করোনাভাইরাস সংক্রমণের কারণে এবার রোজার প্রথম দিন থেকেই অনলাইন মাধ্যমে ইফতারি বিক্রির চাহিদা বেড়েছে। গত বছর রাজধানীতে যারা রেস্তোরাঁ কিংবা অফিসে বসে ইফতার করেছেন, তাদের অনেকে এবার ঘরে বসেই অনলাইনে ইফতারির অর্ডার করছেন। এদিকে করোনার এই দুর্যোগের সময় প্রতারণা ঠেকাতে অনলাইন মাধ্যমে ইফতারি বিক্রির প্রক্রিয়াটি সরকারিভাবে তদারকির জোর দাবি জানিয়েছেন ক্রেতারা।
মোহাম্মদপুর শিয়া মসজিদের পাশে ‘স্টেশন জিরো’ নামে একটি রেস্টুরেন্ট প্রতি বছরই ইফতারি বিক্রি করে থাকে। কিন্তু এবার জনসমাগমে সরকারি নিষেধাজ্ঞা থাকায় সেখানে বসে ইফতার করার কোনো ব্যবস্থা রাখা হয়নি। অনলাইনে অর্ডার করে ঘরে বসে এই রেস্টুরেন্টের ইফতারি কিনছেন অনেকে। গতকাল শনিবার রেস্টুরেন্টটির স্বত্বাধিকারী শাহজাদা সম্রাট দেশ রূপান্তরকে বলেন, ‘রোজার প্রথম দিন রেস্টুরেন্টে এসে লোকজন ইফতারি কিনেছেন কম। দুপুর থেকেই আমরা বিভিন্ন অনলাইন প্ল্যাটফর্ম থেকে অনেক অর্ডার পেয়েছি। তাদের বাসায় ইফতারি পৌঁছে দেওয়া হয়েছে। আমাদের এখানে হালিম, জিলাপি, শরবত, আলুর চপ, বেগুনি, ছোলাসহ নানা রকম ইফতারি রয়েছে।’
ফুড পান্ডা, উবার, সহজ, পাঠাওসহ বেশ কয়েকটি অনলাইন প্ল্যাটফর্মে ইফতারি বিক্রি হচ্ছে। ফুড পান্ডার বিক্রয়কর্মী আবু সালেহ বলেন, ‘সাধারণত বিশেষ কোনো দিনে বিশেষ খাবারের জন্য অর্ডার বেশি করা হয়। যেমন পিৎজা, কেক, চাওমিন। কিন্তু এখন নিত্যদিনের খাবারের অর্ডারও বেড়েছে। অনেকে ভাত-তরকারিও অর্ডার করছেন। করোনাভাইরাসের কারণে যেহেতু বাইরে বের হওয়া যাচ্ছে না, ফলে রোজার প্রথম দিনই অনলাইনে ইফতারির অর্ডার করেছেন অনেকে। রোজার মাসে মনে হয় অনলাইনে বিক্রি বাড়বে।’
তবে কয়েকটি অনলাইন প্ল্যাটফর্মে খাবারের দাম বেশি রাখা হচ্ছে অভিযোগ করেছেন পান্থপথের বাসিন্দা মুসলিম উদ্দিন। তিনি বলেন, ‘সাধারণ ছুটির কারণে আমার পরিবারের সবাইকে গ্রামে পাঠিয়ে দিয়েছি। আমি ব্যাংকে জব করি, যার জন্য অফিস করতে হচ্ছে। এই কদিন নিজেই রান্না করে খাওয়াদাওয়া করছি। ইফতারি বানানোটা একটু জটিল হওয়ায় রোজার প্রথম দিন অনলাইনে অর্ডার করে ইফতারি এনেছি। সামনের দিনগুলোতেও এভাবেই ইফতার করব। আমার মনে হয়েছে অনলাইন থেকে খাবার কিনলে দাম একটু বেশি রাখা হচ্ছে। এই প্রক্রিয়ায় খাবার বিক্রির ফলে আমার মতো অনেকের সুবিধা হয়েছে। তবে সরকারিভাবে সঠিক তদারকি না থাকলে মানুষের সঙ্গে প্রতারণাও বাড়তে থাকবে। এ জন্য অনলাইনে ইফতারসামগ্রীর মূল্য তালিকা নির্ধারণ করে সেটা তদারকি করা জরুরি।’