা প্লাজা’র সামনে নিহত ও নিখোঁজ শ্রমিকদের স্মরণে ফুল দিয়ে শ্রদ্ধা নিবেদন করেছেন পুলিশ বাহিনীর সদস্যরা। সকালে ঢাকা জেলা পুলিশ, সাভার মডেল থানা, আশুলিয়া থানা ও শিল্পপুলিশের পক্ষ থেকে আলাদাভাবে শ্রদ্ধা জানানো হয়।
২০১৩ সালের ২৪ এপ্রিল ৯ তলা ভবন ‘রানা প্লাজা’ ধসে নিহত হন ১ হাজার ১৩৬ জন। আহত হন দুই হাজারেরও বেশি মানুষ। তাদের মধ্যে অনেকেই পঙ্গু হয়ে মানবেতর জীবনযাপন করছেন। হতাহতদের বেশিরভাগ ছিলেন ওই ভবনে থাকা বিভিন্ন পোশাক কারখানার শ্রমিক।
গার্মেন্টস শ্রমিক ট্রেড ইউনিয়ন কেন্দ্রের সাংগঠনিক সম্পাদক খায়রুল মামুন মিন্টু বলেন, ‘করোনাভাইরাসের প্রভাবে দেশ, জাতি ও শ্রমিকদের কল্যাণে রানা প্লাজার সকল কর্মসূচি স্থগিত ঘোষণা করা হয়েছে। করোনা রোধে সামাজিক দূরত্বের বিষয়টিকে গুরুত্ব দিয়ে এই সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়। আশা করি, ফেইসবুকসহ সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে রানা প্লাজা ধসে নিহতদের শ্রদ্ধা জানাবে সবাই।’ এদিকে ‘রানা প্লাজা’ ট্র্যাজেডির ৭ বছর পূর্তিতে গার্মেন্ট শ্রমিক সংহতির ডাকে নিহতদের স্বজন, আহত শ্রমিকসহ বিভিন্ন এলাকার শ্রমিকরা নিজ নিজ অবস্থান থেকে ১ মিনিট নীরবতা পালন করেছে। তাদের কারও হাতে ছিল স্বজনের ছবি, কারও হাতে ‘আমরা তোমাদের ভুলবো না’, ‘দোষীদের ছাড়বো না’, ‘সংখ্যা নয় প্রাণ’ এমনি প্রতিবাদী বক্তব্য ও দাবি।