তিন উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স লকডাউন

করোনাভাইরাসজনিত রোগ কভিড-১৯ সংক্রমণ ঠেকাতে গতকাল তিন উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স লকডাউন করা হয়েছে। এর মধ্যে এক নৈশপ্রহরী করোনা আক্রান্ত হওয়ায় জয়পুরহাটের কালাই উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স গত সোমবার রাত থেকে লকডাউন ঘোষণা করা হয়েছে। বিশ^ম্ভরপুর উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স হাসপাতালের গাড়িচালক, স্যানিটারি ইন্সপেক্টর ও একজন মাঠকর্মী করোনা আক্রান্ত হওয়ায় গতকাল স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সটি লকডাউন করা হয়। আলমডাঙ্গা উপজেলাতে আক্রান্ত ১৯ জনের মধ্যে ১৭ জনই উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের চিকিৎসক, ল্যাব টেকনিশিয়ান, ইপিআই সুপারভাইজার ও ড্রাইভার।  বিস্তারিত আমাদের প্রতিনিধিদের পাঠানো খবরে

জয়পুরহাটের কালাই হাসপাতাল লকডাউন : নৈশপ্রহরী করোনা আক্রান্ত হওয়ায় জয়পুরহাটের কালাই উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স সোমবার রাত থেকে লকডাউন ঘোষণা করা হয়েছে। গতকাল মঙ্গলবার জেলা সিভিল সার্জন ডা. সেলিম মিঞা বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন। এ নিয়ে জেলায় আক্রান্তের সংখ্যা বেড়ে দাঁড়াল ১৯ জন।

জয়পুরহাট সিভিল সার্জন ডা. সেলিম মিঞা জানান, সোমবার রাতেই ১১ জনকে আক্কেলপুর উপজেলার গোপীনাথপুর ইনস্টিটিউট হেলথ টেকনোলজির আইসোলেশনে (সেফ অতিথিশালা) রাখা হয়েছে। তাদের পরিবারের নমুনা সংগ্রহ করে তাদেরকে হোম কোয়ারেন্টাইনে রাখা হয়েছে। কালাই উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের নৈশপ্রহরীর পজিটিভ রিপোর্ট আসায় হাসপাতালটি লকডাউন করা হয়েছে।

সুনামগঞ্জে একটি উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স : সুনামগঞ্জের বিশ্বম্ভরপুর উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স হাসপাতালের গাড়িচালক, স্যানিটারি ইন্সপেক্টর ও একজন মাঠকর্মী করোনা আক্রান্ত হওয়ায় গতকাল মঙ্গলবার উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স লকডাউন ঘোষণা করা হয়েছে। এছাড়া আক্রান্তদের মধ্যে ইসলামী ব্যাংক সুনামগঞ্জ শহর শাখার এক কর্মকর্তা থাকায় ব্যাংক কার্যক্রমও বন্ধ রাখা হয়েছে।

জেলা স্বাস্থ্য বিভাগ সূত্রে জানা গেছে, নতুন করে শনাক্ত হওয়া ১১ জনের মধ্যে চারজন বিশ্বম্ভরপুর, তিনজন দোয়ারাবাজার, দুজন দক্ষিণ সুনামগঞ্জ এবং সদর ও দক্ষিণ সুনামগঞ্জ উপজেলায় একজন করে। বিশ্বম্ভরপুর উপজেলায় শনাক্ত হওয়া চারজনের মধ্যে তিনজন উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের কর্মী। অপর ব্যক্তি (১৮) গাজীপুরে শ্রমিকের কাজ করতেন। সম্প্রতি বাড়িতে এসেছেন।

আলমডাঙ্গা উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স লকডাউন : চুয়াডাঙ্গায় আলমডাঙ্গা উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স লকডাউন ঘোষণা করা হযেছে। চুয়াডাঙ্গা সিভিল সার্জন ডা. এএসএম মারুফ হাসান জানান, আলমডাঙ্গা উপজেলাতে আক্রান্ত ১৯ জনের মধ্যে ১৭ জনই উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের চিকিৎসক, ল্যাব টেকনিশিয়ান, ইপিআই সুপারভাইজার ও ড্রাইভার।

চুয়াডাঙ্গা স্বাস্থ্য বিভাগ সূত্রে জানা গেছে, গত দুই দিনে জেলার চারটি উপজেলাতে মোট ৯৫ ব্যক্তির শরীর থেকে নমুনা সংগ্রহ করা হয়। সেগুলো কুষ্টিয়া মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে পরীক্ষার জন্য পাঠানো হয়। সেখানে পরীক্ষার পরই চুয়াডাঙ্গার ২৭ জনের করোনা পজিটিভ ধরা পড়ে। সোমবার রাতে কুষ্টিয়া থেকে রিপোর্টটি চুয়াডাঙ্গা স্বাস্থ্য বিভাগের কাছে এলেও মঙ্গলবার দুপুরে তা গণমাধ্যমকর্মীদের কাছে নিশ্চিত করেন সিভিল সার্জন।