ওজন স্তরের গর্ত নিজেই বন্ধ করল পৃথিবী

উত্তর মেরুর আকাশে বায়ুমণ্ডলের উপরের দিকে ওজোন স্তরের ১ মিলিয়ন স্কয়ার কিলোমিটার জুড়ে যে গর্ত সৃষ্টি হয়েছিল সেটি পৃথিবী নিজেই সারিয়ে তুলেছে। এই গর্তের সঙ্গে লকডাউনের ফলে পরিবেশের পরিবর্তনের সঙ্গে সম্পর্ক ছিল না।

বিবিসি জানিয়েছে, উত্তর মেরুর আর্কটিক অঞ্চলের আকাশে বায়ুমণ্ডলের তাপমাত্রা হঠাৎ কমে যাওয়ায় সেখানকার পোলার ভর্টেক্স বা মেরু ঘূর্ণাবর্ত অনেকটাই স্থিতিশীল হয়ে পড়ে। সেই সঙ্গে অঞ্চলটিতে বায়ুমণ্ডলে ক্লোরিন ও ব্রোমাইনের মতো বিষাক্ত কেমিক্যালের উপস্থিতিও বেড়ে যায়, যা ওজন স্তরকে নষ্ট করে দিতে সক্ষম।

সম্প্রতি ইইউর পক্ষ থেকে কোপারনিকাস অ্যাটমসফিয়ার মনিটরিং সার্ভিস (সিএএমএস) ও কোপারনিকাস ক্লাইমেট চেঞ্জ সার্ভিস (সি৩এস) নিশ্চিত করেছে, আশঙ্কা সৃষ্টিকারী এ গর্তটি নিজে থেকেই মিলিয়ে গেছে।

এ বিষয়ে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম টুইটারে তারা বায়ুমণ্ডলের নতুন কিছু ছবিও প্রকাশ করেছে, যেখানে ওজন স্তরের সেরে ওঠার বিষয়টি পরিষ্কার হয়েছে।

ওজন স্তরের কারণে সূর্য থেকে নির্গত ক্ষতিকর রশ্মি আমাদের এই পৃথিবীতে আসতে পারে না। ওই রশ্মির কারণে ত্বকের ক্যান্সার থেকে শুরু করে চোখেরও বড় রকমের ক্ষতি হতে পারে।

অর্থাৎ ওজন স্তর যদি না থাকে তাহলে সূর্যের অতিবেগুনী রশ্মি আমাদের এই পৃথিবীতে এসে পৌঁছাবে যা মানুষ, প্রাণী এবং উদ্ভিদের জন্যে ক্ষতিকর।

নানা ধরনের কেমিকেল বা রাসায়নিক পদার্থ ব্যবহারের কারণে ধ্বংস হয়ে যাচ্ছে এই ওজন স্তর, সেখানে বড় বড় গর্ত তৈরি হচ্ছে যা গলে পৃথিবীতে ঢুকে পড়ছিল ক্ষতিকর রশ্মি।

বছর তিনেক আগে থেকে সেটি বুজতে শুরু করে।

বিজ্ঞানীরা বলছেন, ২০০০ সালে ওই গর্তটির আকার ছিলো প্রায় ভারতের আয়তনের সমান। কিন্তু ১৫ বছর পর অর্থাৎ ২০১৫ সালে দেখা যায় ওই গর্তটি প্রায় ৪০ লাখ বর্গ কিলোমিটার ছোট হয়ে গেছে।

মার্কিন প্রফেসর সুজান সোলোমন এবং তার সহকর্মীরা মিলে এবিষয়ে একটি গবেষণা চালিয়েছেন। তাদের সঙ্গে ছিলেন যুক্তরাজ্যে লীডস বিশ্ববিদ্যালয়ের গবেষকরাও।

তারা ২০০০ থেকে ২০১৫ সাল পর্যন্ত স্ট্র্যাটোসফেয়ারে ওজনের পরিমাণ পরীক্ষা করে দেখেছেন। আবহাওয়া বেলুন ও স্যাটেলাইট থেকে পাওয়া তথ্য তারা ব্যবহার করেছেন এই গবেষণায়।

তারা দেখিয়েছেন, ওই ১৫ বছরে এন্টার্কটিকার ওপরে প্রায় চল্লিশ লাখ বর্গ কিলোমিটার এলাকাজুড়ে ওজন স্তরের পাতলা হয়ে যাওয়াটা কমেছে। সেটি কমতে কমতে এখন পুরোটা ভালো হয়ে গেল।