চট্টগ্রামে তোয়াক্কা নেই লকডাউনে

নগরীর দামপাড়া এলাকায় গত ৩ এপ্রিল ৬৭ বছর বয়সী এক বৃদ্ধ কভিড-১৯ আক্রান্ত হন। সেই থেকে করোনা শনাক্ত শুরু চট্টগ্রামে, যা প্রতিদিন বাড়ছে। গতকাল বুধবার পর্যন্ত সরকারের রোগ তত্ত্ব, রোগ নিয়ন্ত্রণ ও গবেষণা ইনস্টিটিউটের (আইইডিসিআর) তথ্যমতে, এ জেলায় করোনা শনাক্ত হয়েছে ৭০ জন। সিভিল সার্জন ডা. ফজলে রাব্বী জানিয়েছেন, মোট শনাক্তের মধ্যে এরই মধ্যে ছয়জন মারা গেছেন। কিন্তু করোনাভাইরাস সংক্রমণ প্রতিরোধে ‘লকডাউন’ কিংবা ‘স্টে হোম’-এর কোনো নির্দেশনাই এখন মানা হচ্ছে না। ফলে এতদিন মোটামুটি নিয়ন্ত্রণে থাকলেও সামনের দিনগুলোতে পরিস্থিতির আরও অবনতি হবে বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে।

বর্তমান পরিস্থিতিতে করোনা প্রতিরোধের বিষয়টি মানুষের সচেতনতার ওপর বেশি নির্ভরশীল বলে মনে করেন চট্টগ্রামের জেলা প্রশাসক মো. ইলিয়াস হোসেন। তিনি দেশ রূপান্তরকে বলেন, করোনা মোকাবিলার জন্য ‘সামাজিক দূরত্বের বিষয়টিকে এ পর্যন্ত আমরা সবচেয়ে বেশি গুরুত্ব দিয়েছি। মূলত এই সামাজিক দূরত্ব রক্ষার জন্যই বিনা প্রয়োজনে যাতে লোকজন ঘর থেকে বের না হয় সেই চেষ্টাই আমরা করে এসেছি। সাধারণ মানুষ মোটামুটি বুঝে গেছে সামাজিক দূরত্বের গুরুত্ব। এখন তারা যদি নিজেদের রক্ষায় নিজেদের অবস্থান নিরাপদ না রাখে, তাহলে আমরা কেউ ঝুঁকিমুক্ত থাকব না। তিনি বলেন, অবকাঠামোগত কারণে বাজারগুলোতে সামাজিক দূরত্ব বজায় রাখা কঠিন। তারপরও আমরা এ ব্যাপারে লোকজনকে সচেতন করার চেষ্টা করে যাচ্ছি।

করোনা মোকাবিলায় ‘ঘরে থাকা’ বিষয়টির কোনো নির্দেশনা আছে বলে গতকাল নগরীর বিভিন্ন স্থান ঘুরে মনে হয়নি। দেখা গেছে, রাস্তায়, ফুটপাতে, অলিগলিতে শত শত মানুষ হাঁটছে, আড্ডা দিচ্ছে। সামাজিক দূরত্ব বজায় রাখার ব্যাপারটিকে খুব কম মানুষই পাত্তা দিচ্ছে বলে মনে হয়েছে। নগরী ও জেলার যেসব এলাকায় কভিড-১৯ রোগীর কারণে ‘লকডাউন’ দেওয়া হয়েছে সেখানেও অবাধে চলাফেরা করছে মানুষ। সাধারণ ছুটি ঘোষণার পাশাপাশি লোকজনের ঘরে অবস্থান নিশ্চিত করতে সেনাবাহিনীকে মাঠে নামানোর পর কিছুদিন নগরীর রাস্তাঘাট ফাঁকা থাকলেও এখন রাস্তায় নামলে মনে হয় সবকিছুই স্বাভাবিক।

গতকাল দুপুর আড়াইটায় নগরীর কাজীর দেউড়ি মোড়ে দেখা যায়, বাস, টেম্পো কিংবা হিউম্যান হলার না থাকলেও রিকশায় যাত্রীর অভাব নেই। প্রাইভেট কার আর মোটরসাইকেল চলছে প্রচুর। করোনা সংক্রমণ ঠেকাতে চট্টগ্রাম নগরী থেকে লোকজনের বাইরে যাওয়া এবং বাইরের লোকজনের শহরে প্রবেশের ওপর নিষেধাজ্ঞা জারি করা হয়েছিল। কভিড-১৯ রোগী শনাক্তের পর লকডাউন করা হয়েছিল নগরীর সাগরিকা, ফিরিঙ্গিবাজার, লালখানবাজার, খুলশী, দামপাড়া পুলিশের ট্রাফিক ব্যারাক, জেলার সাতকানিয়া, লোহাগাড়া, আনোয়ারা, বাঁশখালী, রাউজান, ফটিকছড়িসহ বিভিন্ন এলাকা। কিন্তু এসব এলাকার মানুষ এখন লকডাউনের তোয়াক্কা করছে না। সব জায়গায় চলছে অবাধ চলাফেরা। আইন-শৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সদস্যরা প্রথম দিকে কিছুটা কড়াকড়ি আরোপ করলেও আস্তে আস্তে তাও শিথিল হয়ে পড়েছে।

এ অবস্থায় করোনাভাইরাস সংক্রমণের ঝুঁকি বাড়ছে বলে মন্তব্য করেছেন চট্টগ্রামের সিভিল সার্জন ডা. ফজলে রাব্বী। দেশ রূপান্তরের সঙ্গে আলাপকালে তিনি বলেন, করোনা থেকে রক্ষায় সামাজিক দূরত্ব বজায় রাখার কোনো বিকল্প নেই। শুরু থেকে আমরা এই কথাটি বারবার বলে আসছি। তিনি বলেন, প্রতিদিন ফৌজদারহাটের বাংলাদেশ ইনস্টিটিউট অব ট্রপিক্যাল অ্যান্ড ইনফেকশাস ডিজিজেসে (বিআইটিআইডি) নমুনা পরীক্ষার যে ফল আমরা পাচ্ছি তাতে ক্রমশ করোনা সংক্রমিত রোগীর সংখ্যা বাড়ছে।