পটুয়াখালীতে লোকসানের মুখে হাজারো রবিশষ্য চাষি

অনুকূল আবহাওয়াসহ রোগবালাইয়ের প্রাদুর্ভাব না থাকায় বাম্পার ফলন হলেও লোকসানের মুখে পড়েছে খাদ্য উদ্বৃত জেলা পটুয়াখালীর ত্রিশ হাজার রবিশষ্য চাষি।

লাগাতার লকডাউনে পরিবহন সংকটে বাজারজাত করতে নাা পারায় নষ্ট হচ্ছে ক্ষেতের ফসল।

চলমান এ পরিস্থিতিতে লাভ নয় ফসল বিক্রি করে দায়দেনা শোধে সরকারি সহায়তা চাচ্ছেন কৃষকরা 

এক সময় পটুয়াখালীর উপকূলীয় অঞ্চলে রবিশষ্যের তেমন আবাদ না হলেও গত এক দশকে এ অবস্থায় এসেছে আমূল পরিবর্তন।

ডাল, আলুসহ হাতেগোনা কয়েকটি ফসলের আবাদ হলেও এখন মিষ্টি পানির সংরক্ষণ করে অনুকূল আবহাওয়া কাজে লাগিয়ে কৃষি বিভাগের পরামর্শে বাম্পার ফলনে দিনদিন বাড়ছে আবাদি জমি।

বাড়ছে কৃষকের সংখ্যা। আবাদ হচ্ছ মরিচ, ভুট্টা, আলু, মুগডাল, সূর্যমুখী, বাদাম, তরমুজ, শীতকালীন সবজিসহ প্রায় সকল ধরনের রবি ফসলের।

এতে কৃষকের আর্থিক অবস্থায় এসেছে বেশ পরিবর্তন। ধান চাষে ক্ষতি হলেও পুষিয়ে নিচ্ছেন রবি ফসলের আবাদে। 

জেলা কৃষি সম্প্রসারণ অফিস সূত্রে জানা যায়, চলতি রবি মৌসুমে জেলার ১ লক্ষ ২৯ হাজার ৬৮৫ হেক্টর জমিতে হয়েছে বিভিন্ন রবি ফসলের আবাদ। এর মধ্যে ৯৭ হাজার ৪৪০ হেক্টর জমিতে হচ্ছে মুগডালের চাষ।

যা বিগত বছরের তুলনায় সাড়ে ২১ হাজার হেক্টর বেশি। জেলার রাংগাবাল, গলাচিপা ও কলাপাড়ায় ১৪ হাজার ৮২২ হেক্টর জমিতে তরমুজ, মরিচ ৭ হাজার ৩৬০ হেক্টর, ১১’শ ৭৬ হেক্টর জমিতে ভূট্টা, সূর্যমুখী ২৮৫ হেক্টর এবং ৮ হাজার ৫’শ ৮৫ হেক্টর জমিতে শীতকালীন সবজির চাষ হয়েছে। 

লক্ষ্যমাত্রার চেয়ে বেশিতে জমিতে রবি আবাদসহ বাম্পার ফলন হলেও লাগাতার লকডাউনে কারনে পাইকাদের আনাগোনা না থাকায় এবং বাজারজাত করতে না পারায় কৃষকের ক্ষেতেই নষ্ট হচ্ছে ফসল ও সবজি।

এমন লোকসানের মুখে পড়া কৃষকরা দায়দেনা শোধের দুশ্চিন্তায় হয়ে পড়েছেন দিশেহারা।

সরকার ঘোষিত প্রণোদনায় ক্ষতি পুষিয়ে লাভের মুখ দেখবে কৃষক এমন স্বপ্ন প্রত্যাশায় জেলার ত্রিশ হাজার রবিশষ্য চাষির।

রাঙ্গাবালীর তরমুজ চাষি দেলোয়ার হোসেন জানান, প্রতিবছরের মতো এবার দেশের বিভিন্ন প্রান্ত থেকে পাইকারদের আগমন না থাকায় তরমুজ বিক্রি হয়নি।

এছাড়াও স্থানীয় বাজারে চাহিদা কম থাকায় কাঙ্খিত মূল্য পান না। অনেক তরমুজ ক্ষেতেইে নষ্ট হয়ে গেছে।

পটুয়াখালী সদরে উপজেলার আউলিয়াপুরের মুগ ডাল চাষি হারুনর রশিদ জানান, লকডাউনের কারণে শ্রমিক সংকট থাকায় ক্ষেত থেকে এখনও ডাল তুলতে পারেননি। অবস্থাদৃষ্টে মনে হচ্ছে ক্ষেতের ফসল ক্ষেতেই নষ্ট হবে।

সরকার ঘোষিত প্রণোদনা সঠিক সময়ে কৃষকদের মাঝে বিতরণ করা হলে ক্ষতি পুষিয়ে লাভের মুখ দেখবে কৃষক এমন প্রত্যাশা ব্যক্ত করে জেলা কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের উপ-পরিচালক হৃদয়েশ্বর দত্ত বলেন, ইতোমধ্যে কৃষকদের তালিকা প্রণয়ন করে ১৫ হাজার কৃষককে আউশ প্রণোদনা দেয়া হয়েছে। ২০ মেট্রিক টন আউশ ধানের বীজও কৃষকদের দেয়া হয়েছে। চলমান এ প্রক্রিয়ায় সকল কৃষক সহায়তা পাবেন।