ঠাকুরগাঁওয়ে করোনা সংক্রমণ রোধে কর্মহীনদের মাঝে নিম্নমানের চাল বিতরণের অভিযোগ পাওয়া গেছে। নিম্নমানের এসব চাল ফেরত দিতে আসায় স্থানীয়দের সাথে ইউপি সদস্যের লোকজনের বিতন্ডা ও ধস্তাধস্তি হয়েছে।
সোমবার দুপুরে সদর উপজেলার মোহাম্মদপুর ইউনিয়নের বানিয়াপাড়ায় এ ঘটনা ঘটে। পরে পুলিশ গিয়ে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনে।
স্থানীয়দের অভিযোগ, এলাকার কর্মহীনদের সহায়তা প্রদানে ইউপি সদস্য গোলাম রব্বানী স্থানীয় বিত্তবানদের কাছ থেকে ৬৫ হাজার টাকা চাঁদা উত্তোলন করে। সেই টাকায় নিম্নমানের চাল কিনে রবিবার কর্মহীন ৩৬২জনকে ৫ কেজি করে চাল দেওয়া হয়। সেই সময় ইউপি চেয়ারম্যান মো. সোহাগ উপস্থিত ছিলেন। সেই চাল নিয়ে রাতে রান্না করলে দুর্গন্ধের কারণে কেউ খেতে পারেনি বলে অভিযোগ স্থানীয়দের।
সোমবার সকালে বানিয়াপাড়া প্রাথমিক বিদ্যালয় মাঠে দরিদ্র কর্মহীনরা ওই চাল ফেরত নিয়ে আসে। এনিয়ে ইউপি সদস্যের লোকজন কর্মহীনদের উপর চড়াও হয়। এ সময় ইউপি সদস্যের লোকজনের সাথে কর্মহীনদের ধাক্কাধাক্কিরও ঘটনা ঘটে।
চাল ফেরত দিতে আসা লাভলী বেগম বলেন, দুর্গন্ধের কারণে ওই চালের ভাত খেতে পারিনি। তাই সকালে এসেছি চাল ফেরত দিতে। কিন্তু ইউপি সদস্যের লোকজন্য গালমন্দ করেছে। এতে উত্তেজনা ছড়িয়ে পরে। পরে পুলিশ এসে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনে। পরে চাল ফেরত নিয়ে পুনরায় চাল দেওয়ার আশ্বাস দেয় স্থানীয় ইউপি চেয়ারম্যান।
ওই এলাকার বাসিন্দা গনেশ অভিযোগ করে বলেন, তার পরিবারের ৩ ভাই মিলে ২৫ হাজার টাকা চাঁদা দিয়েছে করোনায় কর্মহীনদের সহায়তা করতে। কিন্তু নিম্নমানের চাল এনে বিতরণ করবে এটা স্থানীয় কেউ মেনে নিতে পারেনি। বরং ইউপি সদস্যের চোখ রাঙানি এবং গালমন্দ শুনেছে। তাই ক্ষেপে গেছে হতদরিদ্ররা।
তবে এসব অভিযোগ পুরো সত্য নয় দাবি স্থানীয় ইউপি সদস্য গোলম রব্বানীর। তিনি বলছেন, দুই-চার বস্তায় খারাপ চাল থাকতে পারে। দুইজন ওই চালের ভাত খেতে পেরেছে বলে দাবি করেন তিনি।
এ ব্যাপারে সদর উপজেলার মোহাম্মদপুর ইউনিয়নের চেয়ারম্যান মো. সোহাগ বলেন, বিতরণকৃত চাল ফেরত নেওয়া হয়েছে। পরে তাদের মাঝে ভাল চাল বিতরণ করা হবে।