কিশোরগঞ্জের থানায় মামলা না নেওয়ার অভিযোগ

করোনায় আদালত বন্ধ থাকায় সুযোগ নিচ্ছে পুলিশ

করোনাভাইরাসের কারণে আদালত বন্ধ। এ অবস্থায় কিশোরগঞ্জের ১৩টি থানার মধ্যে কয়েকটি থানায় মামলা না নেওয়ার সুনির্দিষ্ট অভিযোগ পাওয়া গেছে। এমনকি পুলিশের বিরুদ্ধে অভিযোগ পাওয়া গেছে করোনাকে পুঁজি করে টাকা খেয়ে উল্টো মামলা নিয়ে ভুক্তভোগীকে বাড়িছাড়া করার। জেলার সদর থানা, হোসেনপুর, বাজিতপুর এবং কুলিয়ারচর থানার কয়েকজন বিচারপ্রার্থী করেছেন এমন অভিযোগ। তবে পুলিশ টাকা নেওয়ার বিষয়টি অস্বীকার করেছে।

জেলার হোসেনপুর উপজেলার পাইছমা গ্রামের এমনই এক ভুক্তভোগী মো. সাইফুদ্দিন (৬০)। তিনি অভিযোগ করে বলেন, একই এলাকার মোছলেহ উদ্দিনের ছেলে প্রভাবশালী দিদার মিয়ার সঙ্গে আমার জমিজমা নিয়ে দীর্ঘদিন ধরে বিরোধ ও মামলা চলছে। আদালত বন্ধ থাকার সুযোগকে কাজে লাগিয়ে থানার লোকজনের সঙ্গে সে (মোছলেহ) আঁতাত করে গত শুক্রবার দুপুরে পুকুর দখল এবং তার দলবল নিয়ে আমার বাড়িঘরে হামলা চালিয়ে মারধর করে। এ সময় আমার বাড়ির সামনের পুকুর থেকে লাখ টাকার মাছ তারা লুট করে নিয়ে যায়। পরদিন থানায় মামলা করতে গেলে আমাকে কোনো পাত্তাই দেন না ওসি। আজও (গতকাল বুধবার) কোনো পদক্ষেপ নেয়নি থানার পুলিশ। হামলাকারীরা এখনো আমাদের হত্যার হুমকি দিয়ে আসছে। কোর্ট বন্ধ থাকায় ওখানেও মামলা করতে পারছি না। আমি এখন কোথায় গিয়ে বিচার পাই!

অন্যদিকে কিশোরগঞ্জ সদর উপজেলার কালটিয়া গ্রামের আরেক ভুক্তভোগী ষাটোর্ধ্ব অসহায় আয়েশা খাতুন অভিযোগ করে বলেন, আমার পাশের বাড়ির প্রভাবশালী সিরাজুল ইসলামের সঙ্গে বাড়ির সীমানা ও রাস্তা নিয়ে বিরোধ ও মামলা চলে আসছিল। গত ৬ এপ্রিল সকালে সিরাজুল ইসলামের নেতৃত্বে তার ছেলে রাসেল মিয়া, শাহিন, রাজিব, ইমনসহ ১০-১৫ জন আমার বাড়িতে হামলা চালায়। তারা আমার ঘরে আগুনও দেয়। ওইদিন বিকেলে ছেলেমেয়ে, নাতি-নাতিন জামাইসহ লিখিত অভিযোগ নিয়ে থানায় জমা দিতে গেলে থানার ভেতরেই তাদের পুলিশ আটক করে। পরে সকালে আটক ১০ জনকে আসামি করে মামলা দিয়ে কারাগারে পাঠিয়ে দেয় পুলিশ।

আয়েশা বলেন, ঘটনাস্থলে না গিয়েই পুলিশ প্রতিপক্ষের কাছ থেকে মোটা অঙ্কের টাকা নিয়ে এমন করেছে। পরদিন বিকেলে প্রতিপক্ষ আবার আমাদের বাড়িতে এসে মারধর করে যায়। চাহিদানুযায়ী টাকা দিতে পারিনি বলে আমাদের মামলা এখনো নেয়নি পুলিশ। করোনাভাইরাসের কারণে আদালত বন্ধ থাকায় একেবারে অসহায় হয়ে গেলাম। এ ব্যাপারে হোসেনপুর থানার ওসি শেখ মোস্তাফিজুর রহমান অভিযোগ অস্বীকার করেন। কিশোরগঞ্জ মডেল থানার ওসি আবু বাক্কার সিদ্দিকও টাকা লেনদেনের বিষয়টি অস্বীকার করেন।

জানতে চাইলে কিশোরগঞ্জ জেলা পুলিশ সুপার মাশরুকুর রহমান খান বলেন, বিষয়গুলো খতিয়ে দেখছি। পুলিশ অহেতুক কাউকে মিথ্যা মামলায় হয়রানি করার প্রমাণ পেলে তাদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়া হবে।