স্বঘোষিত সরকার ঘোষণা ইয়েমেনের বিচ্ছিন্নতাবাদীদের

সরকারের সঙ্গে শান্তি আলোচনা ভেস্তে যাওয়ায় যুদ্ধ বিধ্বস্ত দক্ষিণ ইয়েমেনে স্বঘোষিত সরকার ঘোষণা করেছে দক্ষিণাঞ্চলের বিচ্ছিন্নতাবাদীরা। যারা দীর্ঘ দিন ধরে সরকারের সঙ্গে দেশটির উত্তরাঞ্চল নিয়ন্ত্রণকারী ইরান সমর্থিত হুতি বিদ্রোহীদের সঙ্গে লড়াই করে যাচ্ছিল।

রবিবার রাতে স্বঘোষিত সরকার ঘোষণা করে দ্য সাউদার্ন ট্রানজিশনাল কাউন্সিল (এসটিসি)। মধ্য রাত থেকেই এই সরকারের কার্যক্রম শুরু হয়েছে বলে জানানো হয়। এসটিসি’র অভিযোগ, সৌদি আরব সমর্থিত ইয়েমেন সরকার তার দায়িত্বপালনে ব্যর্থ হয়েছে। তা ছাড়া সরকার দক্ষিণের বিরুদ্ধে ‘ষড়যন্ত্রে’ লিপ্ত।

এসটিসি এক বিবৃতিতে জানিয়েছে, দক্ষিণাঞ্চল শাসনের জন্য দ্য সাউদার্ন ট্রানজিশনাল কাউন্সিল ২৫ এপ্রিল, ২০২০ থেকে নিজস্ব সরকার ঘোষণা করেছে। সেই সঙ্গে এই বিবৃতিতে এডেন ও দক্ষিণাঞ্চলের প্রদেশগুলোতে জরুরি অবস্থা জারি করা হয়েছে।

হুতি বিদ্রোহীদের বিরুদ্ধে লড়াইয়ে সংযুক্ত আরব আমিরাত সমর্থিত এসটিসি এক সময় সৌদি সমর্থিত ও আন্তর্জাতিকভাবে স্বীকৃত প্রেসিডেন্ট আবেদ রাব্বো মানসুর হাদি সরকারের সঙ্গে জোটবদ্ধ ছিল।

করোনাভাইরাসের সংক্রমণ ঠেকাতে সম্প্রতি হুতিদের সঙ্গে যুদ্ধ বিরতি বাড়ানোর এক ঘোষণা দেয় ইয়েমেন সরকার। কিন্তু এই বিরতি মেনে না নিয়ে যুদ্ধ এখনো অব্যাহত রেখেছে ইরান মদদপুষ্ট হুতি বিদ্রোহীরা।

মিত্র হাদি সরকারের ছায়া থেকে বের হয়ে এবার নিজ অঞ্চলের জন্য স্বঘোষিত সরকারের ঘোষণা দিল এসটিসি। অবশ্য দীর্ঘ দিন ধরেই স্বাধীনতা চেয়ে আসছিল তারা। এ নিয়ে গত নভেম্বর তাদের সঙ্গে সৌদি আরবের সঙ্গে একটি ক্ষমতা বণ্টন চুক্তিও স্বাক্ষর হয়েছিল। এতে দক্ষিণাঞ্চলে যুদ্ধের দামামা অনেকটা কমে আসে বটে কিন্তু কোনো ফল আসেনি। দক্ষিণাঞ্চলের সমান সংখ্যক প্রতিনিধি রেখে নির্দিষ্ট সময়ে মন্ত্রী পরিষদ নতুন করে গঠন এবং সামরিকবাহিনী পুনর্গঠনে ব্যর্থ হওয়ায় দ্রুতই অকেজো হয় সেই চুক্তি।

ইয়েমেনে সরকারিবাহিনী ও হুতি বিদ্রোহীদের মধ্যে যুদ্ধে গত পাঁচ বছরে লক্ষাধিক মানুষের মৃত্যু হয়েছে।

বিশ্বজুড়ে করোনাভাইরাসের ভয়াল থাবায় ইয়েমেনও পড়েছে। চলতি মাসের শুরুতে দেশটিতে প্রথম করোনা আক্রান্ত রোগী পাওয়া যায়। যুদ্ধবিধ্বস্ত দেশটিতে প্রাণঘাতী এই ভাইরাস মহামারি আকারে ছড়িয়ে পড়লে দুর্দশার অন্ত থাকবে না।

এদিকে চলতি মাসেই ভয়াবহ বন্যা সইতে হয়েছে ইয়েমেনকে। এই বন্যায় অন্তত ২১ জনের প্রাণহানি হয়। তলিয়ে যায় এডেনের রাস্তাঘাট, ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে অনেক বাড়িঘর। এর মধ্যে এসটিসি’র স্বঘোষিত সরকার ঘোষণা দেশটির জন্য নতুন সংকটই বয়ে আনল।