মরণঘাতী করোনাভাইরাসের সংক্রমণ অব্যাহত থাকায় রপ্তানি আদেশ বাতিল হয়ে যাওয়ার কারণ দেখিয়ে আশুলিয়ায় এক কারখানার ৮ শতাধিক শ্রমিক, কর্মচারী ও কর্মকর্তাকে চাকরিচ্যুত করেছে মালিকপক্ষ।
শনিবার সকালে আশুলিয়ার ধনাইদ এলাকার সিগমা ফ্যাশন লিমিটেডের মূল ফটকে কারখানাটি লে-অফ ঘোষণা ও ৮১৫ শ্রমিক-কর্মচারী ছাঁটাইয়ের নোটিশ ঝুলিয়ে দিয়েছে কারখানা কর্তৃপক্ষ।
কারখানাটির মহাব্যবস্থাপক স্বাক্ষরিত নোটিশে বলা হয়, বর্তমানে বিশ্বে করোনাভাইরাস (কোভিড-১৯) সংক্রমিত হওয়ায় প্রতিষ্ঠানটির সব রপ্তানিজাত পণ্যের উৎপাদন বন্ধ হয়ে গেছে এবং আন্তর্জাতিক ক্রেতাদের সব ক্রয়াদেশও বাতিল হয়ে গেছে। এ প্রেক্ষিতে গত ১ এপ্রিল ২০২০ থেকে ৩১ মে পর্যন্ত কারখানা লে-অফ ঘোষণা করা হয়। এ অবস্থায় কারখানাটি সম্পূর্ণভাবে পরিচালনা করা সম্ভব না হওয়ায় নোটিশের তালিকায় থাকা শ্রমিক-কর্মচারীদের বাংলাদেশ শ্রম আইন ২০০৬ এর ১২, ১৬ এবং ২০ অনুযায়ী ১৮ এপ্রিল থেকে ছাঁটাই করা হলো। সরকারি ডাক বিভাগ খোলা সাপেক্ষে ছাঁটাই শ্রমিকদের স্থায়ী ঠিকানায় ছাঁটাইয়ের চিঠি পাঠানো হবে।
এতে আরো বলা হয়, করোনা পরিস্থিতি স্বাভাবিক হওয়ার সাপেক্ষে ছাঁটাই শ্রমিক, কর্মচারী ও কর্মকর্তাদের পাওনা ব্যাংক এর মাধ্যমে ব্যক্তিগত ব্যাংক হিসাব নম্বরে ০৭ মে ২০২০ এর মধ্যে প্রদানের সিদ্ধান্ত হয়।
এর প্রতিবাদে কারখানার সামনে অবস্থান নিয়ে বিক্ষোভ করেন ছাঁটাই হওয়া শ্রমিকরা।
শ্রমিক শোভা আক্তার, মনোয়ারা বেগম, সামছুন্নাহার ও ফাতেমাসহ অনেকেই অভিযোগ করেন, হঠাৎ করে লে-অফ ঘোষণা করায় কারখানাটির প্রায় সহস্রাধিক শ্রমিক বেকার হয়ে পড়েছে। পাশাপাশি কারখানাটিতে শ্রমিকদের দুই মাসের বেতন-ভাতা বকেয়া রয়েছে। এ অবস্থায় ছাঁটাইয়ের কারণে শ্রমিকদের মাঝে মানবিক বিপর্যয় দেখা দেবে বলেও আশঙ্কা প্রকাশ করেন তিনি।
দীর্ঘদিন ধরে কারখানাটিতে কর্মরত সুইং অপারেটর রফিকুল ইসলাম চাকরি হারিয়ে কান্নাজড়িত কণ্ঠে বলেন, বর্তমানে দেশের অবস্থা ভালো না হওয়ায় এমনিতেই আমরা অনেক কষ্টে দিনাতিপাত করছি। এর মধ্যে হঠাৎ ছাঁটাই করে দেওয়ায় পরিবার নিয়ে এখন কোথায় যাবে কি করব বুঝতে পারছি না। এত বছর ধরে এ কারখানায় কাজ করছি। হঠাৎ সাধারণ ছুটির মধ্যে কারখানা বন্ধ করে দেওয়া কোন আইনে আছে। আমাদের বেতন দেয়নি অফিস থেকে কিছু বলাও হয়নি, হুট করে আজ সকালে শ্রমিকদের নাম দিয়ে ছাঁটাই তালিকা টাঙিয়ে দিয়েছে।
অপর শ্রমিক বিলকিস বেগম বলেন, করোনার কারণে কারখানা বন্ধ থাকায় আমরা বাসায় অবস্থান করছি। আমাদের ঘর ভাড়া বাকি আছে, ঘরে চাল নাই, বাড়ি যে যাবে তারও টাকা নাই। তাই ছাঁটাইকৃত সব শ্রমিককে অবিলম্বে কারখানায় চাকরিতে পুনর্বহালের দাবি জানান তিনি।
শ্রমিক নেতা খায়রুল মামুন মিন্টু বলেন, এ দুর্যোগে শ্রমিকেরা কষ্ট করে বাড়িতে না গিয়ে চাকরির আশায় শিল্প এলাকায় অবস্থান করছে। হঠাৎ করে শ্রমিকদের ছাঁটাই এবং কারখানার লে-অফ যেন মরার ওপর খাঁড়ার ঘা। তাই অবিলম্বে তিনি ছাঁটাই শ্রমিকদের বেতন-ভাতা পরিশোধসহ চাকরিতে পুনর্বহালের দাবি জানান।
এ ব্যাপারে কথা বলার জন্য কারখানার ব্যবস্থাপনা পরিচালক (এমডি) মিজানুর রহমানের মুঠোফোনে যোগাযোগ করা হলে ‘আমরা যা করেছি সব নোটিশে লেখা আছে’ বলেই তিনি লাইন কেটে দেন।
অন্যদিকে আশুলিয়ার কাঠগড় এলাকার সেঞ্চুরি ফ্যাশন কারখানার প্রায় পাঁচ শ শ্রমিক তাদের দুই মাসের বকেয়া বেতন পরিশোধের দাবিতে কারখানার সামনে অবস্থান নিয়ে সিঅ্যান্ডবি আশুলিয়া সড়ক অবরোধ করে বিক্ষোভ করেছেন।
তবে যে কোনো ধরনের অপ্রীতিকর পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে কারখানাগুলোর সামনে অতিরিক্ত পুলিশ মোতায়েন রয়েছে।